Posts

Showing posts from July, 2023

আদি মধ্যযুগের বর্ণ ও জাতি ব্যবস্থা

Image
আদি মধ্যযুগের বর্ণ ও জাতি ব্যবস্থা আদি মধ্যযুগে বর্ণ ও জাতি ব্যবস্থার আপাত মিল থাকলেও দুটি ধারণা সম্পূর্ণ এক নয়। এদের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। বর্ণ চারটি কিন্তু জাতি অসংখ্য হাজার হাজার জাতি কোন না কোন বর্ণের অন্তর্ভুক্ত। প্রাচীন ভারতে বর্ণ ব্যবস্থাকে বিশেষ একক বলে মনে করা হতো। এক বর্ণের মধ্যে অনেক জাতির অবস্থান ঘটতো। ভারতীয় সমাজে বিদেশিদের আগমন এবং বিভিন্ন উপজাতির সমাবেশের ফলে জাতীয় সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ধর্মশাস্ত্র এই সমস্ত জাতিকে বর্ণ সঙ্গর আখ্যা দিয়ে খালি বর্ণ বিভক্ত ও সমাজে সঙ্গী করনের ব্যবস্থা করা হয়। সপ্তম শতকে গড়ার দিকে বর্ণ ও জাতির পার্থক্য ধীরে ধীরে কমে আসে। অধ্যাপক রামচরণ শর্মা, বর্ণ ও জাতির ব্যবস্থার উদ্ভব ও বিকাশ প্রসঙ্গে বলেছেন যে,"বর্ণ ও জাতি বাস্তবে এক ধরনের সামাজিক ভেদাভেদ এর দ্যোতক"। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের পরবর্তীকালে তাম্র শাসন জারি করে ভূমি দানের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। এই জমি ও ক্ষমতা বন্টনের ফলে নতুন সামাজিক গোষ্ঠী ও শ্রেণী গড়ে ওঠে যা প্রচলিত চতুবর্ণ ব্যবস্থা থেকে আলাদা ছিল। গণপতি সম্পাদিত "ময়মত" পুথির অনুবাদে সম্রাট ব্রাহ্মণ নিপতি...

ইতিহাস ও ইতিহাস চর্চার মধ্যে পার্থক্য

Image
ইতিহাস ও ইতিহাস চর্চার মধ্যে পার্থক্য আলোচনা কর। ইতিহাস শব্দটির ব্যুৎপত্তি 'ইতি হ আস' অর্থাৎ অতীতে এরকমই ঘটেছিল। ইতিহাস শব্দটির উদ্ভব গ্রীক শব্দ ইস্তোরিয়া বা 'istoria' থেকে যার অর্থ অনুসন্ধান, অন্বেষণ ও তথ্য। কালানুক্রম মেনে, নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিসরে পরীক্ষিত তথ্যের আলোকে যে অতীতকে ইতিহাস অনুসন্ধান ও অনুধাবন করে তা বস্তুতপক্ষে মানুষের ইতিহাস , মানব সভ্যতার ইতিহাস। বোঝাই যায় যে অতীত ও ইতিহাস এক নয়, ইতিহাস হল অতীতের চর্চা, তথ্য বা উপাদানের উপর ভিত্তি করে অতীতকে দেখা ও তাকে লেখার প্রক্রিয়াকে সাধারণভাবে ইতিহাসচর্চা বলা হয়। ইতিহাস ও ইতিহাস চর্চার মধ্যে পার্থক্য গভীর। নিকট বা সুদূর অতীতকে তুলে ধরার জন্য ইতিহাসচর্চা ও ইতিহাস রচনা শুরু হয়েছিল বহু প্রাচীন কাল থেকেই।  আদিমতম ইতিহাস বা ইতিহাস অনুরূপ রচনার নিদর্শন পাওয়া যায় ব্যালাড জাতীয় ঐতিহ্যবাহী গাথায়, ব্যাবিলনের গিলগামেশ, ভারতের রামায়ন, মহাভারতের মত মহাকাব্যে, মিশরীয়, হিটাইট, অসিরীয়, চৈনিক, ভারতীয় ইত্যাদি অঞ্চলের প্রাচীন শাসকদের উৎকীর্ণ বা লিপিবদ্ধ কাহিনী বা প্রশস্তিতে, ওল্ড টেস্টামেন্টের একাধিক গ্রন্থে ইতিহা...

তৃতীয় বিশ্ব কী। তৃতীয় বিশ্ব কাকে বলে

Image
তৃতীয় বিশ্ব কী। তৃতীয় বিশ্ব কাকে বলে। Q - তৃতীয় বিশ্ব বলতে কী বোঝায় / তৃতীয় বিশ্ব কী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইতিহাসে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিভাষা বা অভিধা হল তৃতীয় বিশ্ব বা  ‘Third World' – এই অভিধাটি রাজনৈতিক/ রাষ্ট্রনৈতিক, আর্থ-সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ১৯৫২ সালে ফ্রান্সের জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ আলফ্রেদ সভে (Alfred Sauvy) আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তৃতীয় বিশ্বের (Tiers Monde ) ধারণাটি প্রচলন করেন এবং তৃতীয় বিশ্ব কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন । সভে ফরাসী বিপ্লবকালে ‘Tiers Monde’র বা ‘Third Estate' সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে 'Third World' কে সম্পৃক্ত করেন এবং বলেন যে ফরাসী বিপ্লবের সময় যেমন থার্ড এস্টেট অনেক কিছু হতে চেয়েছিল তেমনি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিও যুদ্ধোত্তরকালে অনেক কিছু পেতে চেয়েছিল। তাঁর মতে ফরাসী বিপ্লবের সময়কালীন তৃতীয় এস্টেটের ন্যায় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির মধ্যেও বৈপ্লবিক সম্ভাবনা যথেষ্ট মাত্রায় রয়েছে। সাভে আরও বলেন যে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি যেমন শিল্পোন্নত দেশগুলির সঙ্গে যুক্ত নয়, তেমনি সাম্যবাদী শিল্পোন...

Tamheed e iman urdu pdf

Image
Tamheed-e-iman urdu pdf tamheed-e-iman urdu Tamheed ul Iman Urdu Tamhide e iman by Alahazrat Imam Ahmed Raza Khan. Details of book Book Tamheed-e-iman Author Alahazrat Imam Ahmed  Raza Khan Pages 95 pages Language Urdu File Format Pdf File size 23 MB  Tamheed e iman urdu 23 MB https://docs.google.com/uc?export=download&id=1BTJQ-j5ZktRoh30LO_0do9SgTSCFE3nK Book summary اس کتاب میں ہم پڑھیں گے کہ سلام کی تعلیم ایمان پر مبنی ہے، اللہ سے محبت نجات کی شرط ہے، ظالم اور گمراہ کون ہے؟ اہل قبلہ کا صحیح مفہوم، رسول اللہ یا امام کی توہین کرنا اسلام سے باہر ہے، دین اسلام کے تقاضوں کا انکار کرنے والا مسلمان نہیں، مخالفین کے قابل اعتراض بیانات پر مواخذہ اور بہت کچھ اس کتاب میں

পরামর্শদানের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য

Image
পরামর্শদানের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য। Dunsmoor এবং Miller এর মতে পরামর্শদানের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য গুলি হলো-  পরামর্শদান বা Counselling ব্যক্তির আগ্রহ, চাহিদা ও ক্ষমতাগুলি চিহ্নিত করা ও সেই অনুযায়ী তাদের বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হতে সহায়তা করা। ব্যক্তির সমস্যা সমাধানের জন্য তথ্য সরবরাহ করা। সমস্যা সমূহের পরিপ্রেক্ষিতে ফলগুলি কি হতে পারে তার নিকট ব্যাখ্যা করা। ব্যক্তির সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়েজনীয় তথ্য সরবরাহ করা। ব্যক্তির মধ্যেকার দুর্বলতা ও সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করা এবং সমস্যা সমাধানের জন্য পরিকল্পনা প্রদান করা। পরামর্শগ্রহীতাকে তার নিজের সমস্যাসমাধানের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণে ও রূপায়ণে সহায়তা করে। পরামর্শগ্রহীতার সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করা এবং পরামর্শ গ্রহীতার বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করা। পরামর্শ গ্রহীতা হলো শিক্ষার্থীর মত তাই পরামর্শগ্রহীতাকে সহজ ভাষায় বোঝানো। ব্যক্তির মানসিক ক্ষমতাকে চাঙ্গা করে তোলা। ব্যক্তি যেনো সাধারণ মানসিক ক্ষমতা থেকে বিশেষ মানসিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। ব্যক্তির অন্তর্দৃষ্টি জাগরণে সহায়তা করা। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে অমিল কমানো এবং জনশক্তির দক্...

টীকা লেখ - ইউ এন রায় অ্যান্ড সন্স

Image
টীকা লেখ  ইউ. এন. রায় অ্যান্ড সন্স । ভূমিকা  বাংলার মুদ্রণশিল্পের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য নাম হল উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরি (১৮৬৩-১৯১৫ খ্রি.)। সাহিত্যিক, চিত্রকর, প্রকাশক ও সুরকার উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন প্রকৃতপক্ষে বাংলা ছাপাখানার অগ্রপথিক। মুদ্রণ শিল্প অগ্রগতির ক্ষেত্রে তার ইউ রায় অ্যান্ড সন্সের ভূমিকা লক্ষ করা যায় । ইউ. এন. রায় অ্যান্ড সন্স যোগীন্দ্রনাথ সরকারের সিটি বুক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত উপেন্দ্রকিশোরের প্রথম বই 'ছেলেদের রামায়ণ' প্রকাশিত হয়। বইটির জন্য তিনি বেশ কিছু ছবিও আঁকেন। বইটি বেশ দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু বইটির মুদ্রণ উপেন্দ্রকিশোরকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এরপর ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে বিদেশ থেকে আধুনিক উন্নত মুদ্রণযন্ত্র এনে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী কলকাতার শিবনারায়ণ দাস স্ট্রীটে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন । ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে এর নামকরণ হয় ইউ. এন. রায় অ্যান্ড সন্স । এটি ইউ. এন. রায় অ্যান্ড সন্স  নামে পরিচিত। ছাপাখানার সঙ্গে ছবি আঁকার একটি স্টুডিও খোলেন। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরি ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ছাপাখানার কাজ ও ছবি এনগ্রেভ করা সম্বন্ধে উপেন্দ্রকিশোর রায়...

সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল

Image
সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল। সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ সাঁওতালরা ছিল কৃষক। সাঁওতাল বিদ্রোহের আদি নাম ছিল খেরওয়ার হুল । আঠারো শতকের দ্বিতীয়ভাগে পূর্ব ভারতের কটক, ধলভূম, মানভূম, বরাভূম, পালামৌ, ছোটোনাগপুর, হাজারিবাগ, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও বীরভূম থেকে সাঁওতালরা রাজমহল পাহাড়ের পাদদেশে ভাগলপুর ও বীরভূম অঞ্চলে সাঁওতালরা বসতি স্থাপন করে। এই অঞ্চলের সাঁওতালি নাম হল দামিন-ই-কোহ (দামিন-ই-কোহ শব্দের অর্থ পাহাড়ের পাদদেশ) । এই অঞ্চলে ব্রিটিশ সরকার ভূমি বন্দোবস্ত করেছিল, আশপাশে জমিদারি বন্দোবস্ত ছিল, এখানে ছিল ইজারাদারি ব্যবস্থা। এখানে ১৪৭৩টি গ্রাম ছিল যেগুলিতে বাস করত ৮২,৭৯৫ জন সাঁওতাল। এখানকার খাজনা ছিল মাত্র দু'হাজার টাকা, বিদ্রোহের আগে এখানকার খাজনা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৪৩,৯১৮ টাকা, অর্থাৎ বাড়ানো হয়েছিল ২২ গুণ। এই অঞ্চল পরবর্তীকালে সাঁওতাল পরগনা নামে পরিচিত হয়। সাঁওতাল বিদ্রোহের ওপরে যাঁরা গবেষণা করেছেন তাঁরা সকলে জানিয়েছেন যে,  সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণ হল অর্থনৈতিক। সাঁওতাল কৃষক প্রচণ্ড পরিশ্রম করে যে ফসল ফলাত মহাজনরা নানা কৌশলে তা আত্মসাৎ করে নিত। ঋণ নেবার সময় সাঁওতালদের চুক...