Posts

Showing posts from April, 2022

গুপ্ত যুগকে সুবর্ণ যুগ বলা কতটা যুক্তিযুক্ত

  গুপ্ত যুগকে সুবর্ণ যুগ বলা কতটা যুক্তিযুক্ত । গুপ্ত যুগকে সুবর্ণ যুগ বলা হয় কেন  ।  গুপ্ত যুগকে কি প্রাচীন ভারতের সুবর্ণ যুগ বলা যায়। গুপ্ত যুগকে কী ভারতের সুবর্ণ যুগ বলা যায়? প্রাচীন ভারতবর্ষের ইতিহাসে গুপ্ত শাসন কাল বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের সভ্যতা-সংস্কৃতির অভাবনীয় বিকাশের কথা স্মরণে রেখে তাকে অন্যান্য দেশের গৌরব উজ্জ্বল অধ্যায় এক আসনে বসানো প্রবণতা দেশি-বিদেশি ঐতিহাসিকদের মধ্যে অতি প্রবল। এই রাজবংশের দই উল্লেখযোগ্য সম্রাট সমুদ্র গুপ্ত এবং দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের পরাক্রম ও প্রশাসনিক দক্ষতা ফলে এই বিশাল সাম্রাজ্যে দীর্ঘকাল শান্তি শৃঙ্খলা ছিল সমৃদ্ধির সহায়ক। এই অনুকূল পরিবেশেই হিন্দু মনীষার বিকাশ শিল্প-সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ সম্ভব হয়েছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল রাজ পৃষ্ঠপোষকতা। গুপ্ত সাম্রাজ্যের বেশিরভাগই ছিলেন ব্রাহ্মণ্যধর্মের সমর্থক বিষ্ণুর উপাসক। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ব্রাহ্মণ্য ধর্মের মর্যাদা ও প্রতিপত্তি বেড়েছিল। গুপ্ত সাম্রাজ্যের লেখ ও মধু রাতে হিন্দুদের দেবীর নামাঙ্কন ও প্রতিকৃতি তার প্রমাণ। বিষ্ণুর ছিলেন প্রধান দেবতা তা প্রমাণিত হয় এ যুগে বিষ্ণু...

খলিফা তন্ত্র উদ্ভবের কারণ গুলি আলোচনা করো

খলিফা তন্ত্র উদ্ভবের কারণ গুলি আলোচনা করো ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরব দুনিয়ায় ইতিহাসের সময়কালকে অজ্ঞানতা যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এইসময় আরবের মানুষ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন ছিল। দেশে কোন সুগঠিত আইন-শৃংখলার অস্তিত্ব ছিল না। তখন আরবে কোন ধর্মপ্রচারকের আবির্ভাব হয় নি। ছিলনা কোন ধর্মগ্রন্থ। সেই সময় আরবে ছিলো পেগান ধর্ম । পরবর্তীকালে হযরত মুহাম্মদ আরবে ইসলাম ধর্ম প্রবর্তন এর মাধ্যমে সেখানে বহুদা বিচ্ছিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে তিনি একসূত্রে বাঁধলেন। তিনি আরবে মদিনা শহর কে কেন্দ্র করে গড়ে তোলেন ইসলামিক প্রজাতন্ত্র। তিনি নিজেই প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্র প্রধান হন। তার মৃত্যু পড়ে যারা এই প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্র প্রধান নির্বাচন হন তাদের বলা হতো খালিফা । খলিফা শব্দের অর্থ হলো প্রতিনিধি। হযরত মুহাম্মদের মৃত্যুর পরবর্তী কালে তার বিশাল প্রজাতান্ত্রিক সাম্রাজ্যের প্রশাসন পরিচালনার জন্য এমন এক শাসকের প্রয়োজন ছিল যিনি একদিকে দেশ শাসন করবেন এবং অন্যদিকে ইসলামের রীতিনীতি আদর্শ এবং ধর্মীয় বিধি-নিষেধ রক্ষা করবে। সুতরাং খলিফা হলেন ইসলামীয় প্রজাতন্ত্রের শাসক, ইসলামের প্রচারক, ইসলামের রক্ষক এবং স...

টীকা লেখো লোকশিল্প

 টীকা লেখো লোকশিল্প "লোকশিল্প" বুৎপত্তিগত অর্থে ‘সংস্কার’ থেকে এর উৎপত্তি। এই সংস্কৃতির সঙ্গে ‘লোক’ পারিভাষিক শব্দটি যুক্ত হয়ে ‘লোক সংস্কৃতি’ শব্দটির উদ্ভব হয়েছে। ‘লোক’ বলতে গ্রামীন বা লোকায়ত সমাজের অধিকাংশ নিরক্ষর কৃষিনির্ভর সংহত জনগোষ্ঠীকে বোঝায়। আর ‘লোক সংস্কৃতি’ হল লোকায়ত মানুষের জীবন-জীবিকা সঞ্জাত মননের সামগ্রিক সার্থক ফসল। ‘লোক সংস্কৃতি’-র সুবিশাল পরিসরেই ‘লোকশিল্প’-র অবস্থান।–‘সাধারণত গ্রামীন কাজ, গ্রামীন কারিগরদের হাতের কাজ যাকে ইংরেজিতে Handicrafts বলা হয় তাই লোকশিল্প'। লোকশিল্পকে আমরা কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে আলোচনা করতে পারি—১। বস্তুগত লোকশিল্প, ২। ধর্মীয় লোকশিল্প, ৩। গৃহস্থালীর দ্রব্য ও গৃহস্থকেন্দ্রিক লোকশিল্প, ৪। বিনোদনমূলক বা রসকেন্দ্রিক লোকশিল্প। বস্তুকেন্দ্রিক লোকশিল্পের অন্তর্ভুক্ত কৃষিসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি—কোদাল, লাঙল, মই, জোয়াল প্রভৃতি।  রথ, গরুর গাড়ি, পালকি, নৌকা প্রভৃতি যানবাহনকেও আমরা বস্তুগত লোকশিল্পের অন্তর্গত বলে বিবেচনা করতে পারি। ধর্মীয় লোকশিল্পকে আবার দু’টি ভাগে বিভক্ত করা যায়—ক। ধর্মীয় চিত্তাপ্রসূত, খ। ধর্মীয় সমাজকেন্দ্রিক। পূজ...

লোকশিল্প কাকে বলে । লোকশিল্পের বৈশিষ্ট্য লেখো

লোকশিল্প কাকে বলে । লোকশিল্পের বৈশিষ্ট্য লেখো । লোকশিল্প কাকে বলে (lok shilpo kake bole) ‘লোকশিল্প' লোক মানসের সমষ্টিগত আশা-আকাঙ্খা বা তার চিন্তাচেতনার একটি বিশেষ শৈলী (Form)। শিল্প এখানে প্রধান শিল্পী নয়। প্রকৃতপক্ষে লোকশিল্প লোকজীবন ও সমাজের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক। 'Art for Art's sake'-র তত্ত্ব এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ড. প্রদোৎ ঘোষ ‘বাংলার লোকশিল্প’ গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন, ‘আদিম শিল্প অর্থাৎ Primitive art থেকে কৃষিভিত্তিক সমাজের বিভিন্ন কাজে মানুষ তার প্রয়োজনীয় ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, গৃহস্থালীর দ্রব্য, ভৌগোলিক ও নৈসর্গিক পরিবেশের অনুকূল ধ্যান-ধারণায় তৈরি ব্যবহারিক রূপের অতিরেকে (surplus value) নান্দনিক চেতনার যেসব দ্রব্য আত্মপ্রকাশ করে তাই লোকশিল্প'। অধ্যাপক কল্যাণকুমার গঙ্গোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন (বঙ্গীয় লোকসংস্কৃতি কোষ—লোকশিল্প)—‘সাধারণত গ্রামীন কাজ, গ্রামীন কারিগরদের হাতের কাজ যাকে ইংরেজিতে Handicrafts বলা হয় তাই লোকশিল্প'। লোকশিল্পের বৈশিষ্ট্য 1) লোকশিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর সরলতা, প্রথাগত কর্ম, সৃষ্টিশৈলীর রক্ষণশীলতা যা বংশপরম্পরায় প্রবাহিত হয়।  ...

লোকশিল্প ও সুকুমার শিল্পের মধ্যে পার্থক্য

লোকশিল্প ও সুকুমার শিল্পের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য: লোকশিল্প কোনো এক অঞ্চলের মানুষের বা মানবগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনেরকাজ কর্ম, আচার-অনুষ্ঠান, ক্রীড়া-বিনোদন, শিল্প-সংস্কৃতি, জীবন-জীবিকা ইত্যাদি ধারাবাহিকভাবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলে তা ক্রমে লোকায়ত শিল্পে পরিণত হয়—এই শিল্পই লোকশিল্প (Folk Art)। লোকশিল্প পরিকল্পিত ও পরিশীলিত সৃষ্ট শিল্প নয়। গ্রামীন মানুষের বিশ্বাস, মূল্যবোধ, সংস্কারকে ঘিরে বংশানুক্রমিকভাবেই এই শিল্পের উদ্ভব। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের মাধ্যমে কোনো বিশেষ অঞ্চলের সমাজ পরিচয়, সংস্কৃতিমনস্কতার পরিচয় পাওয়া যায়। এই শিল্পের ধারাবাহিকতায় চিত্রকলার উপস্থিতি খুবই প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। সুকুমার শিল্প    সুকুমার শিল্পকলার উৎপত্তি ও ব্যাপ্তির ইতিহাস ঠিক লোকশিল্পের বিপরীত। মানুষের সুকুমার বৃত্তির স্বতঃস্ফূর্ত রোনছনে ও সৃজনশীল সৃষ্টির স্পৃহায় যে শিল্পকর্ম সৃষ্টি হয় তাই 'সুকুমার শিল্প' (Fine Arts) বহুমাত্রিক সুকুমার শিল্পের পরিবৃত্তে নৃত্য, সঙ্গীত, কাব্য-সাহিত্য, চিত্রকলা-ভাস্কর্য ইত্যাদি সূক্ষাতিসূক্ষ্ম ভাবনাযুক্ত সকল শিল্পকর্মই অন্তর্ভুক্ত। সুকুমার শিল্পের অন...

বার্টান স্টেনের স্টেটমেন্টটরি থিওরি

বার্টান স্টেনের স্টেটমেন্টটরি থিওরি অয়দান ডব্লিউ সাউথল ছিলেন একজন নৃতত্ত্ববিদ তিনি 1953 খ্রিস্টাব্দে আলুর সোসাইটি এ স্টাডি ইন প্রসেসস এন্ড টাইপস অব উমনেশন নামে একখানি গ্রন্থ লেখেন। ওই গ্রন্থে তিনি যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন আফ্রিকার এই উপজাতি আলুর এমন এক একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা কায়েম করেছিল জাতি উপজাতি বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে রাজনৈতিক বিশেষণ যুক্ত হয়েছিল। উপজাতি সততা ও রাজনৈতিক সত্তা নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছিল। সাউথল দেখেছেন যে অভিযাত্রী উপজাতির মানুষজন অনেকগুলি উপজাতি সমাজের উপর কর্তৃত্ব স্থাপন করেছিল অনেক সময় শক্তি প্রয়োগ করতে হয়নি। তিনি সেই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে রাজনৈতিক সংগঠন ছিল বিকেন্দ্রীভূত ঐকবদ্ধ রাষ্ট্র ছিল বিড়ল। সাউথল কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্র ও বিকেন্দ্রীভূত আঞ্চলিক রাষ্ট্রের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন। তিনি কেন্দ্রীভূত ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্রে একটি সংজ্ঞা দিয়েছেন। একটি ঐক্যবদ্ধ কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্র হল একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ একটি সুদক্ষ আমলাতন্ত্র শাসিত রাষ্ট্র। এখানে কেন্দ্রীয় সরকার এ...

সুফিবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য

সুফিবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য  সুফিবাদ বা তাসাউক যাকে বিভিন্নভাবে ইসলামী ও ধন্যবাদ ইসলামের অন্তনিহিত রূপ ইসলাম এর অন্তর্গত আধ্যান্তিকতা অদৃশ্য অনুভূতি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তা হলো ইসলামের আধ্যাত্মবাদ , যা নির্দিষ্ট মূল্যবোধ আচার-প্রথা চর্চা মূলনীতি দ্বারা বিশেষায়িত ইসলামের ইতিহাসের খুব প্রাথমিক দিকে শুরু হয়েছিল। এবং এটি ইসলামের আধ্যাত্মিক চর্চার প্রধান অভিব্যক্তি ও কেন্দ্রীয় স্বচ্ছতা কে তুলে ধরে। সুফিবাদের চর্চাকারীদের সুফি বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। ইসলামে তাসাউকের আরেকটি সমার্থক হারানো হল তাজকিয়া। ঐতিহাসিকদের মতে সূফীগণ প্রায়শই বিভিন্ন তারিকা বা ধারার অনুসারী এমন কিছু ধর্মসভা যা কোন মহান শিক্ষাগুরু কে কেন্দ্র করে গঠিত যাদের ওয়ালি বলে আখ্যায়িত করা হয় এবং তারা অনুসরণকারীদের সঙ্গে ইসলামী নবী মুহাম্মদ এর সরাসরি সংযোগ বা সিলসিলা স্থাপন করেন। এই তালিকা গুলি জাওয়াবিয়া, খানকা বা তেক্বে নামক কোন নির্দিষ্ট স্থানে মজলিস নামক আধ্যাত্মিক বৈঠকে মিলিত হয়। তারা ইহসনের জন্য সংগ্রাম করে যায় একটি হাদীসে বিস্তারিত বর্নিত আছে। ইহসন হল এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যে তুমি তাকে দেখেছ অথব...

সুলতানী শাসনে উলেমাদের ভূমিকা । দিল্লি সালতানাত প্রশাসনে উলেমাদের ভূমিকা

 দিল্লি সালতানাত প্রশাসনে উলেমাদের ভূমিকা অথবা সুলতানী শাসনে উলেমাদের ভূমিকা  সুলতানি সাম্রাজ্যের কিছু বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া সমাজ ও প্রশাসনের ওপর যে সম্প্রদায় প্রবল প্রভাব পড়েছিল তারা উলেমা নামে পরিচিত। উলেমারা শরীয়তী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে জনসাধারণকে ধর্ম পথে পরিচালিত করার দায়িত্ব ছিল এদের উপর তবে এই সম্প্রদায় বংশানুক্রমিক উপর গড়ে ওঠেনি। কোন একটা বিশেষ জাতি, লোক এরপর তা সীমাবদ্ধ ছিল না । তবে ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে এই মর্যাদা লাভের যোগ্যতা খুব কমই ছিল। ফলে আরবি-ফারসি জানা ও ভারতীয়রাই উলেমা সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। এই সম্প্রদায় নিজেদের গুরুত্ব বিষয়ে অতি সচেতন ছিল এবং একই সঙ্গে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সদা তৎপর। ভারতে মুসলিম সমাজ ও রাষ্ট্র বিকশিত হবার প্রথমদিকে উলেমাদের প্রাধান্য ছিল। এরা প্রায় নিজেদের বানানো কথা কোরানের নির্দেশ বলে চালাতেন। ফলে মুসলিম সমাজে এদের প্রতিপত্তি ছিল অসামান্য এরা জনসাধারণের কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি এরকম ভাবে তৈরি করেছিলেন যে তার ফলে উলেমাদের বহু আচরণ বিরোধী হলেও বেশির ভাগ মুসলিম এদের বিরুদ্ধাচরণে সহজে হতেন না। তবে এদের প...

ইতিহাসে চক্রাকার এবং রৈখিক সময়ের ধারণাকে তুমি কীভাবে ব্যাখ্যা করবে?

ইতিহাসে চক্রাকার এবং রৈখিক সময়ের ধারণাকে তুমি কীভাবে ব্যাখ্যা করবে?  অতীতের সময়কাল-সংক্রান্ত ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্রে প্রধানত দুটি দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ করা যায়। যথা— রৈখিক বা তীরবৎ (Linear) সময়রেখা এবং চক্রাকার (Cyclical) বা বৃত্তাকার সময়রেখা। রৈখিক কালচেতনা : ইতিহাসের সময়ের একটি সূচনাপর্ব এবং একটি সমাপ্তিপর্ব আছে। তাই ইতিহাস সূচনাপর্ব থেকে যাত্রা শুরু করে ক্রমশ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলে।কোনো কোনো মানুষের বিশ্বাস—ইতিহাসের কালের অগ্রগতি ঘটে রৈখিক ধারায়। খ্রিস্টানধর্ম অনুসারে, একদিন না একদিন কালের এই অগ্রগতির সমাপ্তি ঘটবে। অর্থাৎ, কালের অগ্রগতি সর্বদা সম্মুখবর্তী, অনেকটা তিরের মতো, যা অতীত থেকে বর্তমান এবং বর্তমান থেকে ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হয়। এজন্য অতীতের কোনো যুগের পুনরাবৃত্তি ভবিষ্যতে ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই।খ্রিস্টান দৃষ্টিভঙ্গি এবং পাশ্চাত্যের অধিকাংশ ঐতিহাসিকের দ্বারা ঐতিহাসিক সময়কালের রৈখিক ধারা সমর্থিত হয়। খ্রিস্টান ধর্মমত অনুসারে, একদা ঐতিহাসিক যুগের ‘শুরু’ হয়েছে এবং যার শুরু আছে তার শেষও আছে। রৈখিক কালচেতনা এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে সমাপ্তির দিকে এ...

ত্রিপিটক কাকে বলে । টীকা লেখ ত্রিপিটক

  ত্রিপিটক কাকে বলে । টীকা লেখ ত্রিপিটক   অজাতশত্রুর আমলে মহাকাশ্যপের নেতুত্বে রাজধানী রাজগৃহে প্রথম বৌদ্ধ সংগীতি অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বুদ্ধের বাণীগুলি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত করা হয়।  বিভিন্ন বৌদ্ধ গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় ভিন্ন ভাবে তাদের ধর্মগ্রন্থের ভাগ করে ৯টি বা ১২ টি অঙ্গ বা ৩টি পিটক। তিনটি পিটক বা সংকলকে একসাথে ত্রিপিটক বলা হয় । এই ত্রিপিটকের পালি, চৈনিক ও তিব্বতীয় সংস্করণ রয়েছে। পালি (মগধ ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন ভাষাকে নিয়ে গঠিত) ভাষায় রচিত থেরবাদী সম্প্রদায়ের ত্রিপিটকই সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। ত্রিপিটক তিনটি গ্রন্থে বিভক্ত – সূক্ত পিটক, বিনয় পিটক এবং অভিধর্ম পিটক। ত্রিপিটক রচনার সময়কাল বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুসারে সূত্ত ও বিনয় পিটক বুদ্ধের জন্মের এক বছর পর রাজগৃহের প্রথম বৌদ্ধ - মহাসঙ্গীতি এবং ১০০ বছর পর বৈশালী নগরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৌদ্ধ মহাসঙ্গীতিতে পাঠ করা হয়েছিল। তবে পন্ডিতগণ মনে করেন যে সূত্র ও বিনয় পিটকের রচনা খ্রিস্ট পূর্ব পঞ্চম শতকে শুরু হলেও তা খ্রিস্ট পূর্ব তৃতীয় শতকে অশোকের রাজত্বকালেও সংকলিত হয়েছিল খুদ্দক নিকায়ের প্রায়াংশ খ্রিস্ট পূর্ব তৃতীয় শতকে রচি...

ভারতে প্রত্নতাত্ত্বিক চর্চায় স্যার আলেকজান্ডার কানিংহামের ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা কর

ভারতে প্রত্নতাত্ত্বিক চর্চায় স্যার আলেকজান্ডার কানিংহামের ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা কর    ভারতে প্রত্নতাত্ত্বিক চর্চার উদ্ভব ও বিবর্তনের পথে এক দিকপাল হলেন স্যার আলেকজাণ্ডার কানিংহাম – ঊনবিংশ শতকের মধ্যভাগে তিনিই ভারতে প্রথম ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও চর্চাকে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিগত রূপ প্রদান করেন। তিনিই প্রথম সমগ্র উপমহাদেশ জুড়ে এক ব্যাপক প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সৌধগুলির প্রত্নতাত্ত্বিক বিবরণ তৈরি এবং সেগুলিকে সংরক্ষণের উপর জোর দেন।    ১৮৬১-এর নভেম্বর মাসে তিনি বড়লাট ক্যানিংকে একটি চিঠিতে লেখেন যে ভারতের ব্রিটিশ সরকার এই দেশের ঐতিহ্যবাহী সৌধগুলিকে রক্ষা করার বিষয়ে কোনো সদর্থক ভূমিকাই গ্রহণ করেনি। পাশাপাশি তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে এই সৌধগুলি কালের অমোঘ নিয়মে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে এবং এই সৌহগুলির যথাযথ প্রত্নতাত্ত্বিক বিবরণ বা ম তৈরি অত্যন্ত জরুরি। কানিংহামের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ক্যানিং সিদ্ধান্তে নেন যে উলা ভারতের ঐতিহাসিক সৌধগুলিকে অনুসন্ধান করে সেগুলিকে যথাযথ প্রত্নতাত্ত্বিক দ্ধিতিতে লিপিবদ্ধ করা হবে এবং এই কাজ আলেকজান্ডার কানিংহ...

গুহা শিল্পকলার উপর একটি সংক্ষিপ্ত টিকা লেখ

  গুহা শিল্পকলার উপর একটি সংক্ষিপ্ত টিকা লেখ ভূমিকা:   প্রাচীন মানুষের বসবাসের এমন বহু গুহা আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলিতে প্রচুর চিত্র অঙ্কিত আছে, এগুলিকে গুহাচিত্র বলা হয়। গুহার অভ্যন্তরস্থ দেওয়ালে আদি-মানব নিজের খেয়ালে মনের ভাব-ভাবনার রূপ দেয় চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে। বিষয়বস্তুতে জীবজন্তুর, বাইসন, গণ্ডার, হরিণ, হাতি-ঘোড়া ইত্যাদির প্রাধান্য ছিল। এযুগের শিল্পীরাও রঙ হিসেবে রঙিন মাটি, গেরি মাটি, চুন, পোড়া কাঠকয়লা ইত্যাদির সাথে প্রাণীর চর্বি মিশিয়ে ব্যবহার করত। ঘোড়ার কেশর বা কোনো চতুষ্পদ প্রাণীর লেজের লোম দিয়ে তুলি বানাতো। এছাড়া পশুর চ্যাপ্টা হাত বা চ্যাপ্টাকৃতি পাথরের চওড়া ফলকে রঙ গোলার কাজ করত।  প্রস্তর যুগে সারা ভারতে অন্তত ৭০০ স্থানে কোথাও একটি, কোথাও একাধিক গুহাশ্রয় আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলিতে আদিমানব বসবাস করত। ঐতিহাসিক যুগের প্রারম্ভ আজ থেকে তিন-চার হাজার বছর পূর্বে। এইযুগেও মানুষ দল বেঁধে গুহায় থাকত এমন নজির আছে। ভারতবর্ষের প্রাক্‌-ঐতিহাসিক ও প্রায় ঐতিহাসিক যুগের এইসব গুহাচিত্রগুলি হাজার হাজার বছর ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। অজন্তা-পূর্ব যুগের চিত্রকলারূপে এগ...

১৮৫৭ খ্রীঃ মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি ও চরিত্র বিশ্লেষণ কর

১৮৫৭ খ্রীঃ মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি ও চরিত্র বিশ্লেষণ কর  ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ হল আধুনিক ভারত ইতিহাসের এক জলবিভাজিকা। আধুনিক কেম্ব্রিজ ঐতিহাসিকরা মনে করেন সমকালীন ব্রিটিশ ঐতিহাসিকরা ব্রিটিশ রাজের স্বার্থে এই ঘটনার নিরপেক্ষ, পক্ষপাতশূন্য নৈর্ব্যক্তিক বিশ্লেষণ করতে পারেননি। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে পার্লামেন্টে এক বক্তৃতায় রক্ষণশীল দলের নেতা বেঞ্জামিন ডিসরেলি একে জাতীয় অভ্যুত্থান বলে বর্ণনা করেন (a national rising)। এই ঘটনার আধুনিক ব্রিটিশ মূল্যায়ন পাওয়া যায় টমাস আর. মেটকাফের গ্রন্থে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে শুধু সিপাহি বিদ্রোহ বলে ঘটনাটিকে নস্যাৎ করা ঠিক হবে না, আবার একে পুরোপুরি জাতীয় বিদ্রোহও বলা যায় না।   সমকালীন ভারতীয় বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আহমদ খান ও দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাটিকে সিপাহি বিদ্রোহ বলে উল্লেখ করেছেন। এর জাতীয় রূপ বা গণআন্দোলন তাঁরা দেখতে পাননি। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হলে ভি. ডি. সাভারকর এই বিদ্রোহকে স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধ বলে প্রচার করেন। সাধারণভাবে এই বিদ্রোহ সম্পর্কে প্রচলিত মত হল এটি একটি সামন্তপ্রতিক্রিয়া, দেশে...

ইতিহাসে দৃষ্টিগোচর উপাদান বলতে কী বোঝ

  ইতিহাসে দৃষ্টিগোচর উপাদান বলতে কী বোঝ   দর্শনযোগ্য বা দৃষ্টিগোচর উপাদান (Visual Documents) অর্থাৎ যে গুলিকে দেখে সমকালীন ইতিহাস বা নিকটবর্তী কোন সময়ের ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। মূলত প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানগুলি যেমন উৎখননে প্রাপ্ত সস্তূপ দমন হয়রা নগর মটির উপরে প্রাপ্ত স্থাপত্য অঙ্ক যেমন তালেরের বৃহদেশ্বর মন্দির এবং সেই মন্দিরের গানে খোদিত ভাষা, বা রেনেসার সময়কালে দেনেতোয়া, বতিচেরি নিজেসৃষ্ট চিকনা দেন বিএনাদো অঙ্কিত মোনালিসা বাদুরারের ব্যক্তিগত প্রতিকৃতির চে, যে কোন ছবি বা ফটোগ্রাফ, রাগছিল, চান ছবি বা ভিডিও নকশা ও মানচি ইত্যাদি।    সাধারণভাবে , ইতিহাস রচনায় কাজে প্রয়োজনীয় যে সমস্ত উপাদান চোখে দেখা যায় সেগুলিকে দৃষ্টিগোচর  উপাদান বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ফটোগ্রাফ, ফিল্ম, ভিডিও, অঙ্কিত চিত্র, ব্যঙ্গচিত্র, প্রিন্ট, এগুলি ইতিহাসের প্রাথমিক উপাদান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। ফটোগ্রাফ:   দৃষ্টিগোচর উপাদানসমূহের ফটোগ্রাফ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ কোনো ঘটনা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জগত বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী কিংবা কোন ...