Posts

Showing posts from September, 2022

দূরদর্শনে ধারাবাহিক ছবির প্রতি মানুষের অত্যধিক আগ্রহ নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো

দূরদর্শনে ধারাবাহিক ছবির প্রতি মানুষের অত্যধিক আগ্রহ নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো। শিরোনাম : দূরদর্শনে ধারাবাহিক এবং আজকের মানুষ। আজকের মানুষের হরেক রকম বিনোদনের একটি হ'ল টিভি ধারাবাহিক দেখা। প্রায় সব পরিবারেই এখন টিভি আছে এবং পরিবারের অনেকেরই সময় কাটে টিভিতে সিরিয়াল দেখে। বিভিন্ন চ্যানেলে বহু সিরিয়াল এখন দেখানো হয়। যেটা যার ভালো লাগে, সে সেটা দেখে। তবে স্টার জলসা আর জি বাংলা চ্যানেলে আকর্ষণীয় কিছু সিরিয়াল দেখানো হয়। অনেকেই সিরিয়াল দেখতে দেখতে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং দরকারী কাজ ফেলে রেখেও সিরিয়াল দেখতে বসে। বাড়িতে অতিথি আসলেও সিরিয়াল দেখা থেকে চোখ ফিরিয়ে অতিথির প্রতি মনোযোগী হতে পারে না। সিরিয়াল দেখে কেউ আনন্দ পেলে দোষের কিছু নেই। কিন্তু কেউ যদি নেশাগ্রস্ত হয়, কাজের, পড়াশোনার ক্ষতি করে সিরিয়াল দেখে সময় কাটায়, সেটা কখনো ভালো হতে পারে না। এতে অনেক ছাত্র-ছাত্রীর ক্ষতি হয়। তাছাড়া, যে সব বিষয় ধারাবাহিকগুলিতে দেখানো হয়, তাতে মানুষ ভালোর থেকে মন্দ বিষয়গুলির প্রতিও অকৃষ্ট হয়ে পড়তে পারে। পরকীয়া প্রেম, ষড়যন্ত্র, মানুষের সর্বনাশ সাধনের প্রকৃতি, অপরাধ মূলক কর্মকা...

বন্যা দুর্গতদের করুণ অবস্থা নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো

বন্যা দুর্গতদের করুণ অবস্থা নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো । শিরোনাম : বন্যার্তদের জীবন সংকট। ক'দিনের একটানা বৃষ্টিতে নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। অনেক মাটির বাড়ি ধ্বসে গিয়েছে, বেড়ার বাড়ি ভেসে গিয়েছে। কয়েকটি শিশু ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধা জলে ডুবে ও ঘর চাপা পড়ে মারা গিয়েছেন। বাকিরা, বাঁধের উপরে ও রেল-লাইনের উপরে আশ্রয় নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে।  সরকার বা কোন সংস্থার পক্ষ থেকে যথাসময়ে ত্রাণের ব্যবস্থা করা যায় নি। তাই খোলা আকাশের নীচে, না খেয়ে, এমন কি জলপান না করে তাদের রাত্রি কেটেছে। পরের দিন সরকারি উদ্যোগে দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা হ'লেও সকলের কাছে তা পৌঁছায় নি। অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও হয় নি। কী যন্ত্রণার মধ্যে যে বন্যার্তদের জীবন কাটছে তা ভাবা যায় না। শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের পাশে দাঁড়ান ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন, এই প্রার্থনা করি।

যনজট সমস্যা নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো

যনজট সমস্যা নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো। যনজট সমস্যার অনুচ্ছেদ রচনা। শিরোনাম : যানজট এখন যাত্রীদের নিত্যদিনের সমস্যা। মানুষ পথে বের হলে এখন যে যে সমস্যার সম্মুখীন হয়, তার একটি হ'ল যানজট সমস্যা। নানা কারণে এই সমস্যা ঘটতে পারে। পথের মধ্যে কোনো গাড়ি খারাপ হ'লে যানবাহন দাঁড়িয়ে যায়। রাস্তা আটকে যায়। কোনো দুর্ঘটনা হ'লেও ঘটনাস্থানের দুদিকে গাড়ি দাঁড়িয়ে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি করতে পারে। আরো ক্ষুদ্র-বৃহৎ নানা কারণেই যানজট হ'তে পারে। যেভাবেই হোক, তাতে ভোগান্তি বাড়ে সাধারণ যাত্রীদের। কত মানুষের কত রকম ব্যস্ততা থাকে, প্রয়োজনের তাগিদে কত মানুষকে ছুটতে হয়। কিন্তু যানজনে আটকে গিয়ে নিশ্চল থেমে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে মরণাপন্ন রোগীকেও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর অপেক্ষা করতে হয়। কত মানুষের গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে যায়। অথচ, মানুষ যদি ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলে, স্বার্থপরের মতো চলা ফেরা না করে তা হলে এই যানজটের সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

বেকারত্ব নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো

বেকারত্ব নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো। শিরোনাম : বেকারত্বের জ্বালা বর্তমানে অনেক যুবক-যুবতীকেই বেকার জীবনের জ্বালা-যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। দরিদ্র মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করে, বাবা-মায়ের অনেক অর্থ ব্যয় করিয়ে লেখাপড়া শিখে, বিএ, এম.এ ডিগ্রি অর্জন করে বেকার জীবন যাপন করতে হচ্ছে। চাকরীর পরীক্ষা হয়তো দেয় অনেকেই কিন্তু চাকরীর সম্ভবনা নেই। নেওয়া হবে সেখানে কয়েক হাজার, সেখানে পরীক্ষায় বসে কয়েক লক্ষ। লক্ষ লক্ষ প্রার্থীর মধ্যে থেকে কয়েক শো ছেলে-মেয়ে বেছে নেওয়া সহজ নয়। তাই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের হতাশায় ভুগতেই হয়। কতদিন আর তারা বাপের হোটেলে খাবে ? অভিভাবকের অর্থে জীবন কাটাবে? কবে তবে মা-বাবার প্রতি কর্তব্য পালন করবে? এ যন্ত্রণা কার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায় না বলেই দেশজুড়ে বেকারদের হা-হুতাশ আজ দেশের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো

বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো। বাল্যবিবাহের কুফল। শিরোনাম : বাল্যবিবাহের কুফল “অষ্টমবর্ষীয়া কন্যা দান করিলে পিতামাতার গৌরীদানজনিত পুণ্যোনয় হয়, নবমবর্ষীয়াকে দান করিলে পৃথ্বীদানের ফল হয়; দশম বর্ষীয়া পাত্রসাৎ করিলে পরত্রপবিত্র লোকপ্ৰাপ্তি হয়, ইত্যাদি স্মৃতিশাস্ত্র প্রতিপাদিত কল্পিত ফলমৃগতৃয়ায় মুগ্ধ হইয়া পরিণাম-বিবেচনা-শূন্য চিত্তে অস্মদ্দেশীয় মানুষমাত্রেই বাল্য কালে পাণি পীড়নের প্রথা প্রচলিত করিয়াছেন। এ পর্যন্ত যে কত দারুণ অনর্থ সঙ্ঘটন হইতেছে, তাহা কাহার না অনুভব গোচর আছে? শাস্ত্রকারেরা এই বাল্যবিবাহ সংস্থাপনা নির্মিত এবং তারুণ্যাবস্থায় বিবাহ নিষেধার্থ স্ব-স্ববুদ্ধি কৌশলে এমত কঠিনতর অধর্মভাগিতার বিভীষিকা দর্শাইয়াছেন, যদ্যপি কোন কন্যা কন্যাদশাতেই পিতৃগৃহে স্ত্রীধর্মিনী হয়, তবে সেই কন্যা পিতৃমাতৃ উভয় কুলের কলঙ্কস্বরূপা হইয়া সপ্ত পুরুষ পর্যন্ত নিরম্নগামী করে এবং তাহার পিতামাতা যাবজ্জীবন অশৌচগ্রস্ত হইয়া সমস্ত লোক সমাজে অশ্রদ্বেয় ও অপাক্তেয় হয়। এইরূপে লোকাচার ও শাস্ত্রব্যবহার পাশে বদ্ধ হইয়া দুর্ভাগ্যবশত, আমরা চিরকাল বল্যবিবাহ নিবন্ধন অশেষ দেশ ও দুরপনেয় দুর্...

দেশীয় সংস্কৃতির মহিমার পক্ষে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো

দেশীয় সংস্কৃতির মহিমার পক্ষে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো। দেশীয় সংস্কৃতির মহিমা অনুচ্ছেদ রচনা। শিরোনাম : স্ব-সংস্কৃতির মহিমা পূর্বে এমন দিন ছিল যখন ইংরেজি পাঠশালা হইতে আমাদের একেবারে ছুটি ছিল না। বাড়ি আসিতাম, সেখানেও পাঠশালা পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিয়া আসিত। বন্ধুকেও সম্ভাষণ করিতাম ইংরেজিতে, পিতাকে পত্র লিখিতাম ইংরেজিতে, প্রাণের কথা বলিতাম ইংরেজি কাব্যে, দেশের লোককে সভায় আহ্বান করিতাম ইংরেজি বক্তৃতায়। আজ যখন সেই পাঠশালা হইতে। একেবারে না হউক, ক্ষণে ক্ষণে ছুটি পাইয়া থাকি, তখন সেই ছুটির সময়টাতে আনন্দ করিব কোথায়, মাতার অন্তঃপুরে নহে কি? দিনের পড়াতো শেষ হইল, তারপর ক্রিকেট খেলাতেও না হয় রণজিৎ হইয়া উঠিলাম।  তারপরে গৃহবাতায়ণ হইতে মাতার স্বহস্তজ্বালিত সন্ধ্যাদীপটি কি চোখে পড়িবে না? যদি পড়ে, তবে কি অবজ্ঞা করিয়া বলিব, 'ওটা মাটির প্রদীপ।' এই মাটির প্রদীপের পশ্চাতে কি মাতার গৌরব নাই? যদি মাটির প্রদীপ হয় তো সে দোষ কার? মাতার কক্ষে সোনার প্রদীপ গড়িয়া দিতে কে বাধা দিয়াছে? যেমনই হউক না কেন, মাটিই হউক আর সোনাই হউক, যখন আনন্দের দিন আসিবে তখন ওইখানেই আমাদের উৎসব, আর যখন দুঃখের দিন ঘনাইয়া আ...

আমার দেখা একটি বইমেলা অনুচ্ছেদ রচনা করো

তোমার এলাকায় অনুষ্ঠিত বইমেলা নিয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো। আমার দেখা একটি বইমেলা অনুচ্ছেদ। শিরোনাম : আমার দেখা বইমেলা ক'দিন আগেই অনুষ্ঠিত হ'ল আমাদের শহরে - গ্রামীণ বইমেলা । প্রায় একশোর উপর বইয়ের স্টল ছিল। রবিবার থেকে পরের রবিবার পর্যন্ত আটদিনের মেলায় যথেষ্ট ভিড় হয়েছিল। প্রচুর বই কেনা-বেচাও হয়। আমি দু'দিন মেলায় ঘুরেছি। কয়েকশো টাকার বইও কিনেছি। বইগুলো পূর্ব পছন্দের নয়। মেলায় নাড়াচাড়া করতে করতে ভালো লেগে গেল তাই কিনলাম। বাড়ি এসে পড়ে বুঝলাম, ঠকিনি। আমার মতো অনেকেই বই নাড়তে চাড়তে গিয়েই কিনেছে এবং পরে প'ড়ে আনন্দ পাবে, উপকৃত হবে। আধুনিক টেকনোলজির যুগে স্মার্টফোন হাতে পেয়ে অনেকেই বইয়ের প্রয়োজনীয়তা ভুলে যাচ্ছে। কিন্তু বই হ'ল সম্পদ। এর সান্নিধ্য থেকে মানুষ সরে এলে জ্ঞানবিকাশের পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়বে। তাই মানুষের বইপ্রীতি বজায় রাখা দরকার; আর সেজন্য বই মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে হবে। আর এই কাজটা করতেই গ্রামীণ বইমেলা খুবই আবশ্যক। Tags-বই মেলা অনুচ্ছেদ রচনা class 7 class 3  

সাহিত্যের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো

সাহিত্যের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো শিরোনাম : সাহিত্যের চরিত্র বৈশিষ্ট্য জীবন্ত মানুষের চরিত্রে যত জটিলতা আর অসংগতি দেখা যায় গল্পবর্ণিত চরিত্রে ততটা দেখালে চলে না। নিপুণ রচয়িতা যখন বিরুদ্ধ গুণাবলীর সমাবেশ করেন তখন তাকে সাবধান হতে হয় যেন পাঠকের কাছে তা নিতান্ত অসম্ভব না ঠেকে। বাস্তব মানব চরিত্র যত বিপরীত ধর্মী, কল্পিত মানব চরিত্র ততটা হতে পারে না, বেশি টানাটানি করলে রসভঙ্গ হয়; কারণ, পাঠক সাধারণের প্রত্যয়ের একটা সীমা আছে। প্রাচীন কথাকারগণ এ বিষয়ে অবহিত ছিলেন। তাতে সন্দেহ নেই। মহাকাব্যের লেখকেরা বরং অতিরিক্ত সরলতার দিকে গেছেন, তাঁদের অধিকাংশ নায়ক-নায়িকা ছাঁচে ঢালা পালিশ করা প্রাণী, তাদের চরিত্রে কোথাও খোচ বা আঁচড় নেই। রঘুবংশের দিলীপ রঘু অজ প্রভৃতি একই আদর্শে কল্পিত। মহাভারত অতি প্রাচীন গ্রন্থ, কিন্তু, এতে বহু চরিত্রের যে বৈচিত্র্য দেখা যায় পরবর্তী ভারতীয় সাহিত্যে অতি দুর্লভ।

মোবাইল ফোনের ভালো মন্দ ব্যবহার নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো

স্মার্ট ফোনের ব্যবহার বাহুল্য নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো।মোবাইল ফোন রচনা।মোবাইল ফোনের ভালো মন্দ রচনা। শিরোনাম : স্মার্টফোনের ভালো-মন্দ আধুনিক টেকনোলজির যুগে সব থেকে জনপ্রিয় এবং আদরণীয় বস্তুটির নাম স্মার্ট ফোন বা মোবাইল ফোন। একটা ছোট্ট স্মার্টফোন(মোবাইল ফোন) হাতে থাকলে কত কিছুই যেন হাতের নাগালে থাকে। ঘড়ি, ক্যামেরা, ক্যালকুলেটার, রেডিও, টিভি, সংবাদপত্র, বইপত্র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট—আরো কত কি! এতে মানুষের অনেক উপকার যে হয়, তা বলাই বাহুল্য। তবে এতে এমন কিছুও আছে, যার সাহায্য নিয়ে যুবক-যুবতীরা ভুল পথেও চালিত হয়। কেউ কেউ ফেসবুকে, হোয়াটস্ অ্যাপে ব্লু-টুতে নেশগ্রস্থ হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়। অন্য কাজে মন দিতে পারে না। পড়াশোনায় মন দেয় না, অন্য কোনো কাজে উৎসাহ বোধ করে না, পথে চলতে চলতে ফেসবুকে ছবি দেখে, তাতে দুর্ঘটনা ঘটে। কত ছেলে মেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে মৃত্যুবরণ করেছে। তাছাড়া বুকের কাছে, মস্তিষ্কের কাছে স্মার্টফোন চালু অবস্থায় বেশীক্ষণ রাখা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয়। তবু অনেক ছেলে-মেয়েই ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল চালু অবস্থায় কানে নিয়ে কথা বলে। এদের শরীরের তো ক্ষতি হয়। কাজেই...

অশিক্ষিত অসহায় মানুষকে সাহায্য করা নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ

অশিক্ষিত অসহায় মানুষকে সাহায্য করা নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ। শিরোনাম : অশিক্ষিতদের উপকারের উপায় শিক্ষিত লোকের মনে অশিক্ষিত জনসাধারণের প্রতি একটা অস্থিমজ্জাগত অবজ্ঞা আছে। যথার্থ প্রীতি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে নিম্নশ্রেণীর গ্রাম-কর্মীদের সংসর্গ করা তাদের পক্ষে কঠিন। আমরা ভদ্রলোক, সেই ভদ্রলোকের সমস্ত দাবী আমরা নীচের লোকেদের কাছ থেকে আদায় করব, এ কথা আমরা ভুলতে পারি নে। আমরা তাদের হিত করতে এসেছি, এটা তারা পরম সৌভাগ্য জ্ঞান করে। এক মুহূর্তে আমাদের পদানত হবে, আমরা যা বলব তাই মাথায় করে নেবে, এ আমরা প্রত্যাশা করি। কিন্তু ঘটে উল্টো। গ্রামের চাষীরা ভদ্রলোকদের বিশ্বাস করে না। তারা তাদের আবির্ভাবকে উৎপাত এবং তাদের মতলবকে মন্দ বলে গোড়াতেই ধরে নেয়। দোষ দেওয়া যায় না, কারণ, যারা উপরে থাকে তারা অকারণে উপকার করবার জন্য নীচে নেমে আসে এমন ঘটনা তারা সর্বদা দেখে না উল্টোটাই দেখতে পায়। তাই যাদের বুদ্ধি কম তারা বুদ্ধিমানকে ভয় করে । গোড়াকার এই অবিশ্বাসকে এই বাধাকে নম্রভাবে স্বীকার করে নিয়ে যারা কাজ করতে পারে তারাই একাজের যোগ্য।

অবশিল্পায়ন তত্ত্ব কি অলীক কল্পনা মাত্র ছিল

অবশিল্পায়ন তত্ত্ব কি অলীক কল্পনা মাত্র ছিল।অবশিল্পায়ন কি একটি অলীক ভাবনা ব্যাখ্যা করো। ভূমিকা : অবশিল্পায়ন বা De-industrialisation এর আভিধানিক অর্থ হল শিল্পায়নের বিপরীত প্রতিক্রিয়া অথবা প্রচলিত শিল্পের ধ্বংসশোধন। আধুনিক অর্থনীতি বিদদের মতে, কোন স্থানে প্রচলিত শিল্প গুলি যদি বন্ধ হয়ে যায় এবং তার জায়গায় যদি নতুন কোন শিল্প গড়ে না ওঠে তাহলে সেই প্রক্রিয়া বা অবস্থাকে অবশিল্পায়ন বলা চলে। ঐতিহাসিক সব্যসাচী ভট্টাচার্য লিখেছেন"শিল্পায়নের লক্ষণ হল কৃষিকাজ থেকে উৎপন্ন জাতীয় আয়ের অংশের তুলনায় অনুপাতে শিল্পকর্ম থেকে উৎপন্ন অংশ বাড়ে, শিল্পকর্মী নিয়োজিত জনসংখ্যা কৃষি কাজে নিয়োজিত মানুষের অনুপাতে বৃদ্ধি পায়। এর বিপরীত যদি হয় অর্থাৎ যদি দেশের মানুষ শিল্পকর্ম ছেড়ে চাষ আবাদের জীবিকা অর্জন শুরু করে অথবা জাতীয় আয়ের কৃষিজ ও অংশ বাড়তে আর শিল্পয অংশ কমতে থাকে তাকে অবশিল্পায়ন বলা চলে। অবশিল্পায়ন তত্ত্ব কি অলীক কল্পনা মাত্র/অলীক ভাবনা  ছিল। সাধারণভাবে উনবিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় হস্তশিল্পের বিপর্যয়কে ঐতিহাসিকরা অবশিল্পায়ন বা বি শিল্পায়ন, শিল্প বিনাসন, বা শিল্পাই এর রোধ নামে অভ...

ইংল্যান্ডের জেন্ট্রি শ্রেণির সঙ্গে চিনের জেন্ট্রি শ্রেণির পার্থক্য কী

ইংল্যান্ডের জেন্ট্রি শ্রেণির সঙ্গে চিনের জেন্ট্রি শ্রেণির পার্থক্য কী? উত্তর: ইংল্যান্ডের জেন্ট্রি শ্রেণির অন্তর্গত হওয়ার একমাত্র শর্ত ছিল জমির মালিকানা। এই কারণে এখানে বংশানুক্রমিকভাবে জেন্ট্রি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্ভব হতো। অন্যদিকে চিনে জমির মালিকানার সঙ্গে প্রয়োজন ছিল শিক্ষা ও সরকারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত। এই কারণে চিনে বংশানুক্রমিকভাবে জেন্ট্রি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া যেত না।

সিস্টেম পদ্ধতির সুবিধাগুলি উল্লেখ কর

সিস্টেম পদ্ধতির সুবিধাগুলি উল্লেখ কর। সিস্টেম পদ্ধতির সুবিধা: (১)সিস্টেম পদ্ধতি সুপরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশ দেয় এবং কাঠামো প্রস্তুতে সহায়তা করে। ফলে শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের পথ সুগম হয়। (২) সিস্টেম পদ্ধতি পরিবেশ অনুযায়ী উপযুক্ত কর্ম সম্পাদনে সাহায্য করে। (৩) শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় মানুষ, মেশিন ও মাধ্যমের সার্থক সমন্বয় ঘটিয়ে তার কাজকে আরও সহজ ও উন্নততর করে। (৪) সিস্টেম পদ্ধতি মূল্যায়নে নমনীয়তা নীতি প্রয়োগ করে মূল্যায়নকে আরও বাস্তব ও বিজ্ঞানসম্মত করে। (৫) সিস্টেম দৃষ্টিভঙ্গী একটি এমন কাঠামো সরবরাহ করে যার উপর ভিত্তি করে শিক্ষার পরিবর্তনের পরিকল্পনা তৈরি করা যায়। (৬) নির্দিষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার জন্য যে সমস্ত 'সম্পদ বস্তু' উপযুক্ত বা অন্য প্রকারের (অর্থাৎ অনুপযুক্ত) বলে মনে হবে, সেগুলি চিহ্নিত করা বা চেনার কাজে সাহায্য করা। (৭) সম্পদের প্রয়োজনীয়তা, সেগুলির উৎস এবং পরিমাণ, সময় ও অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে সম্পর্কিত সুযোগ-সুবিধাগুলি সম্পর্কে জ্ঞানলাভে সহায়তা করা। (৮) যে লক্ষ্য নির্ধারিত করা হয়েছে তাতে উপনীত হওয়ার জন্য যন্ত্র, মাধ্যম ও ব্যক্তির মধ্যে স...

সিস্টেম দৃষ্টিভঙ্গিতে শিক্ষকের ভূমিকা আলোচনা কর

সিস্টেম দৃষ্টিভঙ্গিতে শিক্ষকের ভূমিকা আলোচনা কর। শিক্ষামূলক সিস্টেম দৃষ্টিভঙ্গিতে শিক্ষকের ভূমিকার পরিবর্তন ঘটেছে । পূর্বে শিক্ষক ছিলেন কেবলমাত্র তথ্য সরবরহকারী। কিন্তু সিস্টেম দৃষ্টিভঙ্গিতে শিক্ষক সাহায্যকারী, সহায়ক ও পথপ্রদর্শক। শিক্ষক সিস্টেম দৃষ্টিভঙ্গিতে ' ম্যানেজার '। তাই শিক্ষক-শিক্ষণ প্রশিক্ষণ শিক্ষামূলক সিস্টেম দৃষ্টিভঙ্গিতে শিখনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার হয়ে পড়েছে। কারণ, এখানে শিখন স্ট্র্যাটেজি ভিন্ন ভিন্ন। ব্যক্তিগত শিখন স্টাইল বা স্ট্র্যাটেজি ঠিক রাখার জন্য সকল রকম শিখন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের কাজ থেকে প্রাপ্ত ফিডব্যাকগুলি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়, কোথায় কীরকম সমস্যা হচ্ছে, কীরকম অভিজ্ঞতা হল-পরবর্তী পর্যায়ে এগুলি কাজে লাগিয়ে কোথায় এবং কীভাবে উন্নয়ন ও সংস্কার করা যাবে তা বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এখানে শিক্ষকের প্রধান উদ্দেশ্য প্রত্যেক শিক্ষার্থী তাঁর নিজস্ব চাহিদা ও ক্ষমতা অনুযায়ী চরম লক্ষ্যে পৌঁছোনো। সুতরাং সিস্টেম দৃষ্টিভঙ্গিতে শিক্ষক- (১) সিস্টেমের Input (ইনপুট)-গুলির খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে অবহিত হবেন এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করে পর...

যোগাযোগের শ্রেণীবিকাশ উল্লেখ কর

যোগাযোগের শ্রেণীবিকাশ উল্লেখ কর। যোগাযোগের বিভিন্ন রকম : যোগাযোগ পদ্ধতিকে চারটি বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা সম্ভব। শ্রেণীবিকাশ: একই ব্যক্তি নিজের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারেন, বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে যোগাযোগ করতে পারেন, আবার দলগত যোগাযোগ, গণসংযোগও হতে পারে। আমরা যখন কোন চিন্তা করি বা ব্যক্তিগত কোন সমস্যার সমাধান করি তখন নিজ সত্তার সঙ্গেই যোগাযোগ করি। এটি হল আন্তর ব্যক্তিগত যোগাযোগ। আবার যখন অন্যের সঙ্গে কথা বলি, আলাপ করি, সাক্ষাৎকার নিয়ে থাকি বা দিয়ে থাকি, তখন অন্তর ব্যক্তিগত যোগাযোগ সংঘটিত হয়। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দলগত যোগাযোগের দৃষ্টান্ত। আবার বৃহত্তর জনসমষ্টির সঙ্গে যোগাযোগ। যেমন-রেডিও, টি.ভি.. সঙ্গীতানুষ্ঠানে একসঙ্গে হাজার হাজার লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। এটিকে গণসংযোগ বলা হয়।

যোগাযোগের কৌশলগুলি কী কী

যোগাযোগের কৌশলগুলি কী কী ? যোগাযোগের কৌশল যোগাযোগ প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন উপায়ে সম্পাদিত হয়। সাধারণত যোগাযোগ নিম্নরূপ হতে পারে। (১) বিধিবদ্ধ যোগাযোগ : এটিকে নিয়মমাফিক যোগাযোগ বলে এবং এটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। শ্রেণীকক্ষে যোগাযোগ এই জাতীয়। এক্ষেত্রে সংযোগটি উপর থেকে নীচের দিকে চলে। কোন কোন ক্ষেত্রে অবশ্য এই সংযোগ নীচ থেকে উপর দিকেও স্থাপিত হতে পারে। (২) অবিধিবদ্ধ যোগাযোগ : এটি নিয়মবহির্ভূত যোগাযোগ। কোন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে যখন সুযোগ সুবিধামত কোন তথ্য বা সংবাদ পরিবেশন করা হয় এবং তাদের মতামত গ্রহণ করা হয় তখন যোগাযোগের কোন সুনির্দিষ্ট নীতি মেনে চলা হয় না ৷ তবে এই জাতীয় যোগাযোগে অনেক সময় কোন মিথ্যা কথা, মিথ্যা ধারণা বা গুজবের সৃষ্টি হয়ে থাকে। (৩) মৌখিক যোগাযোগ : যখন কোন তথ্য বা সংবাদ মৌখিক বা অলিখিতভাবে উপস্থাপন করা হয় তখন তাকে মৌখিক যোগাযোগ বলে। টেলিফোনে কথাবার্তা বলা এর সবচেয়ে ভাল উদাহরণ। (৪) লিখিত যোগাযোগ : যখন কোন তথ্য বা সংবাদ লিখিতভাবে প্রাপকের নিকট উপস্থাপন করা হয় তখন তাকে লিখিত যোগাযোগ বলে। চিঠিপত্র, প্রচার পুস্তিকা, পোস্টার, টেলিগ্রাম, ফ্য...

যোগাযোগ স্থাপনের ধারণা কী

যোগাযোগ স্থাপনের ধারণা কী? যোগাযোগ স্থাপন যে-কোনো শিক্ষণ-শিখন একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। অন্য কথায় বলা যায় যে, শিক্ষণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ছাড়া আর কিছুই নয়। শিক্ষার্থীদের দিক থেকেও একথা সত্য। যে শিক্ষার্থী যতটা কার্যকারীভাবে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে তার শিখনও ততটা হৃদয়ঙ্গম হয়। Communication কথাটি এসেছে গ্রিক শব্দ ' Communi ' থেকে—যার অর্থ হল ‘সাধারণ’। এই অর্থে Communication -এরা হল অন্যের সঙ্গে সাধারণ কিছু অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। Edger Dale- এর মতে, যোগযোগ স্থাপন হল পারস্পরিক অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতিগুলি বিনিময় করা। Dewey -এর মতানুযায়ী যোগযোগ স্থাপন হল পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রক্রিয়া, যতক্ষণ না উভয়ের অভিজ্ঞতা সমান হয়। D.Berlo বলেছেন, যোগাযোগ স্থাপন হল প্রেরক ও গ্রাহকের অভিজ্ঞতার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে উভয়েই একটি সাধারণ ধারণায় উপনীত হয় এবং উভয়েই উপকৃত হয়। উপরোক্ত সংজ্ঞাগুলি বিচারবিশ্লেষণ করে তা শিক্ষণ-শিখনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে যোগাযোগ স্থাপনের সংজ্ঞাটি এইরূপ দাঁড়ায় যোগাযোগ স্থাপন হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার ...

যোগাযোগ প্রক্রিয়ার উপাদানসমূহ আলোচনা কর

যোগাযোগ প্রক্রিয়ার উপাদানসমূহ আলোচনা কর। যোগাযোগ স্থাপন হল একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। এই দ্বিমুখী প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয় কিছু সাধারণ উপাদনের মাধ্যমে। এগুলিকেই আমরা যোগাযোগের উপাদান হিসাবে গণ্য করতে পারি। এগুলি হল যোগাযোগের উৎস বা প্রেরক। যোগাযোগের বিষয়বস্তু বা তথ্য। যোগাযোগের মাধ্যম গ্রাহক ফিডব্যাক যোগাযোগের সহায়তা বা বাধা প্রদানকারী উপাদান। প্রেরক : যোগাযোগ প্রক্রিয়া শুরু হয় প্রেরকের কাছ থেকে। এই উৎস বিভিন্ন রকমের ধারণা, চিন্তাভাবনা, মতামত ইত্যাদি প্রেরণ করে থাকে। শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ায় শিক্ষককেই প্রেরক হিসাবে গণ্য করা হয়। বিষয়বস্তু : প্রেরক যে সমস্ত অভিজ্ঞতা, চিন্তাধারা, মতামত অনুভূতি ইত্যাদি অন্যজনকে প্রেরণ করেন তাই হল বিষয়বস্তু। এই ধরনের বিষয়বস্তু যোগাযোগের উদ্দেশ্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠিত বা অসংগঠিত উভয়ই হতে পারে। শিক্ষণ-শিখন ক্ষেত্রে পাঠক্রম হল বিষয়বস্তু। মাধ্যম: বিষয়বস্তুকে কার্যকরীভাবে সঞ্চালন করার জন্য উপযুক্ত মাধ্যম একান্ত আবশ্যক। মাধ্যম দুই রকমের হতে পারে। যেমন- বাচনিক মাধ্যম ও অ-বাচনিক মাধ্যম। যে-কোনো বিষয়বস্তুকে প্রেরক ভাষার মাধ্যমে বা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে...

যোগাযোগ প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ

যোগাযোগ প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ। ভূমিকা: বিভিন্ন শিক্ষাবিদগণ যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়াটিকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের উক্ত ব্যাখ্যাগুলি পর্যালোচনা করলে যোগাযোগ প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলি লক্ষ্য করা যায়। যোগাযোগ প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য: (ক) যোগাযোগ স্থাপন, একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। অর্থাৎ এখানে প্রেরক ও গ্রাহক উভয়ের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়। (খ) যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একটি মাধ্যম থাকা আবশ্যক। মাধ্যম বাচনিক বা বাচনিক অ-বাচনিক হতে পারে। কথা বলা, ছবি আঁকা বক্তৃতা দেওয়া ইত্যাদি হল মাধ্যম। অন্যদিকে অঙ্গ সঞ্চালন বা অঙ্গ ভঙ্গি হল অ-বাচনিক মাধ্যম। (গ) যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একটি নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি থাকা প্রয়োজন। (ঘ) যোগাযোগ প্রক্রিয়ার দ্বারা উভয়েই পরিতৃপ্তি লাভ করে।

ফরাসি বিপ্লব কি বুর্জোয়া বিপ্লব ছিল

ফরাসি বিপ্লব কি বুর্জোয়া বিপ্লব ছিল। ফরাসী বিপ্লব কি বুর্জোয়া বিপ্লব ? ভূমিকা: ১৭৮৯ সালের ফরাসী বিপ্লবের প্রকৃতি বিশ্লেষণে ঐতিহাসিক বিতর্কের শেষ নেই। অনেক ঐতিহাসিকের বক্তব্য মূলত ফরাসী বিপ্লব ছিল বুর্জোয়া বিপ্লব । লেফেভরের মতে বুর্জোয়াদের অভ্যুত্থানের ইতিহাসে ফরাসী বিপ্লব একটি অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ফরাসি বিপ্লব কি বুর্জোয়া বিপ্লব ছিল। ফরাসী বিপ্লবে বুর্জোয়া শ্রেণী এক বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। কিছুদিন বিপ্লব বুর্জোয়াদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল এবং সে সময়ে ফ্রান্সে যেসব সংস্কার প্রবর্তিত হয়। সেগুলি ছিল বুর্জোয়াদের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। প্রচলিত ব্যবস্থায় ফ্রান্সে অভিজাত ও যাজক সম্প্রদায় যে সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করত তার জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ ছিল বুর্জোয়া শ্রেণী। ফরাসী বিপ্লবের সময়ে মূলধনের লগ্নী কারবারী, সম্পত্তির অধিকারী, আইনজীবি, চিকিৎসক, অধ্যাপক, শিক্ষক, পদস্থ কর্মচারি, কারিগর ও শিল্পপতিদের নিয়ে এই শ্রেণী গঠিত ছিল। এই শ্রেণীর সঙ্গে কৃষক ও শহরের জনতা যুক্ত ছিল। অষ্টাদশ শতকে ফরাসী বাণিজ্যের শ্রীবৃদ্ধি ঘটলে এই বুর্জোয়া শ্রেণীর হাতে প্রচুর অর্থ চলে আসে। অর্থনীতি...

ফ্রান্সে প্রথম বিপ্লব হওয়ার কারণ কি ছিল

ফ্রান্সে প্রথম বিপ্লব হওয়ার কারণ কি ছিল। ফ্রান্সে প্রথম বিপ্লব সংগঠিত হওয়ার কারণ। সূচনা: ইংল্যান্ড ছাড়া ইউরোপের প্রায় সকল দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা একই ধরনের ছিল। তথাপি ফ্রান্সে কেন প্রথম এই বিপ্লব হয়? এর উত্তর নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঐতিহাসিক ফিসার মনে করেন ফরাসী রাজতন্ত্র সমাজের সুবিধাভোগী শ্রেণীর সুযোগসুবিধাগুলিকে লোপ করতে পারেনি বলেই ফরাসী দেশে প্রথম বিপ্লব হয়। তিনি মনে করেন ফরাসী রাজারা যদি সামন্ত প্রথাজনিত সামাজিক বৈষম্যকে দূর করতে পারতেন তাহলে ফ্রান্সে বিপ্লব হত না। এডমন্ড বার্ক মনে করেন ফ্রান্সে প্রথম বিপ্লব হওয়ার কারণ দার্শনিকের প্রভাব। দার্শনিকরা সাধারণ মানুষকে বিপ্লবী করেছিল। ঐতিহাসিক হার্নস মনে করেন বুর্জোয়ারা দার্শনিকদের রচনার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শাসনক্ষমতা হস্তগত করার জন্যই ফ্রান্সে প্রথম বিপ্লব হয়। ফ্রান্সে প্রথম বিপ্লব হওয়ার কারণ কি ছিল। একদল ঐতিহাসিক বিশেষ করে থিয়ার্স, মিশেল মনে করেন স্বৈরাচারী বুর্বো রাজতন্ত্রের জন্যই বিপ্লব হয়। তাদের অত্যাচার ও স্বৈরাচারকে জনগণ মেনে নিতে পারেনি। উকভিলের মতো পণ্ডিত মনে করেন ইউরোপের অন্যান্...

ফরাসী বিপ্লব কি অনিবার্য ছিল

ফরাসী বিপ্লব কি অনিবার্য ছিল? আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও দার্শনিকদের প্রভাবে ফরাসী বিপ্লব হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল ফরাসী বিপ্লব কি অনিবার্য ছিল? ডেভিড টমসনের মতে ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সের দায়িত্বশীল লোকেরা এই বিপ্লবকে কাম্য মনে করেননি। অষ্টাদশ শতক থেকে ফ্রান্সের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে সংকট দেখা দেয়। ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও শিক্ষাবিস্তারের ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণী বা উদীয়মান বুর্জোয়াশ্রেণী ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তারা প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছিল। কারণ প্রচলিত ব্যবস্থায় এই শ্রেণীর কোনরূপ সামাজিক কৌলিন্য ছিল না। সমাজের সমস্ত সুবিধা উচ্চ দুই শ্রেণী অর্থাৎ যাজক ও অভিজাতরা ভোগ করত। স্বাভাবিকভাবে বুর্জোয়াদের পক্ষে তা মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ফরাসী বিপ্লব অনিবার্য হয়ে পড়ে। বেশ কিছু পণ্ডিতের বক্তব্য হল মধ্যবিত্তশ্রেণীর অসন্তোষকে যদি বুর্বো রাজারা সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করত তাহলে বিদ্রোহ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। কৃষক ও শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘব হলে বিপ্লব এড়ানো যেত। ফরাসী রাজারা সামন্ত শ্রেণীর বিশেষ অধিকারকে লোপ করতে পারেনি বলেই বিপ্লব হয়। যদি ফরাসী রাজতন্ত্র অভিজাত শ্রেণীর ...

ইউরোপে প্রোটেস্টান্ট ধর্মসংস্কার আন্দোলনের প্রভাব আলোচনা করো

ইউরোপে প্রোটেস্টান্ট ধর্মসংস্কার আন্দোলনের প্রভাব আলোচনা করো । ভূমিকা: ষোড়শ শতকের প্রথমার্ধে জার্মানিতে মার্টিন লুথার (Martin Luther CE 1483 1517)-এর নেতৃত্বে গির্জার বিবিধ দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রোটেস্টান্ট (Protestant) ধর্মসংস্কার আন্দোলনের সূচনা হয়। এই সংস্কার আন্দোলনের ফলে খ্রিস্টান মতাবলম্বীগণ দুটি পৃথক শিবিরে ভাগ হয়ে যান এবং এই ভাগকে কেন্দ্র করে জার্মানি তথা পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যে ধর্মীয় যুদ্ধ (Religious wars) সংঘটিত হয়। অবশেষে অগসবুর্গের সন্ধি (CE 1555, Treaty of Augsburg) দ্বারা এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে।  ইউরোপে প্রোটেস্টান্ট ধর্মসংস্কার আন্দোলনের প্রভাব। মার্টিন লুথার তাঁর সংস্কার আন্দোলন ফলপ্রসূ করার উদ্দেশ্যে আঞ্চলিক শাসকদের সাহায্য প্রার্থনা করেন এবং জার্মানির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছর রোমে অর্থ প্রেরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। গুটেনবার্গের নবউদ্ভাবিত ছাপাখানার সহায়তায় লুথার অনেকগুলি পুস্তিকা (Pamphlets) রচনা করেন এবং জার্মান জনসমক্ষে গির্জা ও পোপের অনিয়মগুলি উদ্ঘাটন করেন। এই পুস্তিকাগুলি হল : ১। Open Letter to the Christian nobility of the German natio...

সপ্তদশ শতাব্দীতে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির উত্থান ঘটেছিল কেন

সপ্তদশ শতাব্দীতে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির উত্থান ঘটেছিল কেন?  > সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া ও আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বেগবতী হয়। এই ধরনের বাণিজ্যের জন্য প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হত। এর জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পুঁজি কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সরবরাহ করা সম্ভব ছিল না। এইকারণে সপ্তদশ শতাব্দীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির উত্থান ঘটে।

হেগেলের ইতিহাস চিন্তা বিশ্লেষণ করো। তিনি কি রাষ্ট্রনৈতিক ইতিহাসের প্রবক্তা ছিলেন

দার্শনিক প্রেক্ষাপটে হেগেলের ইতিহাস চিন্তা বিশ্লেষণ করো। তিনি কি রাষ্ট্রনৈতিক ইতিহাসের (Statist History) প্রবক্তা ছিলেন ? দার্শনিক প্রেক্ষাপটে হেগেলের ইতিহাস চিন্তা জার্মান রাষ্ট্রভিত্তিক দর্শনের আরেক প্রবক্তা হলেন গেওর্গ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেল (Georg Wilhelm Friedrich Hegel, CE 1770-1801)। হার্ডারের পরে হেগেল ছিলেন। সবচেয়ে প্রভাবশালী রোমান্টিক দার্শনিক ও ইতিহাসবেত্তা। হেগেলের মতাদর্শ অনুযায়ী যেহেতু মানুষ ইতিহাসের স্রষ্টা সেহেতু সমস্ত ইতিহাস মানুষের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন। এই চিন্তাভাবনাগুলি একটি নির্দিষ্ট পথে ধাবিত হয়। ইতিহাসের এই প্রবহমানতা নানা দ্বন্দ্বের (Dialectics) মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হয়ে মানুষের উচ্চতম আধ্যাত্মিক (Spiritual) এবং বস্তুবাদী (Materialist) আকাঙ্খা অর্থাৎ মুক্তি (Freedom)-কে রূপায়িত করতে সহায়ক হয়। মুক্তি অর্থাৎ Freedom সমস্ত মানবজাতির একান্ত কাম্য এবং তা অবশ্যই ব্যক্তিকেন্দ্রিক (individualistic)। সময় (Time) এবং প্রতিভা (Genius) ইতিহাসের যৌথ নির্ধারক (Determinants) কালের চাহিদা (Zeitgeist - জাইট গাইস্ট — Spirit of the Times) পূরণে সক্ষম একমাত্র প্রতিভাধর কোনো ...

অশোকের শিলালিপি থেকে মৌর্য সাম্রাজ্য বিষয়ে আমরা কী জানতে পারি

অশোকের শিলালিপি থেকে মৌর্য সাম্রাজ্য বিষয়ে আমরা কী জানতে পারি? ভূমিকা: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পরবর্তী পর্যায়ে সম্রাট অশোকের নেতৃত্বে মৌর্য সাম্রাজ্য তার শীর্ষে পৌঁছে যায়। প্রথম দিককার চণ্ডাশোক বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবে ধর্মাশোকে পরিণত হন এবং সেইমতো তাঁর সামাজিক দায়িত্ব পালনে ব্রতী হন। অশোকের সাম্রাজ্যের মূল উপাদান হল তাঁর বিভিন্ন শিলালিপি, যা দক্ষিণের অগ্রদেশ থেকে বর্তমান পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত অবধি বিস্তৃত ছিল। পালি, প্রাকৃত, ব্রাহ্মী এবং গ্রিক খরোষ্ঠি ও অ্যারামিক ভাষায় লিখিত এই শিলালিপিগুলি অশোকের সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি, মৌর্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা, বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে সম্রাটের অবস্থান, ধর্মের ব্যাখ্যা ইত্যাদির মৌলিক পরিচায়ক। অশোকের শিলালিপি থেকে মৌর্য সাম্রাজ্য বিষয়ে আমরা কী জানতে পারি। 1837 খ্রিস্টাব্দে জেমস প্রিন্সেপ (James Prinsep) অশোকের শিলালিপির পাঠোদ্ধার করেন এবং তা ভারতের ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক হয়। গুপ্তযুগকে ভারতবর্ষের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ বলার নেপথ্যে যতই ঐতিহাসিক বিতর্ক থাকুক না কেন, এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে,  গুপ্তযুগে ভারতবর্ষের সাহিত্য, শিল্পকলা...

শিক্ষাশ্রয়ী সমাজবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে আলোচনা কর

শিক্ষাশ্রয়ী সমাজবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে আলোচনা কর। শিক্ষাশ্রয়ী সমাজবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু। ভূমিকা: শিক্ষাশ্রয়ী সমাজবিজ্ঞান (Educational Sociology), সমাজবিজ্ঞানের (Sociology) একটি শাখা হলেও, শিক্ষাশ্রয়ী সমাজবিজ্ঞান তার নিজস্ব ক্ষেত্রে আজ সমৃদ্ধ। যে যে বিষয়গুলি শিক্ষাশ্রয়ী সমাজবিজ্ঞানে প্রাধান্য পেয়েছে, যে গুলোকে কেন্দ্র করে তার আপন ক্ষেত্রের ভিত দৃঢ় করেছে, সেগুলো হল — শিক্ষার লক্ষ্য, পাঠক্রম, শিক্ষার পরিচালন, পারস্পরিক মানবিক সম্পর্ক, দলগত মানসিকতা প্রভৃতি। [1] শিক্ষার লক্ষ্য: আদিকাল হতে বর্তমানকাল মাঝের দীর্ঘপথ, ক্রমবিকাশের মধ্য দিয়ে মানবগোষ্ঠী অতিক্রম করে এসেছে। আদিকালের মানুষ কিছু জন্মগত বৈশিষ্ট্য ও সহজসরল দৃষ্টিভঙ্গিকে পাথেয় করে শিক্ষা সম্বন্ধীয় কিছু কিছু ব্যক্তিকেন্দ্রিক ধারণা অর্জন করে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করে। সেই সংরক্ষিত ব্যক্তিকেন্দ্রিক ধারণাগুলো ক্রমশ সমাজের আঙিনায় এসে সামাজিক ভাবধারায় নতুন রূপ নেয়। এই নতুন রূপ ব্যক্তিকেন্দ্রিক ধারণা থেকে বহুলাংশে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে। এই দুই পরস্পর-বিরোধী ধারা থেকে জন্ম নেয় দুটি ভিন্ন মতবাদ (i) ব্যক্তিস্বার্থের বিকাশ সম্ব...

ফরাসি রোমান্টিকতাবাদের ইতিহাস সংক্ষেপ আলোচনা কর

ফরাসি রোমান্টিকতাবাদের ইতিহাস সংক্ষেপ আলোচনা কর ভূমিকা : অগাস্টিন থিয়েরি (Augustine Thierry CE 1795-1856 ) এবং জুলে মিশেলে (Julee Michelet, CE 1798-1874) ফরাসি রোমান্টিকবাদ ইতিহাসবেত্তা হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। ফরাসি রোমান্টিকতাবাদের ইতিহাস : ফরাসি রোমান্টিকবাদ ইতিহাসবেত্তা থিয়েরির গুরুত্বপূর্ণ রচনা হল Norman Conquest of England যেখানে তিনি বিজিত অ্যাংলো-স্যাক্সনদের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন। থিয়েরির রচনাশৈলী অনেকাংশে ওয়াল্টার স্কটের উপন্যাসের দ্বারা প্রভাবিত যেখানে ঐতিহাসিক চরিত্রদের পাঠককুলের সমক্ষে প্রায় জীবন্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ঐতিহাসিক জুলে মিশেলে এগারো খণ্ডে ফ্রান্সের ইতিহাস (History of France) এবং সাত খন্ডে ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাস (History of the French Revolution) রচনা করেন। মিশেলে তাঁর ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে জনগণ (the People)-কে প্রাধান্য দেন। তিনি সন্ত্রাসের রাজত্বের দুই হোতা রোবসপিয়ের এবং মারাত-এর প্রতি ঘৃণা উদ্রেক করেন। ফরাসি রোমান্টিকতাবাদের অন্যতম ইতিহাসবেত্তা মিশেলের ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আকোপূর্ণ, পক্ষপাতদুষ্ট এবং অতি সরলীকৃত। তৎসত্ত্বেও ...

আর্থার লেলউইন ব্যাশাম ও ক্রিস্টিয়ান লাসেন কারা ছিলেন। প্রাচীন ভারতচর্চায় এদের অবদান কী

আর্থার লেলউইন ব্যাশাম ও ক্রিস্টিয়ান লাসেন কারা ছিলেন? প্রাচীন ভারতচর্চায় এদের অবদান কী? আর্থার লেলউইন ব্যাশাম ও ক্রিস্টিয়ান লাসেন কারা ছিলেন ।  ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল দুই বিদেশি লেখক হলেন ক্রিস্টিয়ান লাসেন (Christian Lassen) ও আর্থার লেলউইন ব্যাশাম (Arthur Llelwyn Basham)।  আর্থার লেলউইন ব্যাশ্যাম ছিলেন সংস্কৃতজ্ঞ ও প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের প্রতি পরম শ্রদ্ধাশীল। আর্থার লেলউইন ব্যাশ্যাম সর্বপ্রথম অরাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারতীয় ইতিহাসের পর্যালোচনা করেন।  লাসেন ছিলেন জার্মান লেখক জার্মান ভাষায় রচিত তার গ্রন্থটির নাম হল ' ইন্ডিশে অলটার্সটুম কুণ্ডে। প্রাচীন ভারতচর্চায় আর্থার লেলউইন ব্যাশাম ও ক্রিস্টিয়ান লাসেনের অবদান। রাজনীতির পরিবর্তে আর্থার লেলউইন ব্যাশ্যাম শিল্পকলা, সাহিত্য, স্থাপত্য, ভাষাতত্ত্ব ইত্যাদি নিয়ে চর্চা করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'ওয়ান্ডার দ্যাট ওয়াজ ইন্ডিয়া' (Wonder That Was India) প্রাচীন ভারতের সামগ্রিক চালচিত্র তুলে ধরে। জার্মান ভাষায় রচিত লাসেনের গ্রন্থটির নাম হল ' ইন্ডিশে অলটার্সটুম কুণ্ডে ' (Indische Alterstum Kunde)। ...

ভারতের জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ও বিকাশের কারণ

ভারতের জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ও বিকাশের কারণ । ভূমিকা: ব্রিটিশ ভারতে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও ভারতীয়দের আত্মমর্যাদার লড়াইয়ের সূত্রপাত হয় মূলত ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে। এর সঙ্গে ভারতীয়ত্বের (Indianness) ভাবনা ঔপনিবেশিক কৰ্তৃত্ববাদী ভাষ্য (Colonial Hegemonistic Narrative)-কে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একটি বিকল্প ভাষ্যের (Counter Narrative) সন্ধান করা হয়। এর ফলে স্বদেশি যুগে ভারতীয়দের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন (Economic Empowerment)-এর সঙ্গে রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Independence)-র বিষয়টি সমান গুরুত্ব পায়। ভারতের জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ও বিকাশের কারণ। ইংরেজ শাসনের অর্থনৈতিক শোষণ এবং তার আনুষঙ্গিক নেতিবাচক প্রতিফলনের বিশদ বিশ্লেষণের দ্বারা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ক্ষুরণ ঘটে। এই অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ (Economic Nationalism)-এর মূল প্রবক্তা ছিলেন যথাক্রমে দাদাভাই নওরোজি (Dadabhai Naoroji) , রমেশচন্দ্র দত্ত (Ramesh Chander Dutt / R C Dutt), বিচারপতি মহাদেব গোবিন্দ রাণাডে (Justic Mahadev Govind Ranade) এবং গোপাল কৃষ্ণ গোখলে (Gopal Krishna Gokhale)। দাদাভাই...

দক্ষিণ ভারতের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

দক্ষিণ ভারতের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। ভূমিকা : উত্তর ভারত বা আর্যাবর্তের চিরাচরিত ইতিহাসের থেকে দক্ষিণ ভারতের ইতিহাস কিছুটা হলেও পৃথক। এর প্রধান কারণ হল, বিন্ধ্য পর্বতমালা বেষ্টিত দক্ষিণ ভারতে আর্য সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রভাব ছিল নেহাতই নগণ্য। প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা (Natural Barriers) সম্পন্ন এই অঞ্চলটি দ্রাবিড় জাতিভুক্ত মানবগোষ্ঠীর ছিল প্রধান লীলাক্ষেত্র। তাই ভিন্ন আবহাওয়া ও অবয়বের সান্নিধ্যে একটি স্বতন্ত্র সভ্যতা এবং সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। দক্ষিণ ভারতের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নৃতত্ত্ববিদদের (Anthropologist) মতে দ্রাবিড়রা মূলত সেমিয় (Semitic) গোষ্ঠীর মানুষ ছিলেন এবং তাঁদের সমাজব্যবস্থা ও রীতিনীতি আর্যদের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। উদাহরণস্বরূপ আর্যদের সমাজব্যবস্থা ছিল পিতৃতান্ত্রিক এবং দ্রাবিড়দের সমাজ ছিল মাতৃতান্ত্রিক । আর্যদের চতুর্বর্ণ প্রথা সম্ভবত দ্রাবিড় সমাজে অজানা ছিল। বিশেষ দ্রষ্টব্য বিষয় এই যে, শুধুমাত্র দক্ষিণ ভারত নয়, দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর মানুষ একদা গুজরাট, বালুচিস্তান ও আফগানিস্তানেও বসবাস করতেন। এদের অস্তিত্ব উক্ত অঞ্চলে এখনও কিছু কিছু পাওয়া যায়। কিংবদন্তি অনুযায়ী ঋষি অগস্ত্য ত...

ইউরোপে মধ্যযুগীয় ইতিহাস রচনার প্রেক্ষাপট আলোচনা করো

ইউরোপে মধ্যযুগীয় ইতিহাস রচনার প্রেক্ষাপট আলোচনা করো । ভূমিকা : ইউরোপে মধ্যযুগীয় ইতিহাস রচনার   প্রেক্ষাপট ছিল , যেমন - ইতিহাস চর্চায় খ্রিস্টধর্মের প্রভাব,পোপ গ্রেগরি অফ ট্যুরস্,ক্যারোলিঞ্জিয় রেনেসাঁস,দ্বাদশ শতকের নবজাগরণ,মধ্যযুগে ব্রিটেনে ইতিহাসচর্চা ইত্যাদি। (ক) ইতিহাস চর্চায় খ্রিস্টধর্মের প্রভাব রোম অধিকৃত প্যালেস্তাইনে (Roman occupied Palestine) খ্রিস্টধর্মের আবির্ভাব, রোম সাম্রাজ্যে তার প্রসার এবং প্রচার, খ্রিস্টধর্মীদের ওপর পৌত্তলিক রোমান সম্রাটদের নিপীড়ন এবং সম্রাট কনস্টানটাইনের (Constantine) রাজত্বকালে খ্রিস্টধর্মের স্বীকৃতি পাশ্চাত্য ইতিহাস বীক্ষণের ক্ষেত্রে একটি জলবিভাজিকা । খ্রিস্টধর্মের পারলৌকিক ও দৈবীয় (Divine) দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাবে একদা গ্রিস ও রোমের প্রাচীন ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানবকেন্দ্রিক ইতিহাস ভাবনার কার্যত তিরোধান ঘটে। তার জায়গায় দৈবিক এবং অদৃষ্টবানী ইতিহাস রচনা প্রাধান্য পায়। খ্রিস্টান ঐতিহাসিকদের মধ্যে ইউসেরিয়াস অফ সিজারিয়া (Eusebius of Caesaria), সেন্ট অগাস্টিন অফ হিপো রিজিয়াস (St. Augustine of Hippo Regius) এবং পল ওরোস...

ইতালীয় নবজাগরণের গতিপ্রকৃতি আলোচনা করো

ইতালীয় নবজাগরণের গতিপ্রকৃতি আলোচনা করো। ভূমিকা: চতুর্দশ শতকে ইতালিকে কেন্দ্র করে ইউরোপে যে নবজাগরণের সূত্রপাত হয় তাকে সাধারণত রেনেসাঁস বলা হয়ে থাকে। এটি ইতালীয় ভাষার (Renovatio), রেনাসিত্তা (Renacita) ইত্যাদি শব্দের ফরাসি সংস্করণ। এর ব্যবহার সর্বপ্রথম করেন ঊনবিংশ শতকের প্রখ্যাত ফরাসি ঐতিহাসিক জ্বলে মিশেলে (Jules Michelet)। ইতালির নবজাগরণের প্রাণকেন্দ্র ছিল ফ্লোরেন্স নগরী (Florence) এবং এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বিখ্যাত মেডিচি পরিবার (Medicis)। ইতালীয় নবজাগরণের গতিপ্রকৃতি  কবি এবং সাহিত্যিক পেত্রার্ক (Petrarch, CE 1305-1374, ছিলেন রেনেসাঁসের জনক (Father of Renaissance)। গ্রিক ও আরব পণ্ডিতগণ সর্বপ্রথম ধ্রুপদী লাতিন ও গ্রিক সাহিত্য (Latin and Greek Classics) আবিষ্কার ও অনুবাদ করেন। ফ্লোরেন্স নগরীতে প্রাচীন পুথি আবিষ্কারের উন্মাদনা দেখা দেয় এবং বহু সম্ভ্রান্ত নাগরিক এই কার্যে উৎসাহিত ও উদ্যোগী হন। উদাহরণস্বরূপ পোপের ব্যক্তিগত সচিব পোজিও ব্র্যাকিগুলিনি (Poggio Bracciolini), বণিক নিকোলো নিকোলি (Niccolo Niccoli), লরেঞ্জো ভাল্লা (Lorenzo Valla), ফ্লাভিও বিওল্ডো (Flavio Biondo) প্রমুখের ...

নব্য সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিক বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে। তাদের বক্তব্যের সারমর্ম কী

নব্য-সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিক বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তাদের বক্তব্যের সারমর্ম কী? নব্য-সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিক কাকে বলে। নব্য সাম্রাজ্যবাদী (Necimperialist) ভাবধারায় অনুপ্রাণিত ঐতিহাসিকগণ ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনকে বিদেশি শাসন সংজ্ঞা দিতে নারাজ। এদের মতানুসারে ভারতবাসী চিরকাল বিদেশি শাসকদের দ্বারা শাসিত হয়েছেন এবং সেই সুবাদে ইংরেজ শাসন তারই ধারাবাহিকতা বিশেষ। এদের নব্য-সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিক  বলা হয়। নব্য-সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিক বক্তব্যের সারমর্ম। নব্য-সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিক বক্তব্যের সারমর্ম উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ,   মুঘল আমলে প্রবর্তিত রাজস্ব ব্যবস্থার সঙ্গে ইংরেজ আমলের রাজস্ব ব্যবস্থার কোনো বৈসাদৃশ্য তাঁরা দেখতে পান না। একথা সত্য যে ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসকেরা আকবরের রাজস্ব বিভাগীয় মন্ত্রী রাজা টোডরমলের (Raja Todermal) বন্দোবস্তের (Bandobast) থেকে অনেক উপাদান সংগ্রহ করেছেন, কিন্তু ইংরেজ শাসনকালে লর্ড কর্ণওয়ালিস প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তু (Permanent Settlement) জনিত ব্যক্তিগত সম্পত্তি (Private Property)-র ধারণা ছিল একেবারে অভিনব। বার্টন স্টাইন (Burton Stein Eighteenth ...

মার্কেন্টাইলবাদের চারটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর

মার্কেন্টাইলবাদের চারটি বৈশিষ্ট্য। মার্কেন্টাইলিজম চারটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর। মার্কেন্টাইলবাদের বৈশিষ্ট্য । মার্কেন্টাইলবাদের (মার্কেন্টাইলিজম) চারটি বৈশিষ্ট্য : ১। মার্কেন্টাইলবাদে রাষ্ট্র সোনা-রূপোর সঞ্চয় বৃদ্ধির চেষ্টা করে। ২। আমদানি হ্রাস ও রপ্তানি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা গ্রহণ করে।  ৩। কৃষিক্ষেত্রের সম্প্রসারণ, কৃষিজ দ্রব্যের উৎপাদন এ বৃদ্ধি এবং কৃষির বাণিজ্যিকিকরণের জন্য রাষ্ট্র সচেষ্ট হয়। ৪। মার্কেন্টাইলবাদী রাষ্ট্র উপনিবেশ বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করে।

ঠাণ্ডা যুদ্ধ কি। ঠাণ্ডা যুদ্ধ কাকে বলে

ঠাণ্ডা যুদ্ধ কি। ঠাণ্ডা যুদ্ধ কাকে বলে। ঠাণ্ডা যুদ্ধ বলতে কি বোঝ। উত্তর :  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর বিশ্ব রাজনীতিতে কর্তৃত্ব স্থাপনের জন্য রাশিয়া ও আমেরিকা বিশ্বের নানা অঞ্চলে নিজ নিজ প্রভাবাধীন রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রজোট গঠনে অগ্রসর হয়। আর এর ফলে কোনো যুদ্ধ না হওয়া সত্ত্বেও উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব সৃষ্টি হয়। পূর্ব ইউরোপে কমিউনিজমের পতন পর্যন্ত (১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ) সময়ে রাশিয়া ও আমেরিকা রাষ্ট্রজোটের মধ্যে বর্তমান এই স্নায়ুযুদ্ধই পরিচিত ঠাণ্ডা যুদ্ধ নামে।

ইমানুয়েল স্যু প্রাক্ আধুনিক চিনকে 'জেন্ট্রি রাষ্ট্র' বলেছেন কেন?

ইমানুয়েল স্যু প্রাক আধুনিক চিনকে 'জেন্ট্রি রাষ্ট্র' বলেছেন কেন ?  উঃ- প্রাক্-আধুনিক চিনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণি ছিল জেন্ট্রি। সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষে তারা অনেক দায়িত্ব পালন করত। ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের মধ্যের বিরোধের নিষ্পত্তি, কনফুসিয় আদর্শের প্রচার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, শান্তি-শৃংখলার সমস্যা দেখা দিলে ভাড়াটে বাহিনীর তৈরি করে তা দমন প্রভৃতি কাজে জেম্মিরা মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করত। চিনা সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জেন্ট্রিদের এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে ইমান্যুয়েল স্যু প্রাক্-আধুনিক চিনকে 'জেন্ট্রি রাষ্ট্র' বলেছেন।

ফিউডালিজম্ ফ্রম অ্যাবভ ও ফিউডালিজম্ ফ্রম বিলো তত্ত্বের মাধ্যমে কোসাম্বী কী বোঝাতে চেয়েছেন।তাঁর রচিত গ্রন্থটির নাম লেখ

‘ফিউডালিজম্ ফ্রম অ্যাবভ’ ও ‘ফিউডালিজম্ ফ্রম বিলো' তত্ত্বের মাধ্যমে ঐতিহাসিক কোসাম্বী কী বোঝাতে চেয়েছেন? তাঁর রচিত গ্রন্থটির নাম উল্লেখ করো । ভূমিকা :  ঐতিহাসিক ডি ডি কোসাম্বী (D D Kosambi) তাঁর গ্রন্থ ‘অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য স্টাডি অব ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি' (An Introduction to the study of Indian History) তে ফিউডালিজম ফ্রম অ্যাবভ (Feudalism From Above) এবং ফিউডালিজম ফ্রম বিলো (Feudalism From Below) -এর ধারণা দিয়েছেন। ফিউডালিজম্ ফ্রম অ্যাবভ : ফিউডালিজম্ ফ্রম অ্যাবভ মূলত রাষ্ট্র কর্তৃক সামন্ত ব্যবস্থার সূচক ছিল, যেখানে রাষ্ট্র রাজকীয় আমলা ও ব্রাক্ষ্মণদের মাস-মাহিনার পরিবর্তে নিষ্কর ভূমিদানের ব্যবস্থা করত।  ফিউডালিজম্ ফ্রম বিলো : ফিউডালিজম্ ফ্রম বিলো  এর ক্ষেত্রে, গ্রামাঞ্চলে আমলা, ব্রাক্ষ্মণ এবং সম্পন্ন কৃষকেরা জমি ক্রয় করে একপ্রকার সামন্তপ্রভু হয়ে বসেছিল এবং রাষ্ট্র ও জনসাধারণের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করত।

অগ্রহার ব্যবস্থা কি। অগ্রহার ব্যবস্থার গুরুত্ব বা তাৎপর্য কী ছিল

অগ্রহার ব্যবস্থা বলতে কী বোঝো? অগ্রহার ব্যবস্থার তাৎপর্য বা গুরুত্ব কী ছিল। অগ্রহার ব্যবস্থা সম্পর্কে টীকা লেখ। অগ্রহার ব্যবস্থা কি?   প্রাচীন ভারতে মন্দির, ব্রাহ্মণ ও বৌদ্ধ মঠগুলিকে এক ধরনের নিষ্কর ভূমি প্রদান করা হত ৷ কুষাণ-সাতবাহন আমল থেকে এই প্রথার সূচনা হয়। গুপ্তযুগে এই প্রথা ব্যাপকতা লাভ করে। এই প্রথা অগ্রহার নামে পরিচিত ছিল। ৩০০ খ্রিস্টাব্দের পরবর্তীকালে এই ব্যবস্থা ব্যাপক হয়ে ওঠে। আদি-মধ্যযুগে এই প্রথা সামন্ততন্ত্রের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে। অগ্রহার ব্যবস্থার তাৎপর্য বা গুরুত্ব ব্রাহ্মণরা অগ্রহার ব্যবস্থায় বা অগ্রহার জমি ব্যবস্থা  নিষ্কর ভূমি পেতেন এবং সেই সুবাদে যাবতীয় সুযোগসুবিধা ভোগ করতেন। অগ্রহার ব্যবস্থার অপর নাম বা আরেকটি নাম ছিল ভূমিদান ব্যবস্থা। ভূমিতে উৎপাদিত শস্য ছাড়া পুকুরের মাছ, কচ্ছপ ইত্যাদি তাঁদের ভোগ্যপণ্যের তালিকাভুক্ত ছিল। মাটির নীচে খনিজ সম্পদের ওপর তাঁদের মালিকানা নাও হত। মন্দিরগুলিও পর্যাপ্ত পরিমাণে জমি দান হিসেবে পেত ও তার রাজস্ব ভোগ করত। পাল আমলে বৌদ্ধ বিহারগুলি ভূমিদানের সুযোগসুবিধা ভোগ করত।  নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ...

আজীবিক মতবাদ সম্পর্কে যা জানো লেখো

আজীবিক মতবাদ সম্পর্কে যা জানো লেখো । টীকা লেখ আজীবিক ধর্ম বা আজীবিক মতবাদ। ভূমিকা : বৌদ্ধ ও জৈন ধর্ম ছাড়াও সমকালীন ভারতে ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী আর একটি ধর্মীয় মতবাদের প্রকাশ ঘটেছিল। অবশ্য ব্যাপ্তি ও উৎকর্ষ উভয়দিক থেকেই আগের দুটির তুলনায় এর গুরুত্ব ছিল কম। এই নতুন ধর্মীয় সম্প্রদায়টি আজীবিক নামে সুবিদিত। মকখলি বা মংখলিপুত্তি গোশাল ছিলেন  আজীবিক ধর্মের প্রবর্তক প্রকৃতপক্ষে এর প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তবে বৌদ্ধ সাহিত্যে তাঁর দুই পূর্বসূরীর নাম ঘোষিত হয়েছে। এঁরা হলেন নন্দ বচ্চ ও কিস সংকিচ্চ। এই ধর্ম সম্পর্কে অল্প যা কিছু জানা যায়, তার প্রায় সবই এর বিরোধী জৈন ও বৌদ্ধদের গ্রন্থ থেকে পাওয়া।  খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে রচিত পতঞ্জলির মহাভাষায় এদের উল্লেখ আছে। এর মূল তত্ত্ব ছিল অদৃষ্টবাদ। বৌদ্ধ ও জৈন সাহিত্যে এই ধর্ম সম্পর্কে কিছু কিছু উদ্ধৃতি থেকে জানা যায় যে, মানুষের ইচ্ছাশক্তির ওপর এঁদের মোটেই বিশ্বাস ছিল না। এঁরা মনে করতেন, পৃথিবীর সবকিছুই আগে থেকে নিয়তি দ্বারা নির্দিষ্ট হয়ে আছে। এমনকি মানুষের সাধারণ কাজকর্মও এর বাইরে নয়। বস্তুত, নিয়তিই এঁদের ধর্মের মর্মবস্তু। এঁরা মনে ক...