Posts

Showing posts from June, 2023

লিটন কমিশন কেন গঠন করা হয়েছিল

লিটন কমিশন কেন গঠন করা হয়েছিল। জাপান মাঞ্চুরিয়ায় কতৃত্ব স্থাপনের লক্ষ্যে অগ্রসর হলে লিটন কমিশন গঠন করা হয়। জাতিসংঘ লর্ড জর্জ লিটনের সভাপতিত্বে লিটন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এই কমিশনের সদস্যরাষ্ট্র ছিল আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মান এবং ইতালি।

Red Star Over China গ্রন্থের বিষয় কী

Image
Red Star Over China গ্রন্থের বিষয় কী।  Red Star Over China ইয়েনান অভিজ্ঞতার আলোকে ‘Red Star Over China’ গ্রন্থটি লিখেছিলেন মার্কিন সাংবাদিক এডগার স্নো। এডগার স্নো তার  ‘Red Star Over China’ গ্রন্থে সাম্যবাদীদের আত্মসংযমী, নীতিনিষ্ঠ ও স্বদেশপ্রেমী রূপ এই গ্রন্থের মাধ্যমে চিত্রিত করেছেন। আর জাতীয়তাবাদীরা, তার চোখে ছিল দুর্নীতি পরায়ণ ও অবাস্তব।

দক্ষিণ ভারতের মন্দির স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য গুলি বর্ণনা করো

Image
দক্ষিণ ভারতের মন্দির স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য গুলি বর্ণনা করো ভূমিকা গুপ্তযুগের শেষদিকে থেকে প্রায় এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণ ভারতের মন্দির স্থাপত্য অব্যহত ছিল। দক্ষিণের শিল্পসৃষ্টি চালুক্য , রাষ্ট্রকূট ও পল্লব রাজাদের দুটি মহৎ ধারাকে অবলম্বন করে বেড়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, চালুক্য-রাষ্ট্রকুট ও পল্লব শিল্প প্রায় সমসাময়িক কালের এবং পল্লব রাজাদের শিল্পসৃষ্টি চালুক্যদের পরবর্তী শিল্পসৃষ্টির উপর বিশেষ প্রভাব রাখতে সক্ষম হয়। দক্ষিণ ভারতের মন্দির স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য লাদখান মন্দির : আইহোলির লাদখান মন্দিরটি চালুক্যদের আমলে (৪৫০ খ্রিস্টাব্দ) নির্মিত হয়। মন্দিরটি পাহাড় কেটে তৈরি দক্ষিণ ভারতের মন্দির স্থাপত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য । মন্দিরের সংলগ্ন মন্ডপ নীচু সমতল ছাদবিশিষ্ট। মন্দিরটি বর্গাকার, উচ্চতা ৫০ ফুট। মন্দিরটির গর্ভগৃহ বর্গাকার এবং পরবর্তীকালে এতে একটি ছাদযুক্ত বারান্দা সংযোজিত হয়েছে। এটি একটি সূর্যমন্দির। প্রধান মন্দিরের তিন দিক দেওয়াল দিয়ে ঘেরা। চতুর্থ দিকটি অর্থাৎ পূর্বদিকটিতে খোলা বারান্দা, যার স্তম্ভগুলিতে নদীদেবীর মূর্তি উৎকীর্ণ। ভিতরের কক্ষটি বর্গাকৃতি স্তম্ভযুক্ত একটি বৃ...

গুপ্ত যুগের শিল্পকলা

Image
গুপ্ত যুগের শিল্পকলা  সাহিত্য, দর্শন, শিক্ষা ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কেবল গুপ্তযুগে অভাবনীয় অগ্রগতি ঘটেছিল তাই নয়, গুপ্ত যুগের শিল্পকলা বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে। বস্তুত, গুপ্ত যুগে সভ্যতা-সংস্কৃতির বিকাশে শিল্পকলার এক যথেষ্ট স্থান আছে। গুপ্ত যুগের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য এবং চিত্রকলার সমন্বয়ে সৃষ্ট শিল্পকলা এই যুগকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে। খ্রিস্টীয় প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীর যমুনা তীরবর্তী মথুরা শিল্পকলা , কুষাণ, গান্ধার অঞ্চলের উত্তর-পশ্চিমের শিল্পকলা এবং দক্ষিণে অমরাবতী শিল্পকলা , নাগার্জুনকোন্ডা প্রভৃতি শিল্পকলা  খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীর মধ্যভাগে এনে উপনীত করে। এইসময় বহু ভাবধারা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে ভারতীয় শিল্পীদের নিজেদের পথ নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়েছিল। এমতাবস্থায় খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীর প্রথমভাগে গুপ্ত রাজাদের উত্থান ভারত ইতিহাসে এক নতুন যুগের উন্মেষ ঘটায়। গুপ্ত সম্রাটদের শৌর্য ও পরাক্রম শক, হুন প্রভৃতি বৈদেশিক শক্তিকে পরাভূত করে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হলে এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যি সমৃদ্ধি এলে মহান শিল্পবিকাশের উপযুক্ত ক্ষেত্র রচিত হয়। ধর্ম, ...

মেইজি জাপানের অর্থনৈতিক বিকাশে বেসরকারি উদ্যোগের ভূমিকার মূল্যায়ন করো

Image
মেইজি জাপানের অর্থনৈতিক বিকাশে বেসরকারি উদ্যোগের ভূমিকার মূল্যায়ন করো জাপানে যন্ত্রচালিত রেশম গোটানোর কারখানাগুলির মধ্যে খুব স্বল্প সংখ্যকই সরকারি উদ্যোগে গড়া। বাকী সব মিল বেসরকারি উদ্যোগে  গড়ে উঠেছিল। রেশম আমদানি ও ব্যাঙ্কিং বাণিজ্যে খ্যাত গুনো (One) পরিবার ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে টোকিওতে একটি রেশম গোটানোর কারখানা স্থাপন করে এবং ১৮৭২-৭৩ খ্রিস্টাব্দে আরো সাতটি কারখানা গড়ে তোলে। বেসরকারি উদ্যোগীরা বিশেষ করে রেশম উৎপাদকারী কেন্দ্রীয় হোনশু প্রদেশের স্থানীয় বণিকেরা রেশম শিল্পের বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ জাপানের রেশম রপ্তানির ৩০ শতাংশ ছিল মেশিনে গোটানো রেশম পণ্য। এই সময় জাপানের রপ্তানির ৪৩ শতাংশই ছিল রেশমজাত পণ্য, যা দ্বিতীয় রপ্তানি পণ্য চায়ের দ্বিগুণ ছিল। বিদেশে জাপানী রেশমের চড়া চাহিদার দরুন আশির দশকের মধ্যভাগে জাপানী বাণিজ্যে অনুকূল বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় থাকে। তাই এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে জাপানের যে শিল্প বিদেশী বাণিজ্যে অনুকূল ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল তা প্রধানত ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিকশিত হয়ে...

ভারতে সন্ত্রাস দমনে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

Image
ভারতে সন্ত্রাস দমনে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ?  ভারত সরকারকে  সন্ত্রাস দমনে,   সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন গ্রহণ করতে হয়েছে এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রের মত সন্ত্রাসপ্রবণ রাজ্যগুলিতে গড়ে তোলা হয়েছে অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড , কেন্দ্র তৈরী করেছে ন্যাশানাল সিকিউরিটি গার্ড বা এন এস জি কম্যান্ডো বাহিনী (যাদের কাজ সন্ত্রাসবাদী হামলায় জরুরী ভিত্তিতে কাজ করা, যেমন মুম্বাই'র ঘটনায় আমরা তাদের ক্রিয়াশীল হতে দেখি) ইন্টালিজেন্স ব্যুরো (যারা ভারতের মধ্যে গুপ্তচরের কাজ করে), রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিক্যাল উইঙ্গ (যারা ভারতের বাইরে খবর সংগ্রহ করে), ডিফেন্স ইন্টালিজেন্স এজেন্সি (যারা কাশ্মীর, নাগাল্যান্ড প্রভৃতি স্থানে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকে এবং খবর সংগ্রহ করে) স্পেশাল টাস্ক ফোর্স, ইত্যাদি। মুম্বাই ঘটনার পর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এন এস জি হাব গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, সাময়িকভাবে রেলস্টেশন, বিমানবন্দরে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, শিল্প প্রভঋতিকে রক্ষা করার জন্য তৈরী হয়েছে, সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়...

ভারতে সীমান্ত পার সন্ত্রাস বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ

Image
ভারতে 'সীমান্ত পার সন্ত্রাস' বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ। ভূমিকা  ভারতে সীমান্ত পার সন্ত্রাস সাধারণভাবে জম্মু-কাশ্মীর, মুম্বাই, উত্তরপূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য এবং মধ্য ভারত সন্ত্রাসবাদীদের কার্যকলাপের মূল জায়গা যদিও তাদের আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে প্রায় সমগ্র ভারতকেই। ২০০৬ সালের হিসাবানুযায়ী ভারতের ২৩২ টি জেলায় সন্ত্রাসবাদীদের কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভারতে সীমান্ত পার সন্ত্রাস পশ্চিম ভারতে সব থেকে বেশি আক্রান্ত মুম্বাই ২০০৮'র ২৬ থেকে ২৯ শে নভেম্বরের ভয়াবহ স্মৃতির ঘা এখনও শোকাইনি। প্রত্যক্ষ এবং ধারাবহিক সন্ত্রাসবাদী এই আক্রমণে অন্তত ১৭২ জন মারা যায়, যার মধ্যে হেমন্ত কারকারের মত এ টি এস প্রধান এবং সদিপ উন্নিকৃষ্ণনের মত মেজরও ছিলেন। এন এস জি কম্যান্ডো, জলবাহিনীর সেনা এবং মুম্বাই পুলিশের তিনদিনের অক্লান্ত চেষ্টায় (অপারেশন টর্নেডোর মাধ্যমে) তাজ ও ট্রাইডেন্ট হোটেল, নরিম্যান পয়েন্টের মত স্থানগুলি উগ্রপন্থীদের হাত থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল শতাধিক স্বদেশি এবং বিদেশির প্রাণের বিনিময়ে। এই ঘটনা ভারত-পাক সম্পর্ককে নঞর্থকভাবে প্রভাবিত করে এবং ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তান...

বিশ্বের রক্ষক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার মূল্যায়ন কর

Image
বিশ্বের রক্ষক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার মূল্যায়ন কর। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের পর ঠান্ডা যুদ্ধ এবং সেইসাথে দ্বিমেরু বিশ্বের ধারণার তথা বাস্তবের অবসান ঘটে। আর্ন্তজাতিক রাজনীতিতে দুটি বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। প্রথমত, একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আত্মপ্রকাশ করেছে ক্ষমতার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে যার পরিণতিতে এককেন্দ্রিক পৃথিবী অভিধাটি সমসাময়িক আর্ন্তজাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে সংযোজিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, অন্যদিকে বিশ্বায়নের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাষ্ট্রের অবসান, সীমানাহীন বিশ্ব, নয়া আঞ্চলিকতাবাদ ইত্যাদি ধারণাগুলিও হয়ে উঠেছে আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত চিন্তাভাবনার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই দুই আঙ্গিকে বিশ্বের রক্ষক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার মূল্যায়ন বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। অধ্যাপিকা অঞ্জনা ঘোষ মত প্রকাশ করেছেন যে ঠান্ডা যুদ্ধোত্তর আর্ন্তজাতিক সম্পর্কের চরিত্র ব্যাখ্যা করার জন্য অলিগার্কিক শব্দটির প্রয়োগ করা যেতে পারে। আশির দশকের শেষে ঠান্ডা যুদ্ধের অবসানের পর আর্ন্তজাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানের যে প্রতিশ্রুতি বিশ্...

ঠান্ডা যুদ্ধের কারণ বা পটভূমি

Image
ঠান্ডা যুদ্ধের কারণ বা পটভূমি ব্যাখ্যা করো। ঠান্ডা লড়াই এর উদ্ভব ঘটেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর যদিও সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমী দেশগুলির পারস্পরিক অবিশ্বাসের প্রেক্ষিত তৈরী হয়েছিল অনেক আগেই। ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে বলশেভিক বিপ্লবের পর রাশিয়ায় সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের মত পুঁজিপতিদের দ্বারা পরিচালিত দেশগুলির সরকারকে সমগ্র বিশ্বব্যাপী সাম্যবাদ প্রসারিত হওয়ার আশঙ্কায় ভীত সন্ত্রস্ত করে তোলে। ১৯১৭ সালের বিপ্লব সমসাময়িক কালে বলশেভিক নেতা তথা সোভিয়েত রাশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান লেলিনের সহযোগী কমিউনিস্ট নেতা ট্রটস্কি ঘোষণা করেন যে হয় রুশ বিপ্লব ইওরোপে একটি বৈপ্লবিক আন্দোলনের সূচনা করবে, নতুবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইওরোপীয় শক্তিগুলি মিলে রুশ বিপ্লবকে ধ্বংস করবে। বস্তুতপক্ষে সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার দিক থেকে সমাজতন্ত্র এবং সাম্যবাদের প্রসারের আশঙ্কা এবং তার থেকেও বেশী করে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বিশ্বের বৃহত্তর অংশে বজায় রাখার প্রবল ইচ্ছা পশ্চিমী রাষ্ট্রগুলিকে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইত্যাদি) ১৯১৭-১৮ সাল থে...

ইতালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থান তুমি কীভাবে ব্যাখ্যা করবে

Image
ইতালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থান তুমি কীভাবে ব্যাখ্যা করবে / ইতালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের কারণ ভূমিকা  প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পর বিশ্ব ইতিহাসে পরিবর্তন এসেছিল। ইউরোপে গণতন্ত্রের মড়ক শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে ইতালি, জার্মানি, স্পেন ইত্যাদি দেশে গণতন্ত্রের পরিবর্তে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়। ইতালিতে মুসোলিনী, জার্মানিতে হিটলার এবং স্পেনে জেনারেল ফ্র্যাঙ্কের নেতৃত্বে একনায়কতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থান মাৎসিনী, কাভুর ও গ্যারিবল্ডী সহ অসংখ্য ইতালির জাতীয়তাবাদীদের নিরলস চেষ্টার ভৌগোলিক সংজ্ঞাপ্রাপ্ত ইতালি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল এবং ইউরোপের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিকে ইতালি জার্মানির পক্ষে ছিল। কিন্তু ১৯১৫ সালে ইতালি জার্মানির পক্ষ ত্যাগ করে মিত্রপক্ষে যোগ দেয় অর্থাৎ ইতালি ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী দেশ। ইউরোপে তার সীমানা বৃদ্ধি পাবে এবং ইউরোপের বাইরে তার উপনিবেশ গড়ে উঠবে এই আশা নিয়ে ইতালি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রপক্ষে চলে এসেছিল। ১৯১৫ সালের লন্ডন চুক্তিতে মিত্রপক্ষ ইতালিকে যেসব স্থান দেব বলেছিল তার জন্য ইতালীয়রা ...

পুটিং আউট সিস্টেম এর প্রধান বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো

Image
পুটিং আউট সিস্টেম এর প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো। প্রাক শিল্পায়ন সংক্রান্ত 'Rural Putting Out System' এর তত্ত্ব সাম্প্রতিক কালে ফ্র্যাঙ্কলিন মেন্ডেলস, এই এল জোনস, ম্যাক্সিন বার্গ, পি হাডসন, জে ক্লাম্বন, এম সোনেস্কার পিটার ক্রেদতে প্রমুখ পন্ডিত প্রাক শিল্পায়নের আবির্ভাবের প্রেক্ষিতে পুটিং আউট সিস্টেম এর উপস্থিতিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাদের মূল বক্তব্য হল ষোড়শ শতক থেকে বিশ্ব বাজারের চাহিদা অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়, ফলে গিল্ডের নিয়ন্ত্রনাধীন শহুরে উৎপাদকদের পক্ষে সেই চাহিদার যোগান দেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতকে ইওরোপে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, এনক্লোজার, ইত্যাদির কারণে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল একটি কৃষিসমাজের উপস্থিতি, পশুচারণের অঞ্চলগুলিতে এবং অন্যত্র জমিহীন কৃষকদের উপস্থিতি এবং অন্যদিকে বাণিজ্য নির্ভর পুঁজিপতিদের বাজারে শিল্পদ্রব্যের চাহিদা অনুযায়ী গ্রামীন এলাকায় শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ, প্রযুক্তিগত বিকাশ, এবং এই উদ্যোগী শিল্পপতিদের দ্বারা বাৎসরিক তথা মরসুমী ভিত্তিতে কৃষি ও শিল্প উৎপাদনের মধ্যে আর্থ-সামাজিক সমন্বয় সাধন আদি শিল্পায়নের বিকাশের জন্য একটি আদর্শ ঐতিহা...

চীনের সাম্যবাদের বিকাশের ইতিহাসে লং মার্চ এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর

Image
চীনের সাম্যবাদের বিকাশের ইতিহাসে লং মার্চ এর গুরুত্ব সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর। চীনের সাম্যবাদের বিকাশের ইতিহাসে লং মার্চ হল একটি অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা নেই। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাব্যিক গাম্ভীর্য ও ব্যাপ্তি, আদর্শের জন্য অনান্য ত্যাগ ও তিতিক্ষার নজির, দুঃখবরণের তুলনাহীন দৃষ্টান্ত। ' একলক্ষ লোক ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ১৫ অক্টোবর দক্ষিণ-পূর্ব চিনের কিয়াংসি প্রদেশ থেকে লং মার্চ এর যাত্রা শুরু হয়, পরের বছর অক্টোবর মাসে (১৯৩৫) মাত্র আট হাজার লোক শেনসি প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে পৌঁছে যায়। দুর্গম অরণ্য, খরস্রোতা নদী, পাহাড়, গিরিপথ পেরিয়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছেছিল মাও সে তুং এর অধীনস্থ সাম্যবাদী গোষ্ঠী । পথে প্রাকৃতিক দুর্যোগে, অনাহারে, রোগে, শত্রুপক্ষের আক্রমণে বেশিরভাগ মানুষ মারা যায়। ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাস থেকে শেনসি প্রদেশের ইয়েনান হল কমিউনিস্ট পার্টির সদর কার্যালয়। ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের গোড়ার দিক থেকে জাতীয়তাবাদী সৈন্যবাহিনী সাম্যবাদীদের ওপর প্রবল আক্রমণ চালাতে থাকে, ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যভাগে কমিউনিস্ট বাহিনী বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছিল। কমিউনিস্ট ...

আসিয়ানের কার্যাবলি

Image
আসিয়ানের কার্যাবলি । আসিয়ানের কার্যাবলি পরিচালনায় সাংঠনিক কাঠামোয় সরকার প্রধানদের নীচের স্তরে রয়েছে আসিয়ান মিনিস্টেরিয়াল মিটিং (ASEAN Ministerial Meeting / AMM)। আসিয়ানের মন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকে সাধারণত সদস্যরাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রীরা মিলিত হন এবং আসিয়ানের অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেন। তবে মন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকে প্রয়োজনে অন্য মন্ত্রীরাও যোগ দিতে পারেন। আসিয়ান মিনিস্টেরিয়াল মিটিং এর সমতুল্য অপর একটি সাংগঠনিক গোষ্ঠেী হল আসিয়ান ইকোনমিক মিনিস্টারস্ (ASEAN Economic Ministers / AEM) যেখানে সদস্য রাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রীরা বছরে এক বা একাধিকবার মিলিত হয়ে আসিয়ানের অর্থনতিক কার্যাবলি রূপায়ন করে। সাংগঠনিক নিয়মানুসারে আসিয়ান সম্মেলনের সময় AMM এবং AEM যৌথভাবে ASEAN Heads of Government এর কাছে তাদের রিপোর্ট পেশ করে। ASEAN AMM এবং AEM এর নীচের স্তরে রয়েছে Sectoral Ministers Meeting বা SMM যেখানে অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ের মন্ত্রীগণ প্রয়োজন অনুসারে মিলিত হয়ে নানান নীতি নির্ধারণ করে। এই বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে শক্তি, কৃষি ও বন, পর্যটন এবং পরিবহন। ...

আসিয়ানের মৌলিক নীতি গুলি উল্লেখ করো

Image
আসিয়ানের (ASEAN) মৌলিক নীতি গুলি উল্লেখ করো।  আধুনিক পৃথিবীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য আঞ্চলিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এমন কি সংস্কৃতিগত এবং নিরাপত্তাজনিত সহযোগিতা এবং সহাবস্থানমূলক সংগঠন গড়ে তোলা। ভোগোলিক প্রেক্ষাপটে প্রায় সমগ্র বিশ্ব জুড়েই এই প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। এরূপ সংগঠন ASEAN বা আসিয়ানের মৌলিক নীতি গুলি   নীচে উল্লেখ করা হল। এশিয়া মহাদেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক সংগঠন আসিয়ান । দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন্স এবং সিঙ্গাপুর ১৯৬৭ সালের ৮ ই আগস্ট থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক নগরে ( পররাষ্ট্র মন্ত্রকের দফতরে) নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে আসিয়ান বা Asean গড়ে তোলে। asean এর পূর্ণরূপ বা পুরো নাম হলো  Association of South East Asian Nations । আসিয়ান (ASEAN) ব্যাংককের এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপরোক্ত পাঁচটি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা ইন্দোনেশিয়ার আদম মালিক, ফিলিপাইন্সের নার্কিসো রামোস, মালয়েশিয়ার আবদুল রাজাক, সিঙ্গাপুরের এস রাজারতনম, এবং থাইল্যান্ডের থানাত খোমান ...

ভারতে রেলপথ স্থাপনের উদ্দেশ্য

Image
ভারতে রেলপথ স্থাপনের উদ্দেশ্য কি ছিল। ভারতে রেলপথ স্থাপনের উদ্দেশ্য । ভূমিকা  ভারতে ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দ থেকে রেলপথ স্থাপনের প্রস্তাব উঠতে থাকে। শেষপর্যন্ত বড়োলাট লর্ড ডালহৌসির (১৮৪৮-৫৬ খ্রি.) আমলে ' গ্রেট ইন্ডিয়ান পেনিনসুলার রেল কোম্পানি' ভারতে সর্বপ্রথম রেলপথের প্রতিষ্ঠা করে । ডালহৌসিকে ভারতীয় রেলপথের জনক বলা হয়। তাঁর আমলে ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে (১৬ এপ্রিল) বোম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত ২১ মাইল পথে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব ভারতের হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত ২৪ মাইল পথে ভারতের দ্বিতীয় রেলপথ চালু হয়। ডালহৌসির আমলে ভারতে প্রায় ২০০ মাইল রেলপথ নির্মিত হয়। মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭ খ্রি.) পর ভারতে রেলপথের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটতে থাকে। ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় রেলপথের জাতীয়করণ করা হয়, এবং এটি বিশ্বের বৃহত্তম নেটওয়ার্ক (network) হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ভারতে রেলপথ স্থাপনের উদ্দেশ্য উদ্দেশ্য স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্য : ভারতীয়দের কল্যাণসাধনের উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, সম্পূর্ণভাবে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ইংরেজরা ভারতে রেলপথ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। ভারতে রেলপথ স্থা...