Posts

Showing posts from November, 2022

বাংলার লোকসংস্কৃতি সম্পর্কে আলোচনা করো

Image
বাংলায় লোকসংস্কৃতির ওপর একটি নিবন্ধ লেখ অথবা, বাংলার লোকসংস্কৃতি  সম্পর্কে আলোচনা করো । ভূমিকাঃ উনিশ শতকের বাংলায় বিভিন্ন অঞ্চলের বৈষ্ণব ধর্ম মত ও কিছুটা সহজিয়া ও সুফির মতাদর্শে প্রভাবিত বাংলার লোকসংস্কৃতি ও লোকধর্ম সম্প্রদায়ের অস্তিত্বের খোঁজ পাওয়া যায়। এগুলির মধ্যে ছিল সাহেবধনী, বৈষ্ণব সম্প্রদায়, পাগলপন্থী, খুশি বিশ্বাসী সম্প্রদায়। এদিকে ব্রাহ্মণ্যবাদের শাসনের দাপটে নিম্ন বর্ণের মানুষজন ও তাদের মত ও বিশ্বাস হয়েছিল উচ্চবর্ণের কাছে অচ্ছত। উচ্চবর্ণ দ্বারা অবদমিত সামাজিক দিক থেকেহীন বল এই অন্তজ শ্রেণীগুলির মানসিক সংকট আরো গভীর হয়েছিল অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জন্য। অনেকের মতে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক অবমাননার ফলে বহু মানুষ নিরাপত্তার আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের গুরুর পেশায়। এই লোক ধর্ম সম্প্রদায় গুলির কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল যেমন– এই সম্প্রদায়গুলির প্রবর্তক ও বিশ্বাসীরা ছিল সমাজের নিম্ন বর্গের মানুষজন । এরা সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ স্বীকার করত না। কোনরকম ধর্মীয় পুস্তক ও এদের ছিল না। নিজেদের অনুভূতি ও ভাবাদর্শকে এরা ব্যক্ত করতো গান ও দোহার মাধ্যমে। সম...

সপ্তাঙ্গ তত্ত্ব কী

সপ্তাঙ্গ তত্ত্ব কী? Q-  সপ্তাঙ্গ তত্ত্ব কি অথবা,  সপ্তাঙ্গ তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রের হিন্দু রাষ্ট্রব্যবস্থার মূলনীতি বর্ণনা করা হয়েছিল। বলা হয়, হিন্দুরা রাষ্ট্রকে একটি অবয়ব হিসেবে দেখত। এই অবয়বের সাতটি অঙ্গ ছিল  স্বামী (সর্বোচ্চ শাসক)  অমাত্য (মন্ত্রী) পুব (নগর) রাষ্ট্র (গ্রামাঞ্চল) কোষ (কোষাগার) দণ্ড ( শাস্তি বিধায়ক) মিত্র। এগুলি একত্রে সপ্তাঙ্গ তত্ত্ব নামে পরিচিত ছিল।

প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমগুলি সম্পর্কে লেখ

Image
প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমগুলি সম্পর্কে লেখ। Q - প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমগুলি সম্পর্কে লেখ অথবা, প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমগুলি আলোচনা কর  আজ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশিই শিক্ষাক্ষেত্রে কোনো না কোনো প্রযুক্তিগত মাধ্যম ব্যবহার করতে শুরু করেছে। কতগুলি দেশে এর ব্যাপক প্রচলন আছে তবে বেশিরভাগ প্রযুক্তি গত কৌশল এবং কর্মসূচি শিক্ষকের প্রয়োজন কেন্দ্রীক এবং সেগুলি শিক্ষা সহায়ক উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমগুলি অধিকাংশ শিক্ষাবিদ প্রযুক্তির ব্যবহার করেন। এই প্রশ্নটিই সামনে রেখে প্রযুক্তি বিদ্যায় শিক্ষককে কিভাবে সাহায্য করতে পারে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয় ছাত্রদের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে তখন শিক্ষাবিদের সামনে এই প্রশ্নটি এসে যায় প্রযুক্তি বিদ্যা কিভাবে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতে পারে যেখানে শিক্ষার্থী যাকে মনোযোগের কেন্দ্রস্থলে সেখানে প্রযুক্তিবিদ্যা শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। মাধ্যম বলতে কি বোঝায় সে সম্বন্ধে Location এবং Atkinsol এর অভিমত হলো যার সাহায্যে কোন সংবাদ বা তথ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থান বা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি...

দূরশিক্ষা ব্যবস্থায় স্ব-সহায়তা পরিষেবা বলতে কী বোঝায়

Image
দূরশিক্ষা ব্যবস্থায় স্ব-সহায়তা পরিষেবা বলতে কী বোঝায়। Q- দূরশিক্ষা ব্যবস্থায় স্ব-সহায়তা পরিষেবা বলতে কী বোঝায়। দূরশিক্ষায় স্ব-সহায়তা পরিষেবা কী অথবা, দূরাগত শিক্ষার ক্ষেত্রে Self support service সম্পর্কে লেখ। দূরাগত শিক্ষার ক্ষেত্রে স্ব-সহায়তা পরিষেবা বা Self support service খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দূরাগত শিক্ষার একাডেমিক এবং অন্যান্য ক্রিয়াকলাপে এটি বিস্তৃত। দ্রুত শিক্ষার ক্ষেত্রে self support service (স্ব-সহায়তা পরিষেবা) গুলি শিক্ষার্থীদের শিক্ষামূলক বিভিন্ন প্রয়োজনে সক্রিয় থাকে। Self support service এর ক্ষেত্রে দূরত্ব শিক্ষামূলক তিনটি দিকের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় সেগুলি হল – Cognitive or academic organising emotional support. Cognitive or academic: শিক্ষার্থীর জ্ঞানমূলক বা দক্ষতার বিকাশে সহায়তা করে। organising: দূরাগত শিক্ষার সংগঠিত সমগ্র শিখন পরিচালনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে এই পরিষেবা গুলি সহায়তা করে। Cognitive or academic: শিক্ষার্থীদের বৌধিক বিকাশে সহায়তা করে। দূরশিক্ষায় স্ব-সহায়তা পরিষেবা বা Self support service Self support service এর মাধ্যমে দূরাগ...

আদি মধ্যযুগীয় দক্ষিণ ভারতে বণিক সংঘগুলির কার্যকলাপ বিশ্লেষণ কর

Image
আদি মধ্যযুগীয় দক্ষিণ ভারতে বণিক সংঘগুলির কার্যকলাপ বিশ্লেষণ কর Q - আদি মধ্যযুগীয় দক্ষিণ ভারতে বণিক সংঘগুলির কার্যকলাপ বিশ্লেষণ কর অথবা, আদি মধ্যযুগীয় দক্ষিণ ভারতে গিল্ড ব্যবস্থা। ভূমিকাঃ আদি মধ্যযুগের বিশেষ করে খ্রিস্টীয় অষ্টম শতক থেকে ত্রয়দশ চতুর্দশ শতক পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ ভারতে এবং শ্রীলঙ্কায় বণিক সম্প্রদায়ের বেশ কিছু পেশাদারী সংগঠনের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। মূলত দক্ষিণ ভারতীয় লেখাসমূহ এই ধরনের সংগঠন গুলির ইতিহাস নির্মাণের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যদিও বা অনেক ক্ষেত্রে সমকালীন দেশি বিদেশী সাহিত্য থেকে জানা যায়। এই বণিক সংঘগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অয়ভোল বা আয়ভোল , বলঞ্জীয়ার , নানাদেশি, নাগরোত্তর,‌ মনিগ্রামম, ও অঞ্জুবন্নম, কেনেম আর হলো, মিরা আব্রাহাম । নবারু কারাসিমার মতো স্বল্প সংখ্যক গবেষক-ই‌ এই বণিক সংঘ বা গিল্ড  নিয়ে গবেষণা করেছেন। আদি মধ্যযুগীয় দক্ষিণ ভারতে বণিক সংঘ বা গিল্ডঃ  দক্ষিণ ভারতের সব লেখতে সবথেকে বেশি উল্লেখিত বণিক সংঘ হল অয়াভোল, বা ঐন্নুডুভর। অষ্টম শতকের মধ্যভাগে কৃষ্ণা তুঙ্গ ভদ্রা, নদীবতী রায়চুর দোয়াবে, মালপ্রভা নদীর তীরে চালুক্যদে...

টীকা লেখ - পাদ টীকা

Image
টীকা লেখ - পাদ টীকা গবেষক লেখার মধ্যে প্রয়োজনভিত্তিক তথ্যসূত্রে উল্লেখ করে পাদটীকার ( Footnotes/ Endnotes) সাহায্য নিয়ে থাকেন। নিজের মতকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সারণী বা রেখচিত্র বা ডায়েগ্রাম বা ছবি তিনি ব্যবহার করতে পারেন। এবং শেষে তিনি একটি বিস্তারিত গ্রন্থপঞ্জী বা Bibliography ' প্রদান করেন যেখানে তাঁর গবেষণাপত্রে ব্যবহৃত সকল প্রাথমিক উপাদান ও গৌণ উপাদান বা গ্রন্থপঞ্জীর নাম নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও একটি সুদৃশ ও প্রাসঙ্গিক প্রচ্ছদ নির্মাণও এই সজ্জার অংশ। পাদ টীকা বা Footnote অতঃপর সমন্বয়মূলক কাজে তিনি তার লব্ধ বৈধ ও সত্য তথ্যগুলিকে চয়ন করবেন এবং সেগুলিকে যথাযথভাবে অধ্যায় বা বিষয়ভিত্তিক সাজাবেন। এরপর সাজানো তথ্যগুলিকে অনুধাবন, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করে সেগুলিকে নিজের মতানুসারে অর্থবহ রূপদান করবেন। এখানে তিনি যুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে তার সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা করবেন। বৌদ্ধিক অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে গবেষণার বিষয়ে নতুন কোন তত্ত্ব খাড়া করবেন বা কার্যকারণের উপর নির্ভর করে নতুন কোন সূত্র বা নিয়মের প্রতিষ্ঠা করবেন। গবেষণাপত্র তৈরী করার ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত পরিকাঠামো...

ত্রিপাক্ষিক সংগ্রামের কারণ ও ফলাফল এবং তাৎপর্য

Image
ত্রিপাক্ষিক সংগ্রামের কারণ ও ফলাফল এবং তাৎপর্য। Q- ত্রিশক্তি সংগ্রাম নামটি কি তুমি যথার্থ বলে মনে করো অথবা, পাল, গুর্জর প্রতিহার, এবং রাষ্ট্রকূটদের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক দ্বন্দ্ব কিভাবে উত্তর ভারতে শক্তি সাম্যের উপর প্রভাব ফেলেছিল অথবা, ত্রিপাক্ষিক সংগ্রাম সম্পর্কে আলোচনা কর ত্রিপাক্ষিক সংগ্রাম কাকে বলে খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকের শেষার্ধে আর্যাবর্তের প্রাধান্য স্থাপনকে কেন্দ্র করে, পাল, গুর্জর প্রতিহার, এবং রাষ্ট্রকূটদের মধ্যে এক ত্রিপক্ষীয় দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম শুরু হয় যার কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল কনৌজ অধিকার। এটি ত্রিপাক্ষিক সংগ্রাম বা ত্রিশক্তি সংগ্রাম (ত্রিপাক্ষিক দ্বন্দ্ব) নামে পরিচিত । খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকের শেষার্ধে পাল, গুর্জর প্রতিহার, এবং রাষ্ট্রকূটদের মধ্যে ত্রিশক্তি সংগ্রাম হয়েছিল। ত্রিশক্তি সংগ্রাম দুশো বছর (750-950) ধরে চলেছিল।ত্রিশক্তি সংগ্রাম 750 সালে হয়েছিল  ।ত্রিশক্তি সংঘর্ষে অংশগ্রহণকারী তিনটি শক্তি ছিল পাল, গুর্জর প্রতিহার, এবং রাষ্ট্রকূট। ত্রিপাক্ষিক সংগ্রাম কারণ বা প্রেক্ষাপটঃ ত্রিপাক্ষিক সংগ্রামের কারণ ছিল কনৌজ অধিকার। পুষ্যভূতিরাজ হর্ষবর্ধনের সময় থেকেই কনৌজ (কনৌজ...

মারাঠা শক্তির বিকাশে প্রথম তিনজন পেশোয়ার অবদানের মূল্যায়ন কর

Image
মারাঠা শক্তির বিকাশে প্রথম তিনজন পেশোয়ার অবদানের মূল্যায়ন কর। Q- মারাঠা শক্তির বিকাশে প্রথম তিনজন পেশোয়ার অবদানের মূল্যায়ন। ভূমিকাঃ মুঘল সাম্রাজ্যের ধ্বংস স্তুপের উপর যে সমস্ত আঞ্চলিক রাজ্য গড়ে উঠেছিল তার মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল মারাঠা শক্তি। মারাঠা শাসনতন্ত্রে ছত্রপতি সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী হলেও মন্ত্রিপরিষদ যথেষ্ট মর্যাদার অধিকারী ছিল। আর এই মন্ত্রী পরিষদের অন্যতম ছিলেন পেশোয়া বা প্রধানমন্ত্রী। শিবাজীর মৃত্যুর পর মারাঠা রাষ্ট্র সঙ্ঘে ঐকের ফাটল দেখা যায়। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অস্থিরতা মারাঠা রাজ্যকে দুর্বল করে দিয়েছিল। ছত্রপতির পদ নিয়ে দেখা দেয় সমস্যা এবং তাকে কেন্দ্র করেই মারাঠা সরদাররা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে যান। মারাঠা শক্তির বিকাশে প্রথম তিনজন পেশোয়ার অবদানের মূল্যায়ন অযোগ্য উত্তরাধিকারীদের অযোগ্যতার সুযোগে পেশোয়াতন্ত্রের উদ্ভব ঘটে। একদা যে পেশোয়ার কে ছত্রপতি স্বয়ং নিয়োগ করতেন ক্রমে সেই পেশোয়াই মারাঠা শাসনে পরিণত হতো। মৃত্যুর পূর্বে উইল করে সাহু পেশোয়ারকে মারাঠা রাজ্যের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব দান করে দিয়ে যান। পেশন তন্ত্রের অভুত্থান মারাঠাদের শক্তি বৃদ্ধি করলেও তা...

শিক্ষামূলক নির্দেশনার পরিধি

শিক্ষামূলক নির্দেশনার পরিধি সম্পর্কে লেখ। [1] জীবনে প্রায় প্রতিটি শিক্ষামূলক নির্দেশনার পরিধি বিস্তৃত। শিশুর সার্বিক বিকাশে এবং সামাজিক জীবনে শিক্ষামূলক নির্দেশনা গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষামূলক নির্দেশনা কাকে বলে [2] শিক্ষামূলক নির্দেশনা পরিধি ও সুপরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। তাই এক্ষেত্রেও এর পারস্পারিক ব্যাপক বিস্তার গড়ে ওঠে। [3] শিক্ষামূলক নির্দেশনা একটি বিকাশ মুখী প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শিক্ষা সহায়ক বিভিন্ন দিকে সাহায্য লাভের সম্ভাবনা দেখা যায়। [4] শিক্ষামূলক নির্দেশনা সকল শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য। [5] যেকোনো শিক্ষা সম্পর্কিত সমস্যার ক্ষেত্রে অথবা যেকোনো শিক্ষা সম্পর্কিত প্রতিকূল পরিবেশের ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক নির্দেশনা পরিধি বহুমুখীভাবে বিস্তৃত। [6] শিক্ষামূলক নির্দেশনার পরিধি সুবিস্তৃত এবং শিক্ষার্থীর ক্ষমতা ও সামর্থ্য উপর ভিত্তি করে দান করা হয়। যাতে উপযুক্ত নির্দেশনা মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক বোধ নিরপেক্ষতা এবং সমান দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে।

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের কৃতিত্বের মূল্যায়ন কর

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের কৃতিত্বের মূল্যায়ন কর Q– চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের কৃতিত্বের মূল্যায়ন কর সর্বভারতীয় স্তরে এদেশে প্রথম বৃহৎ সাম্রাজ্য হিসাবে মৌর্য সাম্রাজ্যের নাম সুবিদিত এবং এর প্রথম শাসক ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।  চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের কৃতিত্বের মূল্যায়ন ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হতে হলে কয়েকটি প্রারম্ভিক বিষয় আলোচনা করে নেওয়া প্রয়োজন। এগুলি হল, কখন ও কী পরিস্থিতিতে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন, তাঁর বংশ পরিচয় কী ছিল এবং তিনি কীভাবে এই বৃহৎ সাম্রাজ্যের পত্তন (উত্থান)ঘটিয়েছিলেন। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের কৃতিত্বের মূল্যায়ন সিংহাসনে আরোহণ: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ঠিক কবে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন সে বিষয়ে দেশীয় সাহিত্য বিশেষত জৈন ও বৌদ্ধ সাহিত্য এবং গ্রিক ঐতিহাসিকদের বিবরণ আমাদের কিছুটা সাহায্য করে থাকে। জৈনগ্রন্থ পরিশিষ্টপর্বণ-এ দাবি করা হয়েছে যে মহাবীরের সিদ্ধিলাভের একশো পঞ্চাশ বছর পর চন্দ্রগুপ্ত সিংহাসনে বসেন। কিন্তু এই মতের কোনো দৃঢ় ভিত্তি নেই। কারণ, অন্যান্য জৈনসূত্র থেকেই এই তথ্য সমর্থিত হয় না। বৌদ্ধ সাহিত্য অনুযায়ী বুদ্ধদ...

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের জীবনী

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের জীবনী Q- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের জীবনী।  চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের বংশ পরিচয় চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের জীবনী আলোচনার পূর্বে চন্দ্রগুপ্তের বংশ পরিচয় সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। চন্দ্রগুপ্তের বংশ পরিচয় সম্পর্কে দেশীয় ও বিদেশীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত উপরিউক্ত তথ্যগুলি সর্বাংশে সত্য নয়। মুদ্রারাক্ষস গ্রন্থটি ও বিষ্ণুপুরাণের টীকাকার নন্দদের সঙ্গে মৌর্যদের পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর যে জোর নিয়েছেন তা নিশ্চিত বলে মনে হয় না। তা যদি হত তাহলে প্রায় সমসাময়িক গ্রিক লেখক জাস্টিনের বর্ণনায় ঐ বিষয়টি প্রাধান্য পেত। এছাড়া, চন্দ্রগুপ্তের শূদ্র বংশে জন্মগ্রহণের বিষয়টি অন্যান্য বিভিন্ন তথ্য থেকেও সমর্থিত হয় না। এমনকি কিছু কিছু উপাদানে চন্দ্রগুপ্তকে অনেক উঁচু বংশের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।  রাজপুতানার মধ্যযুগের কিছু শিলালেখতে যে ঐতিহ্য লিপিবদ্ধ আছে তা থেকে বোঝা যায় যে মৌর্যর ছিল সূর্যবংশজাত। আবার বেশিরভাগ বৌদ্ধ ঐতিহ্যে চন্দ্রগুপ্তকে ক্ষত্রিয় বংশের সন্তান বলে বর্ণনা করা হয়েছে। মহাবংশে স্পষ্টতই বলা হয়েছে, ক্ষত্রিয় মোরীয় (মৌর্য) গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত। দিব্যবদানে...

উনিশ শতকের বাংলায় অবাঙালি সমাজ সম্পর্কে একটি টীকা লেখ

উনিশ শতকের বাংলায় অবাঙালি সমাজ সম্পর্কে একটি টীকা লেখ। Q- উনিশ শতকের বাংলায় অবাঙালি সমাজ সম্পর্কে একটি টীকা লেখ। উনিশ শতকের বাংলায় অবাঙালি সমাজ। ভূমিকা:  ভারতের মতো বহু ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্বলিত দেশে উনিশ শতকের বাংলা সাংস্কৃতিক বহুত্বতা থেকে ব্যতিক্রম ছিল না রাজনীতি, অর্থনীতি ও ধর্মীয় শক্তির হাত ধরে বহু জাতি ভাষা বা ধর্ম এখানে এসেছে। এখানকার সংস্কৃতিতে রয়েছে সমৃদ্ধ জন্ম দিয়েছে নতুন নতুন ধারণার, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর এমনকি নতুন সামাজিক সত্তার। উনিশ শতকের বাংলায় অবাঙালি  সমাজ বা সামাজিক সত্তার মধ্যে Anglo-Indians মারওয়ারি, পারসীক, আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষা গোষ্ঠীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উনিশ শতকের বাংলায় অবাঙালি সমাজ: সামাজিক সত্তা হিসেবে Anglo-Indians দের উৎপত্তির ইতিহাস বহু পুরনো। এর মূল সূত্রপাত জড়িয়ে আছে পর্তুগিজ ও ভারতীয় রক্তের মিশ্রিত সত্তা mix-indian মধ্যে সূচনা হিসেবে বলা যায় যে গোয়া দমন ও দিউ এর পর্তুগিজ গভর্নর আলবুকার্ক পর্তুগিজদের ভারতীয়দের সঙ্গে বিয়ের যে সুযোগ দিয়েছিলাম তার ফলশ্রুতিতে যে নতুন প্রজন্মের বিকাশ ঘটে তাদের mix-indian বলা হয়।...

দূরাগত শিক্ষার গুণগতমান সম্পর্কে লেখ

দূরাগত শিক্ষার গুণগতমান সম্পর্কে লেখ দূরাগত শিক্ষার ক্ষেত্রে জনগণের একটা বড় অংশ শিক্ষার মানের উন্নতি প্রসার ঘটনার কথা বলে। সাধারণত যেটা দেখা যায় দূরাগত শিক্ষার ক্ষেত্রে গ্রাম শহরের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে দূরাগত শিক্ষার গুণগতমান ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিকের শিক্ষাগত সুযোগের পার্থক্য দেখা যায়। তাই বলা যায় যে দেশের মধ্যে সমস্ত উচ্চমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলির মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থাতে আন্তর্জাতিক গুণমান সম্পন্ন হয় যাতে গ্রাম শহরের প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী দুরাগত শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা ক্ষেত্রে সকলে সমান সুযোগ পায়। শুধুমাত্র উচ্চ স্তরের শিক্ষা নয় দূরাগত শিক্ষার ক্ষেত্রে নিম্নস্তরে শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চ স্তরের শিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার প্রতিটি স্তরেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী যাতে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি প্রথা বহিভূত শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত শিক্ষার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সেই কারণে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে শিক্ষনীয় বিষয়বস্তু গুণগতমান বৃদ্ধি করতে হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে আর্থিক বরাদ্দ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে । সামগ্রিকভাবে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে ও ছাত্র ...

অ্যাটিকার মক্ষিকা কাকে বলা হত এবং কেন

অ্যাটিকার মক্ষিকা কাকে বলা হত এবং কেন? Q- অ্যাটিকার মক্ষিকা কাকে বলা হত এবং কেন। কাকে, কেন অ্যাটিকার মক্ষিকা বলা হত। > গ্রিক সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ট্র্যাজিক কবি ও নাট্যকার সফোক্লিসকে 'অ্যাটিকার মক্ষিকা' বলা হত। প্রায় ৫০ বছর এথেন্সে তিনি নাট্যচর্চায় জীবন অতিবাহিত করেন। ৩০টি নাট্যপ্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ২৪টিতে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। এথেনীয়রা তাঁকে নিয়ে গর্ববোধ করত। এথেনীয়রা তাঁর নাট্যপ্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে ভালোবেসে তাঁর নাম রেখেছিলেন ' অ্যাটিকার মক্ষিকা '।

আমরা historiography কেনো পড়বো

আমরা historiography কেনো পড়বো Q- আমরা historiography কেনো পড়বো। কেন আমরা historiography পড়ব। historiography (হিস্ট্রিওগ্রাফি) বলতে বোঝায় ঐতিহাসিকদের দ্বারা প্রণীত একটি ঘটনার ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা বা বিবরণ। এককথায় বলতে গেলে historiography হলো ইতিহাস চর্চা বা ইতিহাস রচনা। ঐতিহাসিকরা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একটি ঘটনার পর্যালোচনা করেন, নানান অনুসন্ধান চালান, তারপরে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে সেই ঘটনার বিশদ ব্যাখ্যা দেন। অর্থাৎ historiography হলো ঐতিহাসিকদের ব্যাখ্যাকিত ইতিহাস রচনা বা ইতিহাস চর্চা । অতীত ও ইতিহাস এক নয়, ইতিহাস হল অতীতের চর্চা, তথ্য বা উপাদানের উপর ভিত্তি করে অতীতকে দেখা ও তাকে লেখার প্রক্রিয়াকে সাধারণভাবে ইতিহাসচর্চা বলা হয়। নিকট বা সুদূর অতীতকে তুলে ধরার জন্য ইতিহাসচর্চা ও ইতিহাস রচনা শুরু হয়েছিল বহু প্রাচীন কাল থেকেই। প্রাচীন বিশ্বে ইতিহাসচর্চা: আদিমতম ইতিহাস বা ইতিহাস অনুরূপ রচনার নিদর্শন পাওয়া যায় ব্যালাড জাতীয় ঐতিহ্যবাহী গাধায়, ব্যাবিলনের গিলগামেশ ভারতের রামায়ন, মহাভারতের মত মহাকাব্যে, মিশরীয়, হিটাইট, অসিরীয়, চৈনিক, ভারতীয় ইত্যাদি অঞ্চলের প্রাচী...

ইতিহাস দর্শন বলতে কী বোঝায়

ইতিহাস দর্শন বলতে কী বোঝায় Q- ইতিহাসদর্শন কী । ইতিহাস দর্শন কি। ইতিহাস দর্শন বলতে কি বুঝ। ইতিহাস দর্শন বলতে কী বোঝায়। ইতিহাস দর্শন বা Philosophy of History কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন অষ্টাদশ শতকের জ্ঞানদীপ্তির যুগের ফরাসী লেখক Francois- Marie Arouet যিনি ভলতেয়ার নামেই অধিক খ্যাত। তিনি অনুযোগ করেন যে অধিকাংশ লেখকই ইতিহাসকে অতীতের কিছু বিক্ষিপ্ত তথ্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ রূপে লিপিবদ্ধ করেন যা অর্থহীন কারণ তা মনকে আবিষ্ট করলেও আলোকিত করতে পারেনা। বস্তুত তিনি বলতে চেয়েছিলেন যে ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকের একটি লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকবে অর্থাৎ ঐতিহাসিক ইতিহাস রচনার মধ্যে দিয়ে তার বিরবরণের একটি অর্থবহ রূপ তুলে ধরবেন। ইতিহাস হল মানবসভ্যতার অতীতের তথ্যনির্ভর ও যুক্তিনিষ্ঠ চর্চা। অন্যদিকে ইতিহাসের মতো দর্শনও একটি স্বতন্ত্র বিষয় যা মূলত জ্ঞানের প্রকৃতি, বাস্তবতা, অস্তিত্ব, নৈতিকতা ইত্যাদি নিয়ে চর্চা করে থাকে। দর্শনচর্চার মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পায় জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতি ভালোবাসা। বৈজ্ঞানিক চর্চা ও গবেষনার মাধ্যমে যা কিছু প্রত্যক্ষ করা যায় না বা ব্যাখ্যা করা যায়না সেই সকল বিষয়ের উপরেই দ...

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কি

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কি। Q- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কি ব্যাখ্যা করো অথবা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কি class 6, class 7, class 8 অথবা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কাকে বলে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বলতে টেলি যোগাযোগ সম্প্রচার মিডিয়া, বুদ্ধিমান বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, অডিওভিজুয়াল প্রসেসিং এবং ট্রান্সমিশন সিস্টেম এবং নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং নিরীক্ষণের কার্য পরিচালনা করতে ব্যবহৃত সমস্ত প্রযুক্তি বোঝায়। অর্থাৎ তথ্য আদান প্রদান এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে যে প্রযুক্তি আমরা ব্যবহার করি সেটাই ICT বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি । যেমন- মোবাইল, কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইন্টারনেট ইত্যাদি। তথ্যপ্রযুক্তি একটি সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য শিক্ষা যন্ত্র। যা শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকারিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পিত করা হয়েছে। যেমন শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষাদানের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। শিক্ষা ব্যবস্থায় কাজকর্ম দ্রুত ও আকর্ষণীয় করে তোলবার জন্য এবং শিক্ষার্থীদের আধুনিক টেকনোলজিতে দক্ষ করার লক্ষ্যে সারা বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্ত...

দূরাগত শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

দূরাগত শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা Q- দূরাগত শিক্ষার গুরুত্ব আলোচনা করো অথবা, দূরাগত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা। ভূমিকা  বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থায় দূরাগত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা খুবই বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই সে ক্ষেত্রে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থান গ্রহণ করার সুযোগ হচ্ছে না। সেই কারণে দূরাগত শিক্ষার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশের শিক্ষা চিত্র বিশ্লেষণ করলে যে বিষয়গুলি স্পষ্ট হয়ে ওঠে সেগুলি হল শিক্ষাকে সকলের কাছে‌ নিয়ে যাওয়া শিক্ষার গুনগত মানের উন্নতি বর্তমান সমাজে প্রেক্ষিতে শিক্ষার অগ্রসর এই উদ্দেশ্যে গ্রহণের লক্ষ্যে দূরাগত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অথবা গুরুত্ব সম্পর্কে নিম্ন আলোচনা করা হলো -  (১)জাতীয় সম্পদের উন্নয়ন:   দূরাগত শিক্ষা জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। (২) শিক্ষার্থীর বিকাশ: দূরাগত শিক্ষা ব্যবস্থা বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে কাটানো শিক্ষার্থীদের লেখার বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। (৩) সবার জন্য সুযোগ: যেকোনো বয়সে দূরাগত শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব হওয়া যে কোন মানুষের শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষার অংশ নিত...

দূরাগত শিক্ষা কাকে বলে

দূরাগত শিক্ষা কাকে বলে। দূরাগত শিক্ষা কী Q- দূরাগত শিক্ষা কী। দূরাগত শিক্ষা কাকে বলে। দূরাগত শিক্ষা বলতে কী বোঝ। যে শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী যে কোন সময় যে কোন বয়সে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই ডাক যোগ বা অন্য কোন গণমাধ্যমের সহায়তাই শিক্ষালাভ করে তাকে দূরাগত শিক্ষা বলে। বিভিন্ন শিক্ষাবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দূরাগত শিক্ষার সংজ্ঞা দিয়েছেন। দূরাগত শিক্ষা সম্পর্কে শিক্ষাবিদগণ বলেছেন সকল স্তরে নানা প্রকৃতির কঠরপাঠনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক এবং তাৎক্ষণিক শিক্ষকের দ্বারা শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধানে ব্যবস্থা থাকে না। কিন্তু যাতে বিশ্বাস প্রশিক্ষণের কেন্দ্র থেকে পরিকল্পনা নির্দেশনা এবং প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ থাকে তাকে দূরাগত শিক্ষা বলে । দূরাগত শিক্ষা হলো সেই ধরনের শিক্ষা যাতে শিক্ষকরা নিজস্ব নমনীয়তা সুযোগ পায়। যাতে তারা নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী যার নিজ সময় অনুযায়ী গঠন-পাঠন করে নিজেদের শিক্ষিত করে তুলতে পারে। প্রথা বহির্ভূত শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে যেটি সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হল দূরাগত শিক্ষা। যারা পথের অভাবে বা নির্দিষ্ট শিক্ষ...

দূরাগত শিক্ষার বৈশিষ্ট্য

দূরাগত শিক্ষার বৈশিষ্ট্য Q - দূরাগত শিক্ষার বৈশিষ্ট্য। দূরাগত শিক্ষার বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি। দূরাগত শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ  বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা কর। 1) দূরাগত শিক্ষার প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেক নমনীয়তা রয়েছে। এছাড়া এই শিক্ষার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে কোন বাধ্য বাধোক্তা নেই। শিক্ষার্থী তার সুবিধামতো নিজের সময় মত অধ্যয়ন করতে পারে। 2)   দূরাগত শিক্ষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি non-formal বা অপ্রথাগত শিক্ষা। দূরাগত শিক্ষাকে non-formal শিক্ষায়ত বলা যেতে পারে। কারণ এটি প্রথাযুক্ত শিক্ষা নয়, এটি শিক্ষামুক্ত শিখন। মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি নামেও পরিচিত। 3) দূরাগত শিক্ষা পরোক্ষ শিক্ষা এক্ষেত্রে মুখোমুখি শিক্ষার উপর গুরুত্ব নেই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ থাকে। ডাকযোগের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ঘটে। 4) দূরাগত শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর চাহিদা ও সুবিধার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় অর্থাৎ এটি শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক শিক্ষা। শিক্ষার্থীর চাহিদাকে কেন্দ্র করে এখানে পাঠক্রম করা হয় এবং শিক্ষার্থীরা যাতে আত্মনির্ভরশীল ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে,...

ভারতের শিক্ষার ইতিহাসে শ্রীরামপুর ত্রয়ীদের অবদান লেখ

শ্রীরামপুর ত্রয়ী কাদের বলা হয় ভারতীয় শিক্ষায় তাদের অবদান। ভারতের শিক্ষার ইতিহাসে শ্রীরামপুর ত্রয়ীদের অবদান লেখ। শ্রীরামপুর ত্রয়ী কাদের বলা হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির সংহত বিন্যাস ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে শ্রীরামপুর ত্রয়ীর দান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই তিনজনের কাজ শুধুমাত্র খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাংলা গদ্য রচনা, শিক্ষার প্রসার ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা- প্রভৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবদান ছিল। বাংলা তথা ভারতের শিক্ষার ইতিহাসে শ্রীরামপুর মিশনের উইলিয়াম কেরি, জোওয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড- এই তিনজনের অসামান্য সৃজনশীল অবদান ছিল। এই অবদানের জন্য 'শ্রীরামপুর এয়ী ' বলা হয়। [1] শ্রীরামপুর ত্রয়ী'-র অবদান: ব্যাপটিস্ট মিশনারী সোসাইটির প্রতিনিধিরূপে সুদক্ষ ধর্ম প্রচারক রেভারেন্ড কেরি ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে ভারতে আসেন। কলকাতায় কিছুদিন কাজ করার পর তিনি মালদহের একটি নীলকুঠি পরিচালনার দায়িত্ব নেন। ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে ওয়ার্ড ও মার্শম্যান এদেশে আসার পর তারা তিনজন একত্রে উত্তরবঙ্গে কাজ শুরু করেন। কিন্তু ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পা...