Posts

Showing posts from July, 2022

স্কন্দগুপ্তের কৃতিত্ব আলোচনা কর

  স্কন্দগুপ্তের কৃতিত্ব আলোচনা কর ।স্কন্দগুপ্তের কৃতিত্ব । ভূমিকা :  স্কন্দগুপ্ত ছিলেন প্রথম কুমারগুপ্তের পুত্র । স্কন্দগুপ্তের রাজত্বকাল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় পাঁচটি শিলালেখ থেকে। এগুলি হল—৪৫৮ খ্রিস্টাব্দের জুনাগড় শিলালেখ, ৪৬১ খ্রিস্টাব্দের কাহায়ুম স্তম্ভলেখ, ৪৬১ খ্রিস্টাব্দের সুপিয়া গুলেন, ৪৬৬ খ্রিস্টাব্দের ইন্দোর তাম্রশাসন এবং সর্বোপরি তারিখবিহীন ভিতারি গুলেখ। এই পাঁচটির মধ্যে জুনাগড়, ইন্দোর ও ভিতারি লেখই তাঁর রাজত্বকাল সম্পর্কে প্রধান প্রধান তথ্য পরিবেশন করে থাকে। শুধু শিলালেখ নয়, মুদ্রাগত তথ্য থেকেও স্কন্দগুপ্তের রাজত্বকাল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। লেখমালা ও মুদ্রাগত তথ্য থেকে বোঝা সম্ভব হয় যে ৪৫৫-৪৬৭ খ্রিঃ পর্যন্ত স্কন্দগুপ্ত রাজত্ব করেছিলেন।  স্কন্দগুপ্তের কৃতিত্ব :  পিতার মৃত্যুর পরে পরেই স্কন্দগুপ্ত সিংহাসনে বসেছিলেন কিনা সে বিষয়ে ঐতিহাসিক মহলে কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। সাধারণভাবে মনে করা হয় যে পিতার মৃত্যুর পর তীব্র ভ্রাতৃবিরোধ দেখা দেয় এবং তারই সূত্র ধরে তিনি পরে সিংহাসনে আরোহণ করেন। এক্ষেত্রে ভ্রাতৃবিরোধ বলতে স্কন্দগুপ্তের সঙ্গে পুরুগুপ্তের ব...

স্কন্ধগুপ্তকে ভারতের রক্ষাকর্তা বলা কতটা যুক্তিসঙ্গত

স্কন্ধগুপ্তকে ভারতের রক্ষাকর্তা বলা কতটা যুক্তিসঙ্গত ।  ভূমিকা :  হুন আক্রমণের সূত্র ধরে স্কন্দগুপ্ত ও তাঁর পূর্ববর্তী গুপ্ত শাসকদের রাজনৈতিক অনুরদর্শিতা প্রতিভাত হয়ে ওঠে। অধ্যাপক শ্রী রাম গয়াল এ প্রসঙ্গে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত রক্ষা সম্পর্কে গুপ্ত শাসকদের কোনো বলিষ্ঠ নীতি গ্রহণ না করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। উত্তর-পশ্চিমের গিরিপথগুলি সম্পর্কে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে-কোনো মুহূর্তে বৈদেশিক আক্রমণ ঘটতে পারে সেই বাস্তব সতাকে তারা উপলব্ধি করতে পারেননি। এরই ফলস্বরূপ হুনদের পক্ষে ভারতবর্ষে অনুপ্রবেশ করা সহজসাধ্য হয়। স্কন্ধগুপ্তকে ভারতের রক্ষাকর্তা বলা কতটা যুক্তিসঙ্গত :  হুন আক্রমণের প্রাবলাকে অত্যন্ত শক্ত হাতে মোকাবিলা করেছিলেন স্কন্দগুপ্ত। এক্ষেত্রে স্কন্দগুপ্তের কৃতিত্বকে সম্যকভাবে অনুধাবন করতে গেলে সমকালীন জগতে হুনদের প্রভাব-প্রতিপত্তি সম্পর্কে অবহিত হওয়া প্রয়োজন। প্রসঙ্গত বলা যায়, স্কন্দগুপ্ত সিংহাসনে আরোহণের অল্পকাল আগে ইওরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে হুনদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিশাল রোমান সাম্রাজ্য এই বর্বর আক্রমণের চাপে বিশ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। হুনদের ত...

জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে কৃষক আন্দোলনের সম্পর্ক আলোচনা কর

  জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে কৃষক আন্দোলনের সম্পর্ক আলোচনা কর। জাতীয় আন্দোলন ও কৃষক আন্দোলন তুলনামূলক আলোচনা কর । ১৯২০-৪২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে গান্ধিজির নেতৃত্বে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে তিনবার জাতীয়তাবাদী সর্বভারতীয় আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল। ১৯২০-২২ খ্রিস্টাব্ পর্যন্ত পরিচালিত হয় খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন। গান্ধিজির আবেদনে সাড়া দিয়ে শিক্ষক, আইনজীবী, শ্রমিক ও কৃষক অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। বাংলা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব ও তামিলনাড়ুর কৃষকরা এই সময় খাজনা বন্ধের আন্দোলন করেছিল। কেরালার মোপলা কৃষকরা জেনমি ও মহাজনদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করেছিল। তারা খিলাফৎ আন্দোলন দ্বারা প্রভাবিত হয়, খিলাফৎকে তারা ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম হিসেবে দেখেছিল। ১৯৩০-৩৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গান্ধিজি আইন অমান্য আন্দোলন পরিচালনা করেন। এই সময় ভারতীয় অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনৈতিক মহামন্দার জন্য দুর্গতির মধ্যে পড়েছিল। ভারতে কৃষিজ পণ্যের দাম অত্যন্ত নেমে যায়, কৃষকের কর ও ঋণের বোঝা ভারী হয়ে উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা করের পরিমাণ হ্রাস, সামন্তপ্রথার অবসান, জমিতে কৃষকের অধিকারের স্বী...

বাদামির চালুক্যদের আমলে দাক্ষিণাত্যের সাংস্কৃতিক অগ্রগতি

বাদামির চালুক্যদের আমলে দাক্ষিণাত্যের সাংস্কৃতিক অগ্রগতি ।  ভূমিকা :  বাদামির পশ্চিমী চালুক্যরা তুঙ্গভদ্রার অপরপারে অবস্থিত কাঞ্চীর পল্লবদের সঙ্গে অনবরত সংঘাতে যে লিপ্ত ছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য গ্রাস করে সাম্রাজ্য বিস্তারের কাজে ব্যস্ত ছিলেন তা আগের আলোচনা থেকে পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে। কিন্তু মনে রাখা দরকার ঐ সমস্ত কাজে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুশো বছরব্যাপী শাসনকালে চালুক্যরা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি বিশেষভাবে লক্ষ করা যায় শিল্পকলা তথা স্থাপত্য ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে। আলোচ্য সময়ে দাক্ষিণাত্যে ধর্মীয় বিবর্তনও ছিল লক্ষণীয়। এই দুই বিষয় ছাড়াও ভাষা-সাহিত্যের কিছুটা উন্মেষ ঘটেছিল। ভাষা-সাহিত্য :  স্বাভাবিকভাবেই সংস্কৃত ভাষার কদর ছিল। চালুক্য লেখগুলি প্রধানত রচিত হয়েছিল সংস্কৃত ভাষাতেই। পরবর্তীকালের কিছু চালুক্য লেখতে প্রথম দিকের শাসক প্রথম পুলকেশী সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তিনি ছিলেন মনুস্মৃতি, রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণের অনুরক্ত। মহাকূট শিলালেখয় যে অলংকৃত গদ্যের ব্যবহার ঘটেছে তার সঙ্গে বাণভট্টের ...

দ্বিতীয় পুলকেশীর কৃতিত্বের মূল্যায়ন আলোচনা কর

দ্বিতীয় পুলকেশীর কৃতিত্বের মূল্যায়ন আলোচনা কর। দ্বিতীয় পুলকেশীর কৃতিত্বের মূল্যায়ন । দ্বিতীয় পুলকেশীর শাসনকাল (আঃ ৬১০-৪২ খ্রিঃ) ছিল ঘটনাবহুল এ বিষয়ে কোনো সংশয় নেই । প্রথমত , পিষ্টপুর (গোদাবরী জেলার পিঠপুরম) ও সংলগ্ন অঞ্চলকে কেন্দ্র করে তিনি বেঙ্গীর পূর্ব চালুক্য নামে একটি নতুন বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার শাসনভার অর্পিত হয়েছিল তাঁর ভাই কুব্জ বিষ্ণুবর্ধনের ওপর। বলাবাহুল্য, এর মাধ্যমে অনুগত ভাই-এর প্রতি তিনি যথোচিত ব্যবহার করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, উত্তর ভারতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে হর্ষবর্ধনের মতো শক্তিশালী শাসককে তিনি পরাভূত করেছিলেন। এর ফলে বাদামির চালুক্য বংশের গৌরব বৃদ্ধি পেয়েছিল। তৃতীয়ত, তাঁর শাসনকালেই তুঙ্গভদ্রার দক্ষিণে চালুক্য রাজ্যের অধিকার সম্প্রসারণের প্রশ্নে দীর্ঘস্থায়ী চালুক্য-পল্লব প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছিল এবং প্রকট রূপ ধারণ করেছিল। সর্বোপরি, সমকালীন পারস্যের সঙ্গে তাঁর কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় ছিল। উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক তবরীর বিবরণ থেকে জানা যায় যে পারস্যের শাসক দ্বিতীয় খসরুর রাজত্বের ৩৬তম বর্ষে (৬২৫-২৬ খ্রিঃ) দ্বিতীয় পুলকেশী তাঁর কাছে একটি দ...

বাদামির চালুক্য বংশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর

  বাদামির চালুক্য বংশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর ।  প্রশাসন ব্যবস্থা :  বাদামির চালুক্য বংশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রসঙ্গত বলা যায় এ ব্যাপারে তথ্যের স্বল্পতা আছে। চালুক্য শাসকদের বিভিন্ন লেখতে কিছু শাসনতান্ত্রিক বিভাগ ও কর্মচারীপদের উল্লেখ এবং কখনো কখনো বর্ণিত সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিবরণ থেকে এব্যাপারে মোটামুটি একটা ধারণা লাভ করা যায় মাত্র। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য পরিবেশন করে থাকে বুবরাজ বিক্রমাদিত্যের লক্ষ্মণেশ্বর স্তম্ভলেখ। রাজা ছিলেন রাষ্ট্রের প্রধান বিচার ও সামরিক বিভাগও প্রধানত তাঁর নির্দেশেই চলত। উত্তরাধিকার সূত্রে রাজা মনোনীত হতেন ও সিংহাসনে বসতেন। সাধারণত শাসনরত রাজার মৃত্যুর পর ঐ বংশের পরবর্তী জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি উত্তরাধিকারী হতেন। কখনো কখনো অবশ্য এর ব্যতিক্রমও ঘটত। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় প্রথম কীর্তিকর্মণের মৃত্যুর সময় তাঁর পুত্র দ্বিতীয় পুলকেশী নাবালক থাকায় তাঁর ভাই মঙ্গলেশ চালুক্য সিংহাসনে বসেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলেশের শাসনের অবসান কালে তিনি নিজ পুত্রকে সিংহাসনে বসাতে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠলে দ্বিতীয় পুলকেশী জোর পূর্বক চালুক্য সিংহা...

দ্বিতীয় পুলকেশীর কৃতিত্ব আলোচনা কর

  দ্বিতীয় পুলকেশীর কৃতিত্ব আলোচনা কর । দ্বিতীয় পুলকেশীর কৃতিত্ব পর্যালোচনা করো । দ্বিতীয় পুলকেশীর কৃতিত্ব ।  ভূমিকা :  বস্তুতপক্ষে বাদামির চালুক্য বংশের ইতিহাসে মহারাজ দ্বিতীয় পুলকেশী সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। শুধু তাই নয়, সমগ্র দক্ষিণ ভারতের আদি মধ্যযুগের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য মহত্তম শাসকদের মধ্যে তিনি অন্যতম স্থান অধিকার করে আছেন। দ্বিতীয় পুলকেশীর শাসনকাল ও তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের হাতে যথেষ্ট তথ্য আছে। সাহিত্যিক উপাদানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল চীনা পর্যটক হিউয়েন সাঙ-এর বিবরণমূলক গ্রন্থ তা-তাং-সি-ইউ-কি (সংক্ষেপে সি-ইউ-কি)। শিলালেখর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল জৈন কবি রবিকীর্তি রচিত আইহোল প্রশস্তি। এটি লেখা হয়েছিল ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে জিনেন্দ্র মন্দিরের কাজ সমাপ্তির সময়। এছাড়াও অন্যান্য শিলালেখ যথা হায়দরাবাদ তাম্রশাসন (৬১২ খ্রিঃ), তাঁর ষষ্ঠ রাজ্যাঙ্ক বর্ষের একেরি শিলালেখ এবং লোহার তাম্রশাসন (৬৩০ খ্রিঃ) এ ব্যাপারে কাজে লাগে। পার্শ্ববর্তী দুটি রাজবংশের সমসাময়িক ও পরবর্তীকালের দুটি শিলালেখ থেকেও তাঁর রাজত্বকাল সম্পর্কে তথ্য আহরিত হয়ে থাকে। এগুলি হল। যথাক্রমে...

চালুক্য স্থাপত্য ভাস্কর্য ও শিল্পকলা সম্পর্কে আলোচনা কর

  চালুক্য স্থাপত্য ভাস্কর্য ও শিল্পকলা সম্পর্কে আলোচনা কর ।  বাদামির চালুক্য রাজাদের স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও শিল্পকলা। ভূমিকা:  বাদামির চালুক্য রাজাদের খ্যাতি কেবল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না সাংস্কৃতিক দিক বিশেষ করে স্থাপত্য-ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে চালুক্য রাজাদের অবদান অনস্বীকার্য। স্থাপত্যকে সাধারণত দুটি পর্ব যথা— গুহা স্থাপত্য ও মন্দির স্থাপত্যে ভাগ করা হয়ে থাকে। তবে গুহা স্থাপত্যের নিদর্শন আলোচ্য পর্বে খুব বেশি নেই। চালুক্যগণ এবং দাক্ষিণাত্যে তাদের উত্তরসূরি রাষ্ট্রকূটদের আমলে ইলোরায় বিখ্যাত ব্রাহ্মণ্য গুহার সমৃদ্ধি লক্ষ করা যায়। ৬৫০ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে এই পর্যায়ের ষোলোটি গুহা স্থাপত্যের নিদর্শন মিলেছে ইলোরায়। এই ষোলোটির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল দশাবতার (গুহা নং ১৫), রাফা-কা-খাই (গুহা নং ১৪), রামেশ্বর (গুহা নং ২১) এবং ধুমর লেন (গুহা নং ২৯)। এই চারটির মধ্যে রাবণ-কা-খাই ও রামেশ্বরের দেওয়ালে প্রচুর পরিমাণে খোদাই করার নিদর্শন মেলে, যা এর অপরূপ ভাস্কর্যের পরিচয় দেয়। এছাড়া দুটি জৈন গুহা স্থাপত্যের নিদর্শন মিলেছে বাদামি ও আইহোলে। স্থাপত্য : ...

গুপ্তোত্তর যুগে দক্ষিণ ভারতীয় উপদ্বীপ অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান

  গুপ্তোত্তর যুগে দক্ষিণ ভারতীয় উপদ্বীপ অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান ।  খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকের মধ্যভাগ থেকে বিন্ধ্য পর্বতমালার দক্ষিণাংশ তথা দাক্ষিণাত্য ও দক্ষিণ ভারতে রাজনৈতিক অবস্থা-ব্যবস্থা এবং আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধারার বিবর্তন ঘটেছিল। বস্তুত, আলোচ্য সময়কালে তথা আদি মধ্যযুগে ভারতবর্ষের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা (যেগুলি কেবল বিশুদ্ধ রাজনৈতিক ঘটনাই ছিল না, সাংস্কৃতিক দিক থেকেও ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ) ঘটেছিল বিন্ধ্য পর্বতের দক্ষিণাংশে, যাকে সাধারণভাবে দক্ষিণ ভারতীয় উপদ্বীপ অঞ্চল বলা হয়ে থাকে। আলোচ্য সময়ে এই অঞ্চলের একটি উল্লেখ্যযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হল বাতাপি (বাদামি)-র চালুক্য বংশ। দক্ষিণ ভারতীয় উপদ্বীপ অঞ্চল তথা এর ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা গড়ে তোলা যায়। কেননা দক্ষিণের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে এই অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবেশ-পরিস্থিতির যোগ নিবিড়। উল্লেখ্য, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণের উপদ্বীপ অঞ্চল ভারত মহাসাগরের তীরে গিয়ে পৌঁছেছে এবং প্রায় মুখের মতো একটা সরু অংশ কন্যাকুমারীতে গিয়ে পড়েছে। আরো উল্লেখ করে বলা যায় যে , উত্তর ভারত থেকে এই অঞ...

প্রথম বিক্রমাদিত্যের সিংহাসন আহরণ সংক্ষেপে আলোচনা কর

প্রথম বিক্রমাদিত্যের সিংহাসন আহরণ সংক্ষেপে আলোচনা কর। প্রথম বিক্রমাদিত্যের কৃতিত্ব । এ সময় দ্বিতীয় পুলকেশীর মৃত্যু ঘটেছিল এবং পল্লবরাজ প্রথম নরসিংহবর্মণ বাদামি দখল করে বাতাপি-কোণ্ড উপাধি ধারণ করেছিলেন (আঃ ৬৪২ খ্রিঃ)। কতদিন তিনি চালুক্য রাজধানী দখলে রেখেছিলেন অথবা চালুক্য সাম্রাজ্যে পল্লব আধিপত্য বজায় ছিল তা সঠিক করে বলা শক্ত। তবে অনুমান করা সম্ভব হয় যে চালুক্য সাম্রাজ্যে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি বজায় ছিল পরবর্তী প্রায় ১১/১২ বছর ধরে। কেননা, চালুক্য বংশের কিছু লেখ থেকে জানা যায় যে ৬৫৪/৫৫ খ্রিস্টাব্দের দ্বিতীয় পুলকেশীর অন্যতম পুত্র প্রথম বিক্রমাদিত্য তাঁর মাতামহ গঙ্গরাজ দুর্বীনিত'র সাহায্যে শত্রুদের হাত থেকে বাদামিকে রক্ষা করতে এবং পিতৃ সিংহাসনকে কণ্টকমুক্ত করার কাজে সফল হয়েছিলেন। এরপর তিনি চালুক্য সাম্রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন। সত্যাশ্রয়, রণরসিক, অনিবারিত ও রাজমল্ল প্রভৃতি বিশেষণে তিনি ভূষিত ছিলেন। ৬৫৪ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর থেকে ৬৫৫ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসের মধ্যে কোনো এক সময়ে প্রথম বিক্রমাদিত্য সিংহাসনে আরোহণ করে অল্পকালের মধ্যেই  (৬৫৪/৫৫-৬৮১ খ্রি:) চালুক্য সাম্র...

বাদামির চালুক্য বংশের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর

বাদামির চালুক্য বংশের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর । Or, বাদামির চালুক্য বংশের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিতর্ক। ভূমিকা :  প্রাচীন ও আদি মধ্যভারতের ইতিহাসে আঞ্চলিক শক্তির উত্থান ও বিকাশ নিশ্চিতভাবে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। দক্ষিণাত্যে প্রথম আঞ্চলিক শক্তি হিসাবে সাতবাহনের অভ্যুত্থান ঘটেছিল, যা ইতিপূর্বে ষোড়শ অধ্যায়ে বিস্তৃতভাবে আলোচিত হয়েছে। সাতবাহনদের শাসনের অবসানের পর সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাকাটক রাজবংশ। বাকাটকরা ছিলেন গুপ্তদের সমসাময়িক। বাকাটকদের পর দক্ষিণাত্যের পশ্চিমাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়ে ওঠেন আদি বা পশ্চিমী চালুক্য বা সাম্রাজ্যবাদী চালুক্যরা। উত্তর কর্ণাটকের বিজাপুর জেলার বাতাপি বা বাদামি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে এই রাজবংশ গড়ে উঠেছিল বলে এটি সাধারণভাবে বাতাপি বা বাদামির চালুক্য বংশ নামে পরিচিত। ` খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকের মধ্যভাগ থেকে প্রায় খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত সময়কালে বাদামির চালুক্য বংশের শাসন বজায় ছিল। বাদামির চালুক্য বংশের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হওয়ার জন্য তথ্যের প্রাচুর্যতা রয়েছে। বেশিরভাগ তথ্যই শিলালেখ/ তাম্রশাসন নির্...

উনিশ শতকে ভারতে হিন্দু পুনর্জাগরণবাদের পটভূমি বা প্রেক্ষাপট আলোচনা কর

উনিশ শতকে ভারতে হিন্দু পুনর্জাগরণবাদের পটভূমি বা প্রেক্ষাপট আলোচনা কর  ভূমিকা :  উনিশ শতকের শেষ দিক থেকে ভারতে হিন্দু পুনর্জাগরণবাদের সূচনা হয়েছিল। চরমপন্থীদের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে এর প্রথম প্রকাশ ঘটেছিল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দেশকে মাতা হিসেবে দেখালেন, মাতৃবন্দনা করলেন বন্দেমাতরম্। চরমপন্থী নেতারা বঙ্কিমের চিন্তাভাবনা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। দেশের মুক্তির আদর্শকে গ্রহণ করে আত্মত্যাগের কথা বলেন। প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবনের কথা এরা বলেছিলেন। ভারতের মধ্যযুগের ইতিহাসের যে ব্যাখ্যা ইংরেজ ঐতিহাসিকরা দিয়েছিলেন এরা তার দ্বারা প্রভাবিত হন। মিল থেকে ভিনসেন্ট স্মিথ সকলে মধ্যযুগের ইতিহাসকে বলেছেন অত্যাচারী শাসনকাল। চরমপন্থীরা মধ্যযুগের শাসনকে সেভাবে দেখেছিলেন। মোগল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শিবাজি, রানা প্রতাপ ও প্রতাপাদিত্যের সংগ্রামকে এরা জাতীয় সংগ্রাম বলে প্রচার করেন। চরমপন্থীদের প্রাচীন ভারতের সংস্কৃতি প্রীতি এবং মধ্যযুগের হিন্দু বীরদের সংগ্রামকে জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়াস হলে মুসলমানরা ক্ষুণ্ণ হন। হিন্দু পুনর্জাগরণবাদের পটভূমি / প্রেক্ষাপট স্বামী দ...