Posts

Showing posts from December, 2022

ইতিহাসে প্রগতির ধারণা বলতে কী বোঝ

Image
ইতিহাসে প্রগতির ধারণা বলতে কী বোঝ/বোঝা? ইতিহাসে প্রগতির ধারণা বলতে বোঝায় মানুষের ক্ষমতা ও সম্ভাবনার বিপুল বিস্তার। ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা ও মূল্যবোধ উভয় প্রক্রিয়ার সংমিশ্রণের ফলে প্রগতির উদ্ভব ঘটে। ইতিহাসে প্রগতির ধারণা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ একই শৃঙ্খলে আবদ্ধ। ইতিহাসে প্রগতির ধারণা ইতিহাসে প্রগতির ধারণা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল - উনিশ শতকে ইংল্যান্ডের ধনসম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে। ঐতিহাসিক গিবন, ইতিহাসে প্রগতির ধারণা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “প্রতিটি যুগেই মানুষের সম্পদ, শক্তি, জ্ঞান বৃদ্ধি পাচ্ছে”। ইতিহাসে প্রগতির ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে দিয়ে প্রাউডহন লিখে “Eternal God and finite man are definite rivals in an Irreconciable competition, the prize of which is progress"। তিনি আর লিখছেন “God is the evil.....the Christian God is depriving man of his own creative power and precision. The first duty of a free and intelligent man is to chase the idea of God out of mind and conscience. incessantly... we attain to science in site of Him, to well-being in spite of Him,...

পাবনা বিদ্রোহের প্রতি বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা কর

Image
পাবনা বিদ্রোহের প্রতি বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা কর। Q - পাবনা বিদ্রোহের প্রতি বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের দৃষ্টিভঙ্গি , অথবা অবদান/ ভূমিকা ব্যাখ্যা কর। 1873 খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত পাবনার কৃষক বিদ্রোহের কারণ, চরিত্র, প্রকৃতি, প্রভৃতি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিকদের মধ্যে তীব্র মতভেদ রয়েছে। তবে পাবনা বিদ্রোহ যে জমিদার বিদ্রোহী এই বিদ্রোহ যে মূলত সম্পন্ন ও বার্ধষ্ণু কৃষক বা জোতদার শ্রেণীর বিদ্রোহ তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কোন মত বিরোধ নেই। পাবনা বিদ্রোহে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন - ড: কল্যাণ কুমার সেনগুপ্ত, বিনয় চৌধুরী ও সুপ্রকাশ রায় । পাবনা বিদ্রোহের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা নিম্নে আলোচনা করা হলো। পাবনার কৃষক বিদ্রোহ পাবনার বিদ্রোহের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধিকাংশ ঐতিহাসিকই জমিদার শ্রেণীর শোষণ অত্যাচারের কথা উল্লেখ করেছেন। এই শোষণ ও অত্যাচারের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো যথেষ্ট কর বৃদ্ধি। 1793-1872 সালের মধ্যে করের বোঝা বেড়েছিল সাত গুণ। 1859 সালের দশম আইনকে আগ্রহ করে জমিদারেরা কৃষকদের কাছ থেকে বর্ধিত কর আদায় করত। পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার ইউসুফশাহী পরগন...

নির্দেশনার প্রকারভেদ গুলি আলোচনা কর

Image
নির্দেশনার প্রকারভেদ  নির্দেশনার প্রকারভেদ গুলি হল শিক্ষামূলক নির্দেশনা: যে নির্দেশনা ব্যক্তিকে তার শিক্ষা জগতের সঙ্গে অভিযোজন এর সাহায্য করে তাকে শিক্ষামূলক নির্দেশনা বলা হয়। নির্দেশনার প্রকারভেদ  বৃত্তিমূলক নির্দেশনা: ব্যাপক অর্থে নির্দেশনা ব্যক্তিকে তার বৃত্তি জগতের অভিযোজনের সাহায্য করে তাকে বৃত্তিমূলক নির্দেশনা বলে। বৃত্তি সম্পর্কে যে নির্দেশনা দেখা যায় সেগুলি হল- বৃত্তি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ এবং তা শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোথায় কি ধরনের বৃত্তির সুযোগ সুবিধা আছে। কোন বৃত্তিতে কি ধরনের গুণাবলীর প্রয়োজন বৃত্তি পছন্দ ও প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন পাঠক্রম। বৃত্তিতে প্রবেশ এবং বৃত্তিতে উন্নতির জন্য সহযোগিতা। শিক্ষার্থীকে তার বৃদ্ধির প্রবণতা আগ্রহ সম্পর্কে সচেতন করা যার সাহায্যে সে নিজের উপযুক্ত বৃত্তি গ্রহণ করতে পারে। বৃত্তিকালীন কোন সমস্যা সমাধানে উপায় নির্ধারণে। বৃত্তিতে উন্নতি বৃত্তিতে অভিযোজন। সামাজিক নির্দেশনা:  পারস্পারিক মেলামেশা ও আদান-প্রদান সকলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সামাজিক পরিবর্তনে অংশগ্রহণ করা অর্থাৎ সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে সার্থক অভিয...

রোমান ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।রোমান ঐতিহাসিকগণের পদ্ধতিগত দিকগুলি আলোচনা করো

Image
রোমান ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। এই প্রসঙ্গে রোমান ঐতিহাসিকগণের পদ্ধতিগত দিকগুলি আলোচনা করো ইতিহাস প্রবহমান। আবহমানকাল ধরে সে বিভিন্ন ঘটনার সাক্ষী। ইতিহাস তথ্যনির্ভর। কিন্তু তথ্যের নিজস্ব কোনো ভাষা নেই। ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনাবলিকে ভাষা প্রদান করা ঐতিহাসিকের প্রধান কর্তব্য। সেই যুক্তি অনুসারে ইতিহাস ও ঐতিহাসিক একে অপরের পরিপূরক। ঐতিহাসিক মূলত ইতিহাসের ব্যাখ্যাকার (Interpreter of History) এবং তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাগুলিকে মূর্ত রূপ দেওয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টা করেন। রোম তথ্যনির্ভর এবং ঐতিহাসিক ঘটনার সঠিক ও কালদর্শী যুক্তিসংগত বিন্যাস (Logical Chronological Sequence) পশ্চিমের ইতিহাস বীক্ষণের এক প্রধান বৈশিষ্ট্য। পশ্চিমের ইতিহাসচর্চার সঙ্গে প্রাচীন ভারতবর্ষের ইতিহাস বীক্ষণের একটি গুণগত পার্থক্য অবশ্যই লক্ষণীয়। প্রাচীন ভারতে যেখানে ইতিহাস ছিল বৃত্তাকারধর্মী (Cyclic), সেখানে পশ্চিমের ইতিহাস ছিল সরলরেখাঙ্কিত (In Linear Sequence) এবং অধিক সাবলীল। পশ্চিমের ইতিহাসচর্চায় ঘটনার প্রবহমানতার ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে পশ্চিমের ইতিহাস বীক্ষণের ক্রমবিকাশে...

১৮১৩ সালের সনদ আইনের ৪৩ নং ধারা অনুযায়ী মেকলের মন্তব্য কী ছিল

১৮১৩ সালের সনদ আইনের ৪৩ নং ধারা অনুযায়ী মেকলের মন্তব্য কী ছিল ? Ans– টমাস ব্যারিংটন মেকলে ছিলেন বড়োলাট লর্ড বেন্টিঙ্ক-এর আইন পরিষদের সদস্য ও শিক্ষা কমিটির সভাপতি। ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব যখন চরমে পৌঁছোয়, তখন বড়োলাট বেন্টিঙ্ক মেকলেকে ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে GCPI বা General Committee of Public Instruction -এর সভাপতি নিযুক্ত করেন। লর্ড বেন্টিঙ্ক  ১৮১৩ সালে সনদ আইনের ৪৩ নং ধারা অনুযায়ী মেকলে-কে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এগুলি হল – [1] 'সাহিত্য' ও 'শিক্ষা'-র সংজ্ঞা 'সাহিত্য' বলতে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য উভয় প্রকার সাহিত্যকে বোঝানো হয়েছে এবং শিক্ষিত ভারতীয় বলতে শুধুমাত্র প্রাচ্য শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিদেরই বোঝায় না, যাঁরা জন লকের দর্শনে, মিলটনের কবিতায় ও নিউটনের পদার্থবিদ্যায় পারদর্শী। [2] শিক্ষার উদ্দেশ্য ও পাঠ্যক্রম শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার। পাঠ্যক্রমে তাঁদেরও বোঝায়। থাকবে পাশ্চাত্য দর্শন, বিজ্ঞান, ইতিহাস প্রভৃতি। [3] অর্থের অপচয় রোধ প্রাচ্য শিক্ষাদানের প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ করে দিতে হবে। এভাবে অর্থের অপচয় বন্ধ করা যাবে ...

ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের ফলাফল

Image
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এর ফলাফল বিশ্লেষণ কর।  ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলা, বিহারের অর্থনীতি ও সমাজজীবনকে চুরমার করে দেয়। ইংল্যান্ড এর ব্ল্যাক ডেথ বা কৃষ্ণ মড়কের মতো এই মন্বন্তর ছিল ভয়ংকর সর্বনাশা। বাংলার লক্ষী এই দুর্ভিক্ষে যেন পথের ভিখারিণী তে পরিণত হয়েছিল। বাংলার এক একটি জনসংখ্যা ধ্বংস হয় ও এক তৃতীয়াংশ ভাগ কৃষি জমি অনাবাদি হয়। প্রায় পুরুষের পর বাংলায় লোক সংখ্যা বৃদ্ধি সম্ভাব হয়। গ্রাম বাংলা জনশূন্য শ্মশানে পরিণত হয়। কৃষকের শূন্য ভগ্নদশা গ্রস্থ মাটির কুঠির গুলি একমাত্র বিরাট ধ্বংসের নীরব স্বামী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ভূমিগুলি অনাবাদী হয়ে আগাছা ও জঙ্গলে ভর্তি হয়। সুজলা সুফলা বাংলা অকস্মাৎ একটি মহাশ্মশানে পরিণত হয়। জেমস মিল ও ওয়ারেন হেস্টিংস এর মতে বাংলা, বিহারের মোট তিন কোটি লোকের মধ্যে এক কোটি লোক প্রাণ হারায়। হান্টার এর মতে বাংলা ও বিহারে প্রতি ১৬ জনে একজন লোক মারা যায়।  ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এর ফলাফল ( ৭৬ এর মন্বন্তর ছবি ) ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের ফলাফল সামরিক ও অর্থনৈতিক ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলার কৃষক শ্রেণি শুধু এই দুর্ভিক্ষে ক্ষয় হয়নি, পুরাতন জমিদার পরিব...

সিসিলি অভিযানের বিরুদ্ধে নিকিয়াসের যুক্তি কী ছিল

সিসিলি অভিযানের বিরুদ্ধে নিকিয়াসের যুক্তি কী ছিল? Q- সিসিলি অভিযানের বিরুদ্ধে নিকিয়াসের যুক্তি কী ছিল? সিসিলি অভিযানের বিরুদ্ধে নিকিয়াসের মূল যুক্তি ছিল সিসিলি অভিযান অনুরদর্শিতা হবে। এই অভিযানে এথেন্স লাভবান হবে না। কারণ দূর দেশে যুদ্ধে এথেন্সের যতটা লাভ হবে তার চেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি হবে। করদ রাষ্ট্রে বিরোধ দেখা দিলে স্পার্টা, করিস্থ ও এথেন্সের শত্রুরা এই সুযোগ গ্রহণ করবে। 

Drain of wealth তত্ত্বের প্রবক্তা কারা। তাঁদের বক্তব্যের সারমর্ম কী

‘Drain of wealth' তত্ত্বের প্রবক্তা কারা? তাঁদের বক্তব্যের সারমর্ম কী। Drain of wealth(ড্রেন অফ ওয়েলথ)তত্ত্বের প্রবক্তা কারা। 1857-58 খ্রিস্টাব্দে কোম্পানি থেকে সরাসরি ইংরেজ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর ভারতবর্ষের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভূত পরিবর্তন সাধিত হয়। একদিকে যেমন উড- এর সুপারিশগুলি (Wood's Despatch) কার্যকরী করা হয় এবং ভারতীয়দের গতিবিধির ওপর রাষ্ট্রের নজরদারি (State Surveillane) বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে হোম চার্জ (Home Charge)-এর অছিলায় লন্ডন থেকে ভারতের প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে বহু মাত্রায় সম্পদের নিষ্কাশন ঘটে, যার ধারাবাহিকতা পলাশির লুণ্ঠন থেকে লক্ষ করা যায়। সম্পদ নিষ্কাশনের এই প্রক্রিয়াকে ঐতিহাসিকগণ ড্রেন অফ ওয়েলথ (Drain of wealth) বলে অভিহিত করে থাকেন। Drain of wealth তত্ত্বের প্রবক্তা দাদাভাই নওরোজি (Dadabhai Naoroji)। তাঁদের বক্তব্যের সারমর্ম । ঔপনিবেশিক যুগে ভারতীয়দের ওপর অর্থনৈতিক শোষণের আরও অনেক দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ ভারতীয়দের ওপর উচ্চ মাত্রায় কর আরোপ, ভারতে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর ওপর বৈষম্যমূলক শুল...

অ্যানাব্যাপটিস্ট কারা ছিলেন

অ্যানাব্যাপটিস্ট কারা ছিলেন ? উত্তর: ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমার্ধে পূর্ব ইউরোপে একটি র‍্যাডিক্যাল রিফরমিস্ট গোষ্ঠী অ্যানাব্যাপটিস্ট নামে পরিচিত ছিল। এদের নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাস, উপাসনা পদ্ধতি ও চার্চ ব্যবস্থা ছিল না। এরা পোপতন্ত্রকে স্বীকার করত না। এরা ব্যাপটিজম সহ সমস্ত আচার অনুষ্ঠানের বিরোধীতা করত, এদের অ্যানাব্যাপটিস্ট বলা হত। নেদারল্যান্ড ও মুনস্টার ছিল এই গোষ্ঠীর প্রধান কেন্দ্ৰ ।

উনিশ শতকে বাংলা গানের উদ্ভব ও বিকাশ

Image
উনিশ শতকে বাংলা গানের উদ্ভব ও বিকাশ। দুশো বছরের ও আগে প্রথম বাংলা নাটকের লেখক লেবেদেফ বাঙ্গালীদের চরিত্র সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছিলেন যে, বাঙালিরা ভালোবাসে গান আর ভাঁড়ামি। কিন্তু গানের প্রতি তাদের ভালোবাসা থাকা সত্বেও প্রাচীনকালের বাংলা গানের উদ্ভব এবং ক্রম - বিকাশের ইতিহাস বাঙালিরা লিখে রাখেননি। কিন্তু গান এ দেশে আগা গোড়াই ছিল। তবে সুর তাল এবং সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্য দিয়ে গান তৈরি হয় আরো পরে। আগে যেমন মানুষের মুখের ভাষার সৃষ্টি হয়েছে ঠিক তেমনি লিখিত ভাষা এবং তার ব্যাকরণ ও গানেরও সৃষ্টি হয়েছে। উনিশ শতকে বাংলা গানের উদ্ভব ও বিকাশ বঙ্গের আদিবাসীরা যে গান গাইতেন তার সুর-তাল এবং তাদের বাদ্যযন্ত্র পরবর্তীকালে কতটা রক্ষা পেয়েছে তা সম্বন্ধে যথাযথ কোন তথ্য প্রমাণ নেই। গোড়ায় আর্যরা কি ধরনের গান এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে এসেছিলাম তারও কোন সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর্যদের ধর্ম যেমন স্থানীয় ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আচার-আচরণের সঙ্গে মিশে একটা নতুন রূপ নিয়েছিল ঠিক একইভাবে সঙ্গীতের ক্ষেত্রেও সেই বৈশিষ্ট্য দেখা দিয়েছিল। আর্যদের সংগীতের সঙ্গে স্থানীয় আদিবাসীদের সংগীতের সংযোগ ও সমন্বয় ...

সমাজতত্ত্বের পরিধি সম্পর্কে আলোচনা করো

Image
সমাজতত্ত্বের পরিধি সম্পর্কে আলোচনা করো অথবা, শিক্ষার সমাজতত্ত্বের পরিধি আলোচনা কর। উদ্দেশ্য অন্য সকল বিষয়ের ন্যায় শিক্ষার সমাজতত্ত্বের পরিধি  সম্বন্ধে জানার পূর্বে তার উদ্দেশ্যগুলির চিহ্নিতকরণ প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যগুলিকেই সমাজতাত্ত্বিক শিক্ষার পরিধি -কে সীমায়িত করে। এগুলি নিম্নরূপ— সমাজতত্ত্বের পরিধি সামাজিক রীতিনীতি ও মতাদর্শের প্রতিফলনের স্থান হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা উপলব্ধি করা। সামাজিক উন্নতির সহায়ক হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তব্য নিরূপণ করা। শিক্ষকের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকৃতি সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞানলাভ। বিভিন্ন প্রকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপযোগী সামাজিক আদর্শ নিরুপণ করা। পাঠক্রমের প্রকৃতি সামাজিকীকরণ ঘটানো। শিক্ষায় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের ধারা চিহ্নিতকরণ। শিক্ষাক্ষেত্রে এই ধারার আবার সমাজের উপর কী প্রভাব তা অনুধাবন করা। পরিধি  উপরোক্ত উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে সমাজতত্ত্বের পরিধি সম্বন্ধে নিম্নলিখিত উক্তিগুলি যথার্থ— আরো পড়ুন - সমাজতত্ত্বের প্রকৃতি আলোচনা করো সামাজিক উপকরণের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রভাব । সামাজিক গঠন ও চালিকা শক্তির প্রভাবকগুলির শিক্ষাক্ষেত্রে...

সমাজতত্ত্বের প্রকৃতি আলোচনা করো

Image
সমাজতত্ত্বের প্রকৃতি আলোচনা করো। অথবা, শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্বের প্রকৃতি। শিক্ষার সমাজতত্ত্বে সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন তত্ত্বগুলি শিক্ষার ক্ষেত্রে উপযুক্তভাবে প্রযুক্ত হওয়ার পথনির্দেশ পায়। কোনো কোনো সমাজবিজ্ঞানীর মতানুযায়ী সমাজতাত্ত্বিক শিক্ষা হল সমাজবিজ্ঞানেরই একটি শাখা, যেখানে সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন তত্ত্বের সাহায্যে শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যাসমাধানের চেষ্টা করা হয়ে থাকে। Emile Durkheim-এর মতে: সমাজতাত্ত্বিক শিক্ষা হল “Systematic Study of Sociological perspectives”; অর্থাৎ শিক্ষার সমাজতাত্ত্বিক ক্ষেত্রগুলির সুসংবদ্ধ অধ্যয়ন। সমাজতাত্ত্বিক শিক্ষা শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজের মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে তা যথাযথভাবে বুঝতে সহায়ক হয়। সমাজতাত্ত্বিক শিক্ষার মূল উপজীব্য হল সমাজের বিভিন্ন উপাদানগুলির মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া কীভাবে শিক্ষাকে প্রভাবিত করে তা উন্মোচিত করা। প্রকৃতিগতভাবে বলা যায় এটি শিক্ষাবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর প্রয়োজন ও সম্পর্কভিত্তিক সংমিশ্রণে তৈরি নতুন এক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি। এর আলোচনায় বারবার শিক্ষাক্ষেত্রে এর প্রয়োগের দিকটিই অধিক গুরুত্ব পায়। এক্ষেত...

শিক্ষা ও সমাজতত্ত্বের মধ্যে সম্পর্ক

Image
শিক্ষা ও সমাজতত্ত্বের মধ্যে সম্পর্ক আলোচনা করো। শিক্ষা ও সমাজতত্ত্ব পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্ক যুক্ত।  শিক্ষাবিজ্ঞান ও সমাজতত্ত্বের একই উৎস দর্শনশাস্ত্র। সমাজতত্ত্ব হল সমাজ সম্পর্কিত বিশেষ জ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান হল তার চালিকাশক্তি। আধুনিক শিক্ষার কাজ হল একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ তৈরি করা। একজন মানুষ এই সমাজের মধ্যে থেকেই তার পরিপূর্ণতার বিকাশ ঘটায়। শিক্ষা ও সমাজতত্ত্বের মধ্যে   সমাজতত্ত্ব ব্যক্তিকে সামাজিকীকরণের পাঠ দেয়, শিক্ষাবিজ্ঞান সেই পাঠকে মানুষের জীবনে গতিশীল ও সক্রিয় করে তোলে। সমাজ ও ব্যক্তি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শিক্ষাবিজ্ঞানের ধারায় মানুষ সমাজে যেমন দক্ষ ও আদর্শ হয়ে ওঠে, তেমনি এই দক্ষ মানুষই সমাজকে সচল ও আধুনিক করে তোলে। এখানে ব্যক্তি ও সমাজ একই মুদ্রার দুটি পিঠ। শিক্ষা ও সমাজতত্ত্বের মধ্যে সম্পর্ক সমাজতত্ত্ব + শিক্ষাবিজ্ঞান = শিক্ষামূলক সমাজতত্ত্ব সমাজ + ব্যক্তি = আদর্শ সমাজে দক্ষ ব্যক্তি  এই সমাজে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে একক মানুষ কখনোই সাফল্য লাভ করতে পারে না। প্রয়োজনের তাগিদে তাই একদিন সেই মানুষ দলগঠন করেছিল যার পরিণতি আজকের সমাজ। এখানে...

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় মুদ্রার গুরুত্ব আলোচনা করো

Image
ইতিহাস রচনার উপাদান রূপে মুদ্রার গুরুত্ব Q- প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় মুদ্রার গুরুত্ব অথবা, প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় মুদ্রার গুরুত্ব আলোচনা করো। ভূমিকা : বি নিময়ের মাধ্যম রূপে ব্যবহৃত হলেও প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার উপাদান হিসাবে   মুদ্রার গুরুত্ব বা মুদ্রা উপযোগী ভূমিকা গ্রহণ করে। মুদ্রা থেকে কোন বিশেষ কাল ও স্থান বা সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে প্রচুর তথ্য লাভ করা যায়। মুদ্রা ও রাজনৈতিক ইতিহাসের তথ্য: মুদ্রা থেকে সমকালীন রাজনৈতিক ইতিহাসের ছবি পাওয়া যায়। মৌর্য সাম্রাজ্যের অবসানের পর ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর পশ্চিম দিকে ইউথাইডিমাস, ডেমেট্রিয়াস, অ্যাপোলোডোটাস, প্যান্টালিওন, অ্যাগাখোক্লেস, ইউক্রেটাইডাস, অ্যান্টিয়ালকিডাস, মিনান্দার প্রমুখ ইন্দো গ্রিক রাজা যে মুদ্রার প্রচলন ঘটিয়েছিলেন তা থেকেই ঐ রাজাদের নাম, উপাধি এবং শাসনকাল সম্পর্কে জানা যায় এই ইতিহাস জানার অন্য কোন উপাদান বিশেষ নেই। ইতিহাসের উপাদান হিসেবে মুদ্রার গুরুত্ব খ্রিস্টীয় প্রথম দুই শতকে গুজরাট ও পশ্চিম দাক্ষিণাত্যকে কেন্দ্র করে শক ও সাতবাহনদের যে প্রবল রাজনৈত...

বাংলার উপর ভারত বিভাগের সামাজিক প্রভাব

Image
বাংলার উপর ভারত বিভাগের সামাজিক প্রভাব ব্যাখ্যা কর। 1947 এ এ স্বাধীনতার আন্দোলনের সঙ্গে একইসঙ্গে এসেছিল দেশভাগের বিষাদ। যে বিষাদের মধ্যে মিশেছিল হিংসা, হানাহানি, দাঙ্গার ভয়াবহতা, স্বজন হারানোর কান্না, ঘরবাড়ি হারানোর অসহায়তা, উদ্বাস্তু হয়ে অন্যের দয়ায় বেঁচে থাকার নির্মম ও নিষ্ঠুর স্মৃতি। বলাবাহুল্য উপমহাদেশের পশ্চিমে পাঞ্জাব ও পূর্ব দিকে দ্বিখন্ডিত বাংলার উপর ভারত বিভাগের সামাজিক প্রভাব এর স্মৃতি ছিল সব থেকে ভয়াবহ বাংলা ও বাঙালির সমাজ ও সংস্কৃতিতে তার প্রভাব অবর্ণনীয়। সরকারি নথিপত্র স্মৃতিকথা ও তথ্যউপাদান এবং নানা সময়ে প্রকাশিত পত্র পত্রিকা থেকে এই নিষ্ঠুর বাস্তবের কিছু বিবৃতি খন্ডাকার।  বাংলার উপর ভারত বিভাগের সামাজিক প্রভাব   বাংলার উপর ভারত বিভাগের সামাজিক প্রভাব দেশভাগ এক নিদারুণ মানব বিপর্যয়ের আখ্যান। এই বিপর্যয় দায়ী সকলেই উপনিবেশিক শক্তিরূপে দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্রিটিশ সরকার রাষ্ট্রনৈতিক ক্ষমতা অর্জনকারি নবগঠিত ভারতীয় ও পাকিস্তানী সরকার এবং সর্বোপরি ভারতে বসবাসকারী হিন্দু মুসলিম শিক ধর্মাবলম্বী সেই সকল মানুষগণ যারা দাঙ্গা করার সময় বা হিংসাত্মক ঘটনায় লিপ্ত হব...

শিখনের প্রকৃতি আলোচনা করো

Image
শিখনের প্রকৃতি আলোচনা করো । যে শিখন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং পরিবর্তনশীল, পরিবেশকেন্দ্রিক ও চিরদিনের উদ্দেশ্যমূলক প্রক্রিয়া, যে শিখন আয়সক্রিয়তামূলক বিকাশের এক অন্যতম প্রক্রিয়া, সেই জটিল প্রক্রিয়া সম্বন্ধে জানতে হবে। তা ছাড়া শিখনের সঙ্গে অন্যান্য সমপর্যায়ের মানসিক প্রক্রিয়ার পার্থক্য নিরূপণ করাও দরকার। শিক্ষাবিদ গ্যাগনে শিখনের প্রকৃতি যেভাবে বিশ্লেষণ করেছেন তা নিন্মে  আলোচনা করা হল- [1] শিখন ও পরিবেশ:  পরিবর্তনশীল জগতের পরিবর্তনশীল পরিবশের সঙ্গে সংগতিবিধান করতে হলে শিখনের প্রয়োজন হয়। পরিবেশ যদি তার প্রতিধর্ম হারিয়ে ফেলে তাহলে শিখনের ক্ষেত্রেও স্থবিরতা পরিলক্ষিত হবে। শিখনের প্রকৃতি [2] শিখন ও আত্মসক্রিয়তা:  আত্মসক্রিয়তার ফলশ্রুতিতে শিখনের ব্যপ্তি ঘটে। অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে ব্যক্তি আত্মসক্রিয় হয়ে ওঠে, ফলে আচরণের পরিবর্তন ঘটায়। শিখন প্রক্রিয়াই আত্মসক্রিয়তার বিভিন্ন রূপ, বিভিন্ন সময়ে নানারকম ফল দান করে। [3] শিখন ও প্রেষণা: শিখনের অন্যতম প্রকৃতি হল প্রেষণা। মনোবিজ্ঞানী গ্যারেট বলেছেন, Learning is a function of motive incentive condition"...

শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের গুরুত্ব বা তাৎপর্য

Image
শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের গুরুত্ব আলোচনা করো অথবা, শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের তাৎপর্য আলোচনা কর। শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের গুরুত্ব বা তাৎপর্য  [1]মানবসত্তার প্রকৃতি: শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের গুরুত্ব বা তাৎপর্য হলো মানবসত্তার প্রকৃতি। মনোবিজ্ঞান আচরণের বিজ্ঞান হলেও শিশুর আচরণ নির্ভর করে তার সহজাত ক্ষমতা, প্রবণতা ও সামর্থ্যের ওপর। শিক্ষামনোবিজ্ঞানের কাজ হল শিশু যেসব শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা, প্রবণতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, সেসবের প্রকৃতি অনুধাবন করা। [2] ব্যক্তিসত্তার বিকাশ: শিশুর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতার পরিবর্তন ঘটে, পরিবেশের রূপান্তর ঘটে। জন্মসূত্রে প্রাপ্ত ক্ষমতা চিরকাল অবিকৃত বা অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকে না। শুধু তাই নয়, সেইসব পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন করতে গিয়ে শিশুকে তার আচরণেরও পরিবর্তন করতে হয়। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই তার ব্যক্তিসত্তার বিকাশ ঘটে, চরিত্র গঠিত হয়। [3] শিখন প্রক্রিয়া: শিশু কীভাবে শেখে, শিখনের নিয়মাবলি কী, চাহিদার সঙ্গে শিখনের সম্পর্ক কী ইত্যাদি বিষয়ে মনোবিজ্ঞানে যেসব ব্যাপক গবেষণা হয়েছে সেগুলি শিক্ষকের জানা প্রয়োজন। শিক্ষামনোবিজ্ঞান এই সকল তথ্য সরবরাহ করে শিক্ষকের শিক্...

ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে মধ্যবিত্ত শ্রেণি বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে। তাদের ভূমিকা কী ছিল

Image
ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে মধ্যবিত্ত শ্রেণি বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তাদের ভূমিকা কী ছিল?  ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে মধ্যবিত্ত শ্রেণি বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে। ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপটে ইংরেজ সরকারি কর্মচারি, সামরিক ও অসামরিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যবৃন্দ, প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ (Orientalists), পর্যটক প্রমুখ অনুরূপ ধারণা পোষণ করতেন। সপ্তদশ শতকের শেষে ও অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের নির্দিষ্ট কিছু উপকূলবর্তী অঞ্চলে তাঁদের বাণিজ্যিক বসতি (Commercial Settlement) স্থাপন করে। মধ্যবিত্ত শ্রেণি পরবর্তী পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগুলি দুর্গের আকারে ( Fortification) সুরক্ষিত করা হয়। এই স্থায়ী বসতিগুলি (Settlement) হল যথাক্রমে কলকাতা (Fort William), বোম্বে/মুম্বাই (Fort St.. George) এবং মাদ্রাজ ( Fort St. David)। কালক্রমে এগুলি প্রেসিডেন্সি টাউন (Presidency Town) হিসেবে পরিগণিত হয়। প্রেসিডেন্সিগুলি ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র ছিল। এখানে ইউরোপীয় সংস্কৃতির প্রভাব ছিল স্পষ্ট। যদিও Black Town এবং White Town-এর মধ্যে বিস্তর ব্যবধান ছিল, তথাপি সাংস্কৃতিক ও শ...

শিক্ষার সঙ্গে মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক

Image
শিক্ষার সঙ্গে মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক আলোচনা করো শিক্ষার সাথে মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক শিক্ষার সঙ্গে মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। মনোবিজ্ঞানে যেহেতু মানুষের আচরণের সব দিক দিয়ে আলোচনা করা হয়, তাই এর ক্ষেত্রটি অনেক বিস্তৃত। তবে মানুষের বিভিন্ন আচরণের মধ্যে শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান জুড়ে আছে। সেই দিক থেকে বলা যায় যে, শিক্ষাবিজ্ঞানে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান আবশ্যিক। শিক্ষা ও মনোবিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক নীচে ব্যক্ত করা হল-  মনোবিজ্ঞানী পেস্তালৎসি (Pestalozzi) বলেছেন, "আমি শিক্ষাকে মনোবিজ্ঞানসম্মত করতে চাই" মনোবিজ্ঞানী ওয়াটসন (Watson)-এর মতে, "মনোবিজ্ঞান হল মানবীয় আচরণের বিজ্ঞান" শিক্ষা ও মনোবিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক কিন্তু মানুষের সামগ্রিক আচরণের ক্ষেত্র ব্যাপক, শিক্ষালব্ধ আচরণ তার অংশ । মনোবিজ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত, এর প্রধান দুটি শাখা হল —  বিশুদ্ধ মনোবিজ্ঞান ব্যাবহারিক বা ফলিত মনোবিজ্ঞান। আবার ফলিত মনোবিদ্যার অন্যতম শাখা হল শিক্ষা মনোবিজ্ঞান (Educational Psychology), তাই শিক্ষামনোবিজ্ঞানের ওপর মনোবিজ্ঞানের প্রভাব যথেষ্ট, শিক্ষার সাথে মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক গভীর। আবার...

আর্য সমস্যা বিশ্লেষণ করো

Image
আর্য সমস্যা বিশ্লেষণ করো Q- আর্য সমস্যা বিশ্লেষণ করো মূলত দুটি বিষয় আর্য সমস্যার সৃষ্টি করেছে—১. ‘আর্য' শব্দ বিষয়ক। অর্থাৎ আৰ্য এই শব্দটি কোনো জাতি অর্থে ব্যবহৃত হওয়া যুক্তিযুক্ত কিনা এবং ২. আর্যদের আদি বাসস্থান সংক্রান্ত। অর্থাৎ যে আর্য সংস্কৃতি সম্পর্কে আমরা সচরাচর গর্ববোধ করে থাকি, সেই আর্যদের আদি বাসভূমি কি ভারত, না ভারতের বাইরের কোনো অঞ্চল থেকে তারা এখানে এসেছিল?  বলাবাহুল্য, এই দুটি আর্য সমস্যাই অত্যন্ত জটিল এবং একটির সঙ্গে অন্যটির সম্পর্ক খুব নিবিড়। আর্য সমস্যা সংক্রান্ত উপরিউক্ত দুটি বিষয়েই পণ্ডিতমহলে বিতর্ক রয়েছে এবং তাঁরা স্পষ্টত পরস্পরবিরোধী দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এর প্রধান কারণ হল, উভয় তরফেই তথ্যের অপ্রতুলতা। ফলে বাদবিতণ্ডা বেড়েছে এবং তা প্রবহমান। আর্য সমস্যা  'আর্য' শব্দটি নির্দিষ্টভাবে প্রাচীনকালে কোনো জাতি অর্থে ব্যবহৃত হত, না একটি নির্দিষ্ট ভাষাগোষ্ঠীর মানুষকে 'আর্য' বলে চিহ্নিত করা হত, আজকের দিনে তা এক কঠিন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে কিংবা তারও কিছুকাল আগে। আর্যদের জাতিত...