Posts

Showing posts from September, 2023

নির্দেশনা কাকে বলে

Image
নির্দেশনা কাকে বলে / নির্দেশনা বলতে কী বোঝায়। Q - অথবা, নির্দেশনা কি নির্দেশনা কোন ব্যক্তির পছন্দ করণে অভিযোজনে এবং সমস্যা সমাধানে অপর কোন ব্যক্তির সাহায্য করাই হলো নির্দেশনা । নির্দেশনা হল এক প্রকারের সাহায্য যা একজন ব্যক্তিকে তার জীবন যাপনে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজের বোঝা বহনে সক্ষম করে তোলে। নির্দেশনা এক প্রকারে প্রক্রিয়া যা ব্যক্তিকে তার শিক্ষাগত ব্যক্তিগত ও মানসিক গুনাবলী সম্পর্কে অবহিত হতে ও বিকাশের সাহায্য করে এবং যার ফলে ব্যক্তি নিজে সুখী হয় ও সমাজের প্রয়োজনে আসে। উপরিউক্ত সংজ্ঞা গুলি মূল বক্তব্য গুলি একত্রিত করে বলা যায় যে নির্দেশনা এক প্রকারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। যেখানে এক অভিজ্ঞ ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে যা ব্যক্তি সম্পর্ককে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলতে জীবনের চলার পথে তার সমস্যা সমাধানে উপযুক্ত করে তুলতে সাহায্য করে।

রাধারাণী গল্পের নাট্যরূপ

Image
রাধারাণী গল্পের নাট্যরূপ। রাধারাণী গল্পের নাট্যরূপ প্রকল্প। রাধারাণী   ( প্রথম পরিচ্ছেদ ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় চরিত্র গুলি  রাধারাণী ( দশ এগারো বছরের এক বালিকা, [মূল চরিত্র] )। রাধারাণীর মা । রুক্মিণীকুমার রায় ( ভদ্রলোক )। পদ্মলোচন ( কাপড়ের দোকানদার )। ভূমিকা:  রাধারাণী নামে এক বালিকা মাহেশে রথ দেখিতে গিয়াছিল। বালিকার বয়স একাদশ পরিপূর্ণ হয় নাই। তাহাদিগের অবস্থা পূর্বে ভাল ছিল- বড়মানুষের মেয়ে। কিন্তু তাহার পিতা নাই; তাহার মাতার সঙ্গে একজন জ্ঞাতির একটি মোকদ্দমা হয়; সর্বস্ব লইয়া মোকদ্দমা, মোকদ্দমাটি বিধবা হাইকোর্টে হারিল। সে হারিবামাত্র, ডিক্রীদের জ্ঞাতি ডিক্রী জারি করিয়া ভদ্রাসন হইতে উহাদিগকে বাহির করিয়া দিল। প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি; ডিক্রীদার সকলই লইল। খরচা ও ওয়াশিলাত দিতে নগদ যাহা ছিল, তাহাও গেল; রাধারাণীর মাতা, অলঙ্কারাদি বিক্রয় করিয়া, প্রিবি কৌন্সিলে একটি আপীল করিল। কিন্তু আর আহারের সংস্থান রহিল না। বিধবা একটি কুটীরে আশ্রয় লইয়া কোন প্রকারে শারীরিক পরিশ্রম করিয়া দিনপাত করিতে লাগিল । রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারিল না। রথের পূর্বে রাধারাণীর মা ঘো...

পরিবারের উপর শিল্পায়ন ও নগরায়নের প্রভাব

Image
পরিবারের উপর শিল্পায়ন ও নগরায়নের প্রভাব। সূচনা : পরিবার মানব সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক গোষ্ঠী । সামাজিক জীবনে টিকে রাখার জন্য মানুষকে পরিবার গড়ে তুলতে হয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পরিবারেই তার সময় কাটে। মানব শিশু জন্মের মুহূর্তে অসহায়। যতক্ষণ না সে স্বাবলম্বী হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সে আশ্রয়, ভরণ পোষণ ইত্যাদির জন্য তার পরিবারের ওপর নির্ভরশীল থাকে। কিন্তু শিল্পায়ন ও নগরায়ণের প্রভাবে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবারের উপর দেখা দিচ্ছে নানান পরিবর্তন। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো  –  শিল্পায়ন ও নগরায়ণ বর্ধিত পরিবার ব্যবস্থার পতন :  মা-বাবা, ভাইবোন, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি নিয়েই পরিবার, কিন্তু যৌথ পরিবার প্রথা ভেঙে একটি পৃথক এবং স্বাধীন পরিবার তৈরি হয়েছে।  পারিবারিক আকার হ্রাস : বেশিরভাগ বিবাহিত দম্পতি সন্তান নিতে চায়, কিন্তু শিল্পায়ন ও নগরায়নের প্রভাবে , মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে কর্মব্যস্ততা। ফলে তারা এক বা দুটি সন্তানের ছোট পরিবার রাখতে চায়। এজন্য পারিবারিক আকার হ্রাস পাচ্ছে। বৈবাহিক সম্পর্ক :   শিল্পায়ন ও নগরায়নের প্রভাবে, দেখা যায় বিবাহবিচ্ছে...

মৌর্য যুগের রাজস্ব ব্যবস্থা

Image
মৌর্য যুগের রাজস্ব ব্যবস্থা Q - মৌর্য যুগের রাজস্ব ব্যবস্থা অথবা, মৌর্য যুগের রাজস্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি টীকা লেখ। মৌর্য যুগের রাজস্ব ব্যবস্থা প্রধান দায়িত্ব অর্পিত ছিল সংগ্রাহক এর ওপর। আর রাজকোষ তথা প্রধান হিসাবরক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন সন্নিধাতা । অর্থশাস্ত্র থেকে চার ধরনের রাজস্ব বা করের কথা জানা যায়। এগুলি হল - সীতা ভাগ বলি ও কর সীতা জমিতে নিয়োজিত কৃষক বা কৃষি শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থকে বলা হত সীতা কর । মৌর্য যুগের রাজস্ব প্রধানত আসত কৃষকের মালিকানাধীন জমি বা রাষ্ট্রীয় জমি থেকে। এই রাজস্ব বা করকে বলা হয় 'ভাগ' । অর্থশাস্ত্র ছাড়াও মৌর্য ও মৌর্যোত্তর যুগের বিভিন্ন লেখ-তাম্রশাসনে 'ভাগ' শব্দটির উল্লেখ আছে। 'ভাগ'-এর পরিমাণ ছিল খুব সম্ভবত ফসলের এক-ষষ্ঠাংশ। কোনো বিশেষ কারণে এই করের পরিমাণ হ্রাস করা হত। এছাড়া, বলি ও কর নামে দু'ধরনের রাজস্ব মৌর্য যুগে বহাল ছিল। রাজস্ব ব্যবস্থা অর্থশাস্ত্রে সীতা জমিতে নিযুক্ত কৃষি শ্রমিকদের কাছ থেকে 'উদকভাগ' (২.২৪.১৮) নামে এক ধরনের রাজস্ব আদায়ের কথা বলা হয়েছে। ‘উদকভাগ' শব্দটি জলকরের সঙ্গে সমতুল্য।...

নির্দেশনার বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ

Image
নির্দেশনার বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ নির্দেশনা কোন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কোন নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয় না। কিন্তু নির্দেশনার ফল পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে যে নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে সেটি হল অপ্রথাগত নির্দেশনা যেমন পিতা পুত্রকে, বন্ধু বন্ধুকে নির্দেশনা দেয়। বিশেষজ্ঞ নয় এমন ব্যক্তির দ্বারা যখন নির্দেশনা দেওয়া হয় তাকে বলা হয় অবিশেষিকৃত নির্দেশনা। নির্দেশনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির দ্বারা নির্দেশনা নেওয়া। নির্দেশনার কার্যক্রমটি যখন কোন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে তখন তা বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত হয়।  নির্দেশনা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক অপরিহার্য নয়। অপ্রত্যকক্ষ ভাবেও নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।  নির্দেশনার বৈশিষ্ট্য হলো এটি তথ্য কেন্দ্রিক এবং এটি বৌদ্ধিক স্তরে ক্রিয়াশীল।  নির্দেশনা কার্য সূচিতে দলগত এবং ব্যক্তিগত উভয়ভাবেই সম্পন্ন হয়। এবং এটি সকলের জন্য প্রয়োজন।

উত্তম নির্দেশনার শর্ত গুলি লেখ

Image
উত্তম নির্দেশনার শর্ত গুলি লেখ। উত্তম নির্দেশনা উত্তম নির্দেশনা দানের জন্য বিদ্যালয় এই সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সেই অনুষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে হবে। উত্তম নির্দেশনার শর্ত হলো বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী কাজে নির্দেশনা বলি গুলি পৌঁছে দেওয়া। উত্তম নির্দেশনার অন্যতম শর্ত হলো শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক এবং সামাজিক চাহিদা অনুসারে নির্দেশনা গুলি দান করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতামূলক প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীর বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে সঠিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমাধান করা উত্তম নির্দেশনার শর্ত ।  শিক্ষার্থীর মানসিক, শারীরিক,  সামাজিক এবং প্রারম্ভিক প্রভৃতি সার্বিক দিকে যাতে বিকাশ ঘটে, সেই অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত নির্দেশনা মাধ্যমে প্রভাবিত করায় উত্তম নির্দেশনার শর্ত ।

সমাজবিজ্ঞান কি । সমাজবিজ্ঞান কাকে বলে

Image
সমাজবিজ্ঞান কি । সমাজবিজ্ঞান কাকে বলে সমাজবিজ্ঞান ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী অগাস্ট কোঁৎ (Auguste comte) ১৮৩৯ সালে সর্বপ্রথম Sociology শব্দটি ব্যবহার করেন। Sociology শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'socious' এবং গ্রিক শব্দ 'logos' এই দুই শব্দ থেকে উদ্ভূত। 'socious' শব্দের অর্থ হল সমাজ আর 'logos শব্দের অর্থ হল অধ্যায়ন বা বিজ্ঞান। সুতরাং বলা যায়, সমাজের বিজ্ঞান ভিত্তিক বিশ্লেষণ ও অধ্যয়ন যে শাস্ত্রের মূল আলোচ্য বিষয়, তাকে সমাজবিজ্ঞান বলে । Sociology কে বাংলায় সমাজবিজ্ঞান, সমাজবিদ্যা , সমাজতত্ব ও বলা হয়। সাধারনভাবে, যে শাস্ত্ৰ সমাজ সম্পর্কে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা করে তাকে সমাজবিজ্ঞান বলে। সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে বিভিন্ন সমাজ বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন। সেগুলি হল –  সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম এর মতে, সমাজবিজ্ঞান হল সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান। বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী যিমেন এর মতে, সমাজবিজ্ঞান এমন একটি বিজ্ঞান যা মানব সম্পর্ক অধ্যায়ন করে। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজ তাদের Society নামক গ্রন্থে বলেছেন, সমাজবিজ্ঞান এমন এক বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে একক...

বুদ্ধি অভীক্ষার উপযোগিতা গুলি কী কী

Image
বুদ্ধি অভীক্ষার উপযোগিতা। বুদ্ধির অভীক্ষা বুদ্ধির অভীক্ষার মান নির্ণয় :  বুদ্ধি অভীক্ষার পরিমাপ বা মান বলে দেয় কোনো ব্যক্তি বুদ্ধির কোন স্তরভুক্ত। তাই বুদ্ধির নির্ভুল মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বুদ্ধি অভীক্ষার উপযোগিতা অনস্বীকার্য। মানসিক অবস্থা : বুদ্ধি অভীক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তির সাধারণ মানসিক ক্ষমতা (General Mental Ability) ও বিশেষ মানসিক ক্ষমতা (Special Mental Ability), সম্পর্কে জানা যায়। ফলে শিক্ষার্থীকে কোন পথে পরিচালিত করলে তাদের সঠিক জীবনাদর্শ গঠিত হবে, তা নির্ণয় করা সহজ হয়। শ্রেণীকরণের ক্ষেত্রে : শিক্ষার্থীকে তার বুদ্ধি অভীক্ষার অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস বা classification করলে শিক্ষার্থী তার স্মৃতিশক্তি, যুক্তিশক্তি ও চিন্তাশক্তি অনুযায়ী পঠনপাঠন করতে পারবে। পাঠক্রম ও শিক্ষামূলক নির্দেশনার ক্ষেত্রে : বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং পাঠক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর তার বুদ্ধির অভীক্ষার অনুযায়ী পাঠক্রম নির্বাচন এবং বিদ্যালয় কোন শ্রেণীভুক্ত হবে তা নির্বাচন করা সহজ হয়। শিক্ষামূলক পরিচালনা : শিক্ষামূলক পরিচালনার ক্ষেত্রে বুদ্ধি অভীক্ষার প্রয়োজন হয়। কোন শিক্ষার্থী কোন শিক...

ইতালিতে প্রথম কেন নবজাগরণ হয়েছিল

Image
ইতালিতে প্রথম কেন নবজাগরণ হয়েছিল। রেনেসাঁ শব্দের অর্থ নবজাগরণ। রেনেসাঁস বলতে বোঝায় চতুর্দশ শতক থেকে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপীয় সাহিত্য শিল্পকলা এবং সাংস্কৃতিক পুনরুত্থানকে । ইতিপূর্বে নবম শতকে ক্যারোলিঞ্জীয় ও দশম শতকে অটোনিয় রেনেসাঁর আবির্ভাব ঘটেছিল। চতুর্দশ শতকে পর্যায়ক্রমে বৈদেশিক আক্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ ঘাত প্রতিঘাতে বিপর্যস্ত বহুধা বিভক্ত ইতালীয় নগর রাষ্ট্রগুলির জীবনে স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে গেলেও রেনেসাঁ সংস্কৃতির উদ্ভব ও বিকাশ হয়েছিল এই উপদ্বীপেই। তাই ইতালি কেন রেনেসাঁর জন্মস্থান ছিল এবং ইতালিতেই কেন প্রথম নবজাগরণ (রেনেসাঁ) শুরু হয়েছিল তা নিয়ে ঐতিহাসিক মহলে দীর্ঘ আলোচনার সূত্রপাত ঘটেছে। ইতালি উনিশ শতকের সুইস ঐতিহাসিক জ্যাকব বুকহার্ট এর মতে আলোচ্য অধ্যায় ইতালিতেই আবির্ভাব ঘটেছিল প্রতিভা সম্পন্ন বহু মানুষের। ব্যক্তি স্বাতন্ত্রের উপর বিভিন্ন সংস্কার এবং বিধি নিষেধ পশ্চিম ইউরোপে দেখা গেলেও ইতালিতেই তার প্রথম বিলুপ্তি ঘটে। ইতালির নগর গুলি রাষ্ট্রগুলি মানবতার মুক্তির নতুন আদর্শে উচ্ছ্বাসিত হয়ে ওঠে।  কিন্তু বুকহার্ট এর এই ব্যাখ্যায় সমস্ত তত্ত্ব মেলে না। ইতালির আর্থ ...

দ্বাদশ শতকের রেনেসাঁসের প্রেক্ষাপট

Image
দ্বাদশ শতকের নবজাগরণের ( রেনেসাঁস ) প্রেক্ষাপট বা পটভূমি। রেনেসাঁস শব্দের অর্থ নবজাগরণ। তবে রেনেসাঁস বলতে সাধারণ ভাবে চতুর্দশ শতকের শিক্ষণ সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যে পুনর্জাগরণ ঘটেছিল তাকেই বোঝানো হয়ে থাকে। অনেক ঐতিহাসিক এর মতে চতুর্দশ শতকের এই নবজাগরণের সূত্রপাত ঘটেছিল দ্বাদশ শতকে। দ্বাদশ শতকের রেনেসাঁস মধ্যযুগে শার্লমানের আমলে দেখা গিয়েছিল ক্যারোলিঞ্জীয় রেনেসাঁস এবং দশম শতকে দেখা গিয়েছিল অটো নিয়ান রেনেসাঁস। দ্বাদশ শতকের শুরুতে লাতিন ইউরোপের রাজনীতিতে নৈরাজ্য দেখা দিলেও শিক্ষা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় মনীষীর মুক্তি কামনা এ সময়েই আরম্ভ হয়েছিল। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে খ্রিস্টান জগতের সর্বত্র ফ্রান্স, ব্রিটেন, ইতালি, জার্মানি এবং স্পেনে যে মুক্ত মনের পদ ধ্বনি ধ্বনিত হয়েছিল তা প্রতিফলিত হয় সাহিত্য দর্শন এবং ধর্ম শাস্ত্রে। ঐতিহাসিক টমসন ও জনসনের মতে দ্বাদশ শতকে পশ্চিম ইউরোপের বুদ্ধিজীবীরা নতুন সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। ইউরোপীয় মনীষীর আত্মপ্রকাশ পূর্ণতর হয়ে উঠেছিল ধ্রুপদী ভাবধারার সঙ্গে আরব ইহুদি প্রভাব এবং প্রাচ্যের সভ্যতার ভাব সম্মেলন এর ফলে। এই নতুন চিন্তা ও ভা...

দ্বাদশ শতকের নবজাগরণের বৈশিষ্ট্য

Image
দ্বাদশ শতকের নবজাগরণের বৈশিষ্ট্য। আঞ্চলিক সাহিত্যের বিকাশের জন্য দ্বাদশ শতক স্মরণীয়। অবশ্য আঞ্চলিক ভাষায় উল্লেখযোগ্য রচনা সেইসব অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল যেখানে চার্চের প্রভাব প্রতিপত্তি হ্রাস পাওয়ার ফলে লাতিন ভাষার চর্চা ও স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল। দ্বাদশ শতকের শুরু থেকেই দলিল দস্তা বেজে লাতিন এর ব্যবহার বিরল হয়ে দাঁড়ায়। আঞ্চলিক ভাষায় রচিত কিছু কিছু গীতিকবিতায় মানুষের আনন্দ বেদনা, বিরহ মিলন কথা সুন্দর সহজ সরল ভঙ্গিতে প্রকাশিত হয়েছিল। একইসঙ্গে দেখা গিয়েছিল নারী জাতির প্রতি গভীর সম্মান বোধ।  দ্বাদশ শতকের রেনেসাঁসের অপর বৈশিষ্ট্য নিহিত ছিল তর্কবিদ্যা চর্চার আন্দোলনের মধ্যে। এর সবচেয়ে বড় প্রবক্তা ছিলেন পিটার অ্যাবেলার্ড । তিনি পারীতে তার শিক্ষাগুরু উইলিয়ামকে তর্ক যুদ্ধে পরাজিত করেন। ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অ্যাবেলার্ড লিখেছিলেন holy Trinity যা রক্ষণশীল গির্জার মন পুত হয়নি। ঘোর বাস্তববাদী অ্যাবেলাড বিশ্বাস করতেন যে, এই বিশ্বের সত্তা সত্য নির্ভর করে মানুষের মনের পর্যবেক্ষণ, বিচার-বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্তের ওপর। তার মতে জ্ঞান লাভের প্রথম সোপান হল প্রশ্ন করা। Peter Abelard অনুবাদ বা ভ...