Posts

Showing posts from February, 2022

হরপ্পা সভ্যতার অর্থনৈতিক জীবন ।

  হরপ্পা সভ্যতার অর্থনৈতিক জীবন। Or হরপ্পা সভ্যতার শিল্পকলা ও কারিগরি শিল্প।  হরপ্পার নগরাশ্রয়ী অর্থনীতিতে শিল্প-বাণিজ্য সঙ্গে সঙ্গে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরপ্পার মত নগর এর উদ্ভবের বহু আগে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দে সিন্ধু উপত্যাকায় কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সভ্যতার লক্ষণ পাওয়া গেছে। হরপ্পার সন্নিহিত অঞ্চলে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে কালিবঙ্গান এর গমের দানা, নথান ও রংপুরে কাদামাটিতে ও মৃৎপাত্রের ধানের তুষ পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রত্ন ক্ষেত্র থেকে গলায় তিল ও সর্ষের দানা এমনকি কার্পাশের মত পণ্য শস্যের প্রমাণ ও সহজলভ্য।   কৃষি উপকরণ নিয়ে পন্ডিত মহলে বিতর্ক বর্তমান। হরপ্পায় লাঙ্গল ব্যবহারের স্পষ্ট নজির অগাতো থাকায় কোসাম্বি নিড়ানি জাতীয় উপকরণের ব্যবহারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। হরপ্পার মহেঞ্জোদারোতে দুটি বৃহৎ শস্যাগার পাওয়া গেছে। শস্য সংরক্ষণের সুবন্দোবস্ত ও এগুলি নদীর তীরে অবস্থিত ছিল। এই শস্যাগার আধুনিক ব্যাংকের মতো শস্য লেনদেন হত। এছাড়া উৎখনন থেকে ছাগল ভেড়া মহিষ প্রভৃতি গৃহপালিত পশুর অস্তি পাওয়া গেছে।   হরপ্পার নগর আশ্রয় অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য ...

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় অর্থশাস্ত্রের গুরুত্ব

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় অর্থশাস্ত্রের গুরুত্ব।     মহীশূরের পণ্ডিত ডু. শ্যাম শাস্ত্রী ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে সংস্কৃত ভাষায় লেখা কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র গ্রন্থটি আবিষ্কার করেন। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। মূল গ্রন্থটির প্রায় ২৫ শতাংশ পাওয়া যায়নি। গ্রন্থটিতে মোট ১৫টি অধ্যায় ছিল।   মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের মন্ত্রী কৌটিল্য বা চাণক্য খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে অর্থশাস্ত্র গ্রন্থটি রচনা করেন বলে মনে করা হয়। গ্রন্থটিতে আদর্শ রাষ্ট্রনীতি বা রাষ্ট্রদর্শন, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের শাসনব্যবস্থা, রাজস্বব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, ভারতীয় সমাজজীবন, নারীদের অবস্থা প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনা রয়েছে।   রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শাসককে কেমন নীতি গ্রহণ করা উচিত তার ব্যাখ্যাও এতে রয়েছে।রাজাকে কূটনীতিপরায়ণ হতে হবে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রে বা শাসনব্যবস্থায় রাজাই একমাত্র সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী। রাজাই রাজ্য। রাজা দুর্বল হলে রাষ্ট্র দুর্বল হতে বাধ্য।   অর্থশাস্ত্রে মৌর্য মন্ত্রীপরিষদ ও রাজকর্মচারী নিয়োগের উল্লেখ রয়েছে। রাজার সর্বোচ্চ রাজকর্ম...

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের গুরুত্ব

  প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের গুরুত্ব।  স্থাপত্য-ভাস্কর্য প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে স্বীকৃত।অনুসন্ধান ও উৎখননের ফলে মাটির তলা থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রত্নবস্তু, যথা—মৃৎপাত্র তথা টেরাকোটার নিদর্শনসমূহ, পাথর অথবা অন্য কোনো ধাতব মূর্তি এবং স্থাপত্য-ভাস্কর্যের নানা নিদর্শন প্রভৃতি হল বাস্তবভিত্তিক উপাদান।   সাম্প্রতিককালে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বেড়াচাঁপার চন্দ্রকেতুগড় এবং বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটে খননকার্যের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যাদি উক্ত ধারণার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বস্তুত, বাংলার ইতিহাস রচনায় ঐ দুই অঞ্চলের প্রত্নসম্পদকে এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।    চন্দ্রকেতুগড়ের ধ্বংসাবশেষ থেকে যে সমস্ত প্রত্নবস্তু পাওয়া গেছে । উল্লেখযোগ্য প্রত্নবস্তুগুলি হল চিত্রিত ধূসর মৃৎপাত্র, লাল মৃৎপাত্র, লাল-কালো মৃৎপাত্র, উত্তরের কৃষ্ণ-মসৃণ মৃৎপাত্র, খোদাই করা সীলমোহর (নামমুদ্রা), ছাপযুক্ত (punch-marked) রৌপ্য মুদ্রা ও ঢালাই করা তাম্রমুদ্রা এবং জপমালার গুটি ও দামি পাথর।       উৎখন...

হর্ষবর্ধনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা আলোচনা করো ।

  হর্ষবর্ধনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা আলোচনা করো।   হর্ষবর্ধন যথার্থই অনুভব করেছিলেন যে সাহিত্য চর্চা ও সাম্রাজ্য বিস্তারের পাশাপাশি ঐ সাম্রাজ্যকে সুসংগঠিত করা প্রয়োজন, যার জন্য অপরিহার্য ছিল সুদৃঢ় প্রশাসনিক ব্যবস্থা । তবে তাঁর শাসনব্যবস্থার মধ্যে মৌর্য আমলের অতি কেন্দ্রীভূত চরিত্রের প্রয়োগ ঘটেনিহর্ষবর্ধনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য আমাদের অনেকটাই নির্ভর করতে হয় বাণভট্টের হর্ষচরিত এবং হিউয়েন সাঙ-এর বিবরণমূলক গ্রন্থ সি-ইউ-কি’র ওপর।   মৌর্য শাসনব্যবস্থার অতি কেন্দ্রীকরণ গুপ্ত আমলে যে অনেকটাই শিথিল হয়ে গিয়েছিল এবং বিকেন্দ্রীকরণের চেহারা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিলহর্ষবর্ধনের সময়ে ঐ বিকেন্দ্রীকরণ বিশেষভাবে লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। প্রতিবেশী কিছু ছোট ছোট রাজ্য জয় করে হর্ষবর্ধন সাম্রাজ্য গঠন করলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণের ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। মৌর্য সম্রাট অশোকের সঙ্গে তুলনীয় না হলেও হিউয়েন সাঙের বিবরণের ওপর নির্ভর করলে বলা যায় যে তিনি ছিলেন একজন প্রজাহিতৈষী শাসক। শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন সর্বেসর্বা। এককথায় তাঁর সাম্রাজ্যের বেসামরিক শা...

গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী কৃতিত্ব

গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী কৃতিত্ব। গৌতমীপুত্র সাতকর্ণির সামগ্রিক কর্মকাণ্ড জানার জন্য নাসিকে প্রাপ্ত তিনটি শিলালেখ অপরিহার্য। এর মধ্যে প্রথম দুটি তাঁর রাজত্বকালের। একটি তাঁর রাজত্বের অষ্টাদশ বৎসরে এবং অপরটি রাজত্বের চতুর্বিংশ বৎসরে রচিত। এই দ্বিতীয় লেখটি তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে যুক্তভাবে রচনা করেছিলেন। গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী কর্মকাণ্ড জানার জন্য সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হল গৌতমীপুত্রের মৃত্যুর উনিশ বছর পরে তাঁর মাতা গৌতমী বলশ্রী কর্তৃক প্রচারিত নাসিক প্রশস্তি। সাতবাহন বংশের অতীত ইতিহাসের কথা বলতে গিয়ে এই প্রশস্তিটিতে গৌতমী বলশ্রী গৌতমীপুত্র সাতকর্ণির অসাধারণ কার্যকলাপের এক সুন্দর চিত্র তুলে ধরেছেন। মুদ্রাগত তথ্য থেকেও শকদের বিরুদ্ধে তাঁর জয়লাভের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা পরবর্তী আলোচনা থেকে বোঝা সম্ভব হবে।  গৌতমীপুত্র সাতকর্ণি কতদিন শাসন করেছিলেন সে সম্পর্কে ঐতিহাসিক মহলে এক সময় যথেষ্ট দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদরা দেখিয়েছেন যে ঐ বর্ষগুলি গৌতমীপুত্রের রাজত্বের যথাক্রমে অষ্টাদশ ও চতুর্বিংশ বৎসর। এরই সূত্র ধরে এবং শক ক্ষত্রপ নহপানের রাজত্বের সঙ...

নব্য প্রস্তর যুগের বিপ্লব।

নব্য প্রস্তর যুগের বিপ্লব। Or  নব্য প্রস্তর যুগের টিকা।  মানব বিবর্তনের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তর হল নব্য প্রস্তর যুগ। এই যুগে মানুষ জীবিকার জন্য প্রস্তর নির্মিত অস্ত্রের ওপর নির্ভর ছিল। পুরাতাত্ত্বিক ভি গডন চাইল্ড মন্তব্য করেছেন যে নিওলিথিক বা নব্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ার এর ব্যবহার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বস্তু নির্ভর জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যায়। নতুন প্রযুক্তির আয়ত্ত করে নতুন অস্ত্র ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার করতে মানুষ শিখেছিল। এগুলি ছিল আগের তুলনায় উন্নততর ও পরিশীলিত । চাইল্ড এর যুক্তি হল নব্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ার তৈরি হওয়ায় জমি কর্ষণ করার সহজ হয়ে যায়।    ইতিপূর্বে মানুষ ছিল খাদ্য সংগ্রহকরী এরপর থেকে তারা খাদ্য উৎপাদনকারী শ্রেণীতে রূপান্তরিত হল। আগেকার অমসৃণ পাথরের হাতিয়ার এর তুলনায় মসৃণ পাথরের কুঠার ব্যবহার করে বনভূমি পরিষ্কার করে খননকারী লাঠির সাহায্যে বীজ রোপণের জন্য মাটি আলগা করতে পারল। মসৃণ এবং সূচালো বর্ষার ফলে আর তীরের ডগার জন্য শিকার করারও সহজতর হলো।   কৃষিকাজ যত বেশি ছড়িয়ে পড়ল ততই গবাদিপশুর গৃহ পালন একটা দৃহ ভিত্তি পেল । শস্য...

আর্যদের আদি বাসস্থান সম্পর্কিত বিতর্ক

আর্যদের আদি বাসস্থান সম্পর্কিত বিতর্ক   ভারতীয় উপমহাদেশে যারা বৈদিক সভ্যতার উন্মেষ ঘটিয়ে ছিলেন তারাই সাধারণভাবে আর্য নামে পরিচিত । প্রকৃতপক্ষে আর্য শব্দটি কোন মানব গোষ্ঠী বা জাতির সমার্থক নয় তা একটি ভাষাগোষ্ঠীর পরিচায়ক।। সংস্কৃত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্যতম এবং বৈদিক ভাষা সংস্কৃত সবাই বৈদিক সভ্যতার স্রষ্টারা আর্য নামে পরিচিত।   আর্যরা ভারতীয় না বৈদেশিক অথবা আর্যদের আদি বাসস্থান কোথায় এ বিষয়ে বিতর্ক আবহমানকাল ধরে চলে আসছে। ভাষাতাত্ত্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণে দ্বারা সাম্প্রতিক গবেষণায় এ তথ্য এখন সুপ্রমাণিত যে আর্যরা বৈদেশিক। আর্যরা অশ্ব,রথ,অরযুক্ত চাকা , সোমরসের ব্যাবহার অন্তেষ্টি ক্রিয়তি ব্যবহৃত মৃৎপাত প্রভৃতি যে ব্যবহার করত তার সন্ধান পাওয়া যায় ঋকবেদে, জেন্দাবেস্তা ইলিয়াড ও ওডিসি প্রভৃতি গ্রন্থ থেকে। একইভাবে এই সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।   বৈদিক আর্য দের জীবনযাত্রা সঙ্গে অশ্বের  ব্যবহার ছিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অশ্ব বলের এর প্রতীক এবং সাধারণত শক্তির রূপক হিসেবে প্রতিভাত। বৈদিক যুগে বিভিন্ন স্রোতে প্রজা ও পশুর মত অশ্ব...

পাগলপন্থী কাদের বলা হয়

  পাগলপন্থী কাদের বলা হয় ।   ময়মনসিংহ জেলার শেরপুর এর মুসলিমদের মধ্যে পাগলপন্থী নামক এক সম্প্রদায় ছিল। সুসঙ্গ পরগনার অন্তর্গত লেটিয়াকান্দা গ্রামবাসী টিপু পাগল এই মতের প্রবর্তন করেন। টিপু প্রথমে সামান্য কৃষক ছিলেন। সময়ে সে কেবল ধর্মপ্রচারক নয় , বহু সংখ্যক অনুচর প্রাপ্ত হয়ে একজন ঘোরতর সমাজ বিপ্লাবক হয়ে ওঠে।  তাদের ধর্মের অন্যতম মূল সূত্র এই সকল মানুষই ঈশ্বর সৃষ্ট কেউ কারোর অধীনে নয় সুতরাং কেউ উচ্চ কেউ নীচ এরূপ প্রভেদ করা অসঙ্গত।    1231 সালে তন্মতালম্বী এ পরগনাস্থ অনেক প্রজা দলবদ্ধ ও বিদ্রোহী হয়ে জমিদার প্রভৃতিকে খাজনা দেওয়া বন্ধ করে। পরিশেষে সরকারের সুশাসনে নিরস্ত হন। পাগল গুরুরা অন্যান্য মুসলমানদের ন্যায় শ্মশ্রুধারন , কুক্কুটাদি ,জন্তু পালন করতেন না । লোকে এদেরকে অতি মানসিক ক্ষমতা বিশ্বাস করে অনেক প্রকার মানসিক করে থাকে। এই  নিমি ও সর্বদা তাদের বাসভবনে অনেক লোকের সমাগম হয়। টিপু পাগলকে পূর্ব বাংলার এক প্রকার লুইব্লেঙ্গ বললে হয়।

হর্ষবর্ধন কে সকলোত্তরপথনাথ বলা হয় কেন

  হর্ষবর্ধন কে সকলোত্তরপথনাথ বলা হয় কেন   দাক্ষিণাত্যের চালুক্য লিপিতে হর্ষকে 'সকলোত্তরপথনাথ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। চালুক্য রাজা দ্বিতীয় পুলকেশীর আইহোল শিলালিপিতে হর্ষকে পরাজিত করার কথা বলা হলেও ‘সকলোত্তরপথনাথ’কথাটির উল্লেখ নেই। পরবর্তী চালুক্য শাসক প্রথম বিক্রমাদিত্য ও দ্বিতীয় বিক্রমাদিত্যের নিরপান, করনুল তোগড়চেদু শিলালেখতে দাবি করা হয়েছে, তাদের পূর্বপুরুষ ‘ সকলোত্তরপথনাথ ’ হর্ষকে পরাজিত করেন। তবে নিরপান লেখতে হর্ষকে উত্তরাপথাধিপতি ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।   পূর্ব পাঞ্জাবের একটি ছোট রাজ্যকে উত্তর ভারতের বৃহত্তর সীমানায় সম্প্রসারিত করে হর্ষবর্ধন যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। উত্তর ভারতে তাঁর এই সাম্রাজ্য বিস্তৃতির বিষয়টিকে কিছু ঐতিহাসিক বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এঁরা হলেন যথাক্রমে এম. এল. এট্রিনহাউজেন, কে. এম. পানিক্কর, আর. এস. ত্রিপাঠী প্রমুখ। এঁরা হর্ষবর্ধনকে সমস্ত উত্তর ভারতের প্রভু (‘ সকলোত্তরপথনাথ ’) বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তিনি সমগ্র উত্তর ভারতের প্রভু ছিলেন কিনা সে বিষয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।   হর্ষবর্ধনের তরফে কোনো সূত্র বা উপাদানে তাঁকে সকলো...

গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের কারণ

  গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের কারণ   সমুদ্রগুপ্ত ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত—এই দুই খ্যাতনামা শাসকের সামরিক প্রতিভার গুণে গুপ্ত সাম্রাজ্য বিস্তৃততর রূপ ধারণ করেছিল। পূর্ব ভারত ও সংলগ্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র অংশকে কেন্দ্র করে এই সাম্রাজ্য শেষপর্যন্ত বিন্ধ্যপর্বতের উত্তরাংশের এক বৃহত্তর এলাকায় বিস্তৃত হয়েছিল। কিন্তু সুদীর্ঘকাল ধরে গুপ্ত সাম্রাজ্য তার অস্তিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়নি। অন্যান্য সাম্রাজ্যের ন্যায় ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চ থেকে এই সাম্রাজ্যকেও বিদায় নিতে হয়েছিল।৪৬৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এক গৌরবোজ্জ্বল অস্তিত্বের পর সাম্রাজ্য ধীরে ধীরে ক্রমিক অবক্ষয়ের দিকে যেতে থাকে এবং শেষপর্যন্ত খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকের মধ্যভাগে এর পতন ঘটে   গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনকে প্রধানত দুটি দিক ছিল একটি হল অভ্যন্তরীণ দিক এবং অপরটি বৈদেশিক শত্রুর চাপ।   এই সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের পিছনে সমুদ্রগুপ্ত, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত, প্রথম কুমারগুপ্ত ও স্কন্দগুপ্তের এক মহান ভূমিকা ছিল। কিন্তু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল স্কন্দগুপ্তের পর। এই সময় বাস্তব পরিস্থিতি সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব রক্ষার পক্ষে অন্তরায়...

মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের কারণ

মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের কারণ     আনুমানিক ২৩২ খ্রিস্টপূর্ব-এ অশোকের মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যে এক ক্রমিক অবক্ষয় শুরু হয় এবং ১৮৭ খ্রিস্টপূর্ব-এ এর সম্পূর্ণ বিনাশ ঘটে। ২০৫ খ্রিস্টপূর্ব-এ অর্থাৎ অশোকের মৃত্যুর ২৫ বছরের মধ্যেই যবন বা গ্রিকরা মৌর্য সাম্রাজ্যের সীমা হিন্দুকুশ পর্বত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।    যে-মৌর্য সাম্রাজ্য হিন্দুকুশ পর্বতের পাদদেশ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের পেনার নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল তার পতন অশোকের দেহাবসানের মাত্র অর্ধ শতকের মধ্যেই কীভাবে দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হল সে-বিষয়ে কৌতূহল জাগা খুবই স্বাভাবিক। বিভিন্ন পণ্ডিত এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে বৈদেশিক আক্রমণের তুলনায় অভ্যন্তরীণ সংকটকেই প্রধানত দায়ী করা হয়েছে। কোনো কোনো পণ্ডিত সাম্রাজ্যের পতনের জন্য কেবল অশোককে দায়ী করেছেন।   ব্রাহ্মণ বিপ্লব সৃষ্টির বিষয়টিকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী যুক্তির নিরিখে বিশ্লেষণ করেছেন। ব্রাহ্মণ বিপ্লবের প্রেক্ষাপট তৈরিতে তিনি মূলত অশোকের নীতিগুলিকে দায়ী করেছেন। এইচ. পি. শাস্ত্রী মনে করেন যে, অশোকের নীতি ছিল বৌদ্ধদের অনুরাগী ও ব্রাহ্মণদের বিরোধী। তাঁর প্র...

রামবল্লভী সম্প্রদায়

রামবল্লভী সম্প্রদায়  ।    উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হুগলির নিকটবর্তী বাঁশবেড়িয়া গ্রামের সর্বধর্ম সমন্বয় আদর্শ অনুপ্রাণিত হয়ে একটি নতুন ধর্ম সম্প্রদায় গঠিত হয়।1881 সালের 31 শে মে তারিখে সেই রাজনারায়ণ বসু রামমোহন রায়ের জীবন লেখিকা মিস কলেটের কাছে একটি চিঠিতে এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছিলেন। যার মাধ্যমে জানা যায় শ্রীযুক্ত কেশবচন্দ্র সেন নানা প্রচলিত ধর্মমত ও অনুষ্ঠানের জগাখিচুড়ী করে যে নববিধান প্রবর্তন করেছেন তা এ দেশে নতুন নয়।   প্রায় অর্ধ শতাব্দী পড়বে হুগলির নিকটে বাঁশবেড়িয়া গ্রামের রাধাবল্লব নামে একটি অদ্ভুত প্রাকৃতিক লোক অনুরূপ একটি সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন। এই সম্প্রদায়ের বাৎসরিক সবাই হিন্দু প্রণালীতে দেবতার কাছে ভোগ নিবেদন প্রথার অনুকরণে কৃষ্ণ, খ্রিষ্ট,ও মোহাম্মদ এই‌ তিনজনের উদ্দেশ্যে ভোগ দেওয়া হতো। এই উৎসবে যে স্রোএ পাঠ করা হতো তাহার সমাথ  এই যে কালি,কৃষ্ণ,খোদা এ সকলেই ভগবান এদের মধ্যে কোনো ভেদ বুদ্ধির কোন ঠাঁই ছিলনা।   শ্রী রাজনারায়ণ বসু লিখেছেন যে অক্ষয় কুমার দত্তের "HINDI SECTS"নামে প্রসিদ্ধি বাংলা গ্রন্থের বিস্তৃত বিবরণ আছে। কিন্তু এই...

সাহেবধনী সম্প্রদায়

  সাহেবধনী সম্প্রদায়   প্রবাদ এই যে নদীয়া জেলার অন্তর্গত শালিগ্রাম, দোগাছিয়া প্রভৃতি কয়েক গ্রামে, বনে সাহেবধনী নামে এক উদাসীন এই সম্প্রদায়ের প্রবর্তন করেন। ইহা সম্ভবত কর্তাভজা সম্প্রদায়ের রাখা বিশেষ এবং হিন্দু ও মুসলমান উভয় এই সম্প্রদায়ের শিষ্য হত ।    এই সম্প্রদায়ের মূল গুরু দুখিরাম পালের পুত্র চরণ পাল শতাধিক বছর পূর্বে এদের বিগ্রহের উপাসনা করেন না বরং বিগ্রহ ও মন্ত্রদাতা গুরুর প্রতি বিশেষ বিদ্ধেষী প্রকাশ করে। প্রতি বৃহস্পতিবার এই সম্প্রদায়ের অনেক লোক একত্রিত হয়ে উপাসনা ও পরমার্থ সাধন করে।    অর্থাৎ নানা জাতি প্রদত্ত তাদের প্রস্তুত করা পরমান্থ ও অন্যান্য ভোগের সামগ্রী কুপোষণ উপাসনা স্থল এর নিকট নিবেদন করে দিয়ে নিবেদিত দ্রব্য পরেস্পরের মুখে অর্পণ করে। চরণ পালের পর তাহার পুত্র এই সম্প্রদায়ের গুরু হন ।  Read more 👇 কর্তাভজা সম্প্রদায়

কর্তাভজা সম্প্রদায় টীকা ।

  কর্তাভজা সম্প্রদায় টীকা ।   ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের মধ্যে উনিশ শতকের প্রথম ভাগে কর্তাভজা সম্প্রদায় বিশেষ প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। আউল চাঁদ নামক একজন সাধক এই সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠা করেন। এই সম্প্রদায়ের মতে শ্রীচৈতন্য আউল চাঁদ রূপে পুনরায় পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেন ও গুরু সত্য এই মন্ত্র প্রচার করেন। ইহা বৈষ্ণব ধর্মের ই একটি শাখা প্রশাখা ও নিজেদের মধ্যে সহজ ধর্ম সত্য ধর্ম বলে পরিচিত। এই ধর্ম মতে গুরুই পৃথিবীতে ভগবানের একমাত্র প্রতিনিধি অবিচলিত নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে ঈশ্বরজ্ঞানে গুরু সেবাই এই ধর্ম সম্প্রদায়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য। দলের মধ্যে কোনো জাতিভেদ ছিল না। হিন্দু মুসলমান সকলেই সকলের অন্ন ভোজন করতেন ।    কাঁচরাপাড়ার উত্তর-পশ্চিমে পাঁচ মাইল দূরে অবস্থিত ঘোষপড়া গ্রামে এই সম্প্রদায়ের প্রধান কেন্দ্র ছিল। ইহার প্রতিষ্ঠাতা আউলচাঁদ এর 22 জন শিষ্যের মধ্যে সদগোপ,কলু,মুচি প্রভৃতি হিন্দু ও কয়েকজন মুসলমান ছিলেন। আউলচাঁদের মৃত্যুর (1769) পর পর 22 জন শিষ্যের অন্যতম এই গ্রামবাসীর ও সদগোপ বংশের রামশরণ পাল তাহার স্থানে গুরুর পদে অভিষিক্ত হন। রামশরনের মৃত্যুর পর (আ: 1783) তার পু...

মধ্যযুগের বাংলার অর্থনৈতিক ইতিহাসে হুসেন শাহী বংশের অবদান আলোচনা করো।

  মধ্যযুগের বাংলার অর্থনৈতিক ইতিহাসে হুসেন শাহী বংশের অবদান আলোচনা করো। অর্থনৈতিক অবস্থা:   হুসেন শাহী রাজত্বের বাংলায় যে স্থিতাবস্থা প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য বিকশিত হবার সুযোগ পায়।পঞ্চদশ থেকে ষোড়শ শতকের বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিবরণ পাওয়া যায় বিদেশি পর্যটক লেখক এবং সমকালীন মঙ্গল কাব্যে বিধৃত বিবরণ থেকে । রাজস্বই ছিল সুলতানদের আয়ের প্রধান উৎস এবং তা গড় উৎপাদন এর ভিত্তিতে 1/5 অংশ হিসেবে আদায় কৃত হত। অভ্যন্তরীণ সমৃদ্ধি ও বহিঃ বাণিজ্যের ফলে হোসেন শাহী যুগ এবং দেশের সম্পদ বৃদ্ধি ও আর্থিক উন্নতি সাধিত হয়।   জনকল্যাণ মূলক কাজের জন্য বহু লোকের কর্মসংস্থান হয়েছিল। আরব পর্যটক ইবনে বতুতা সমকালীন অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলার নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দায় কর্ম থাকার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন । ওয়াং তাওযান নামক জৈনক চিনা এ সম্পর্কে জানিয়েছেন যে পরিশ্রম পূর্বভারতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কম থাকায় বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আগত বিদেশী বণিকদের 10 জন এর মধ্যে ন জন ই দেশে ফিরতে চান না। মা হুয়ান জানিয়েছেন যে বাংলায় বহু মূল্যবান সুতি বস্ত্রের সঙ্গে 6 রকমের মহা...

আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ইতিহাসে বিখ্যাত কেন

আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ইতিহাসে বিখ্যাত কেন    ঐতিহাসিক হাবিবুল্লাহ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ কে  আকবরের সঙ্গে তুলনা করে তাকে মধ্যযুগের বাংলার আকবর আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু হোসেন শাহ আকবরের মত ভাগ্যবান ছিল না প্রথমত তার আবুল ফজলের মত বন্ধু ও জীবনী কার ছিল না এবং দ্বিতীয়ত তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে আকবরের মত সাম্রাজ্য শৈন ও রাজকোষ পাননি।হোসেন শাহ দীর্ঘ তার সঙ্গে অরাজকতা বন্ধ করেন। 12000 লুন্ঠনকারি সৈন্যদের প্রাণদণ্ড দান রাজপ্রসাদের গুপ্ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদের বরখাস্ত এবং অপশাসন থেকে মুক্তি দান।    বাংলায় শুধু তিনি শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন নি বাংলার সীমানা ও সম্প্রসারিত হয়েছিল। রাজত্বের প্রথম বর্ষ থেকেই হোসেন শাহ নিজেকে কামরূপ কামতা যাজন রাজনগর ওড়িশা বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে এই রাজ্যগুলি জয়ের জন্য উদ্যোগী হন। হোসেন শাহের মুদ্রা শিলালিপি রিয়াজ-উস-সালাতীন এবং ত্রিপুরা রাজমালা সাক্ষ্য আহোম পুঁথি পত্র কিছু ঐতিহাসিক জিরা এর এশিয়া প্রভৃতি উপাদানের জানা যায় যে পশ্চিমে ঘর ঘোড়া ও স্থল পর্যন্ত পূর্বে চট্টগ্রামের ওপর হোসেন শাহী বংশের প্রভৃতি স্থাপিত হয়েছিল এবং উত্তরে কামরূ...

হুসেন শাহী বংশের সাংস্কৃতিক কৃতিত্ব

হুসেন শাহী  বংশের সাংস্কৃতিক কৃতিত্ব অথবা, বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনে হুসেন শাহী রাজবংশের তাৎপর্য সংক্ষেপে আলোচনা করো ভূমিকা:     বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলে আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে একাধিক কারণে স্মরণীয়। সামরিক কৃতিত্ব ও সাহিত্যের জন্য উজ্জ্বল হয়ে আছে। মূলত তিনটি কারণে হোসেন শাহী রাজত্ব খ্যাতি লাভ করেছে। প্রথমত এই সময় বাংলার সাম্রাজ্য সীমা বিস্তৃত হয়েছিল মধ্য যুগে আর কোন রাজবংশ বাংলা কে কেন্দ্র করে এত বড় রাজ্য গড়ে তুলতে পারিনি। দ্বিতীয়তঃ সাহিত্য-শিল্প মুদ্রা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এই ঐতিহাসিক তথ্য সুলভ হওয়ায় হোসেন শাহী বংশের ইতিহাস জানা সম্ভব হয়েছে। বাংলার অন্য কোন রাজবংশের এই সৌভাগ্য হয়নি। তৃতীয় সুলতান হোসেন শাহ ও তার পুত্র নকশা ছিলেন শ্রী চৈতন্য দেবের সমসাময়িক।    হুসেন শাহী শাসকদের রাজত্বকালের রাজ্যের সীমানা সম্প্রসারণ সদর শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ ধর্ম সাহিত্য শিল্প এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ বাংলার ইতিহাসে এই বিশিষ্ট করে রেখেছে। সাংস্কৃতিক জীবন :    হুসেন শাহী বংশের শাসকরা সাহিত্য ও শিল্পের প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত...

ফিরোজ শাহ তুঘলকের জনহিতকর কার্যাবলী

ফিরোজ শাহ তুঘলকের জনহিতকর কার্যাবলী। ফিরোজ শাহ তুঘলক-কে সুলতানি যুগের আকবর বলা কতটা যুক্তিযুক্ত।   সমসাময়িক কালের ঐতিহাসিক বিবরণ সুলতান ফিরোজ শাহের দীর্ঘ শাসনকালে (1351-88) গৃহীত ব্যবস্থা গুলি প্রশংসিত হয়েছে। বরণী লিখেছেন যে ফিরোজকে মহম্মদ বিন তুঘলকের নিজের উত্তর অধিকারী মনোনীত করলেও তাঁর সিংহাসন লাভ নিষ্কণ্টক ছিল না। অসীম ধৈর্য ও কৌশলের পরিচয় দিয়েন অভিযোগের স্বপক্ষে নিয়ে এসে নিজ অস্তিত্ব রক্ষা করেন ফিরোজ শাহ তুঘলক।    তিনি একজন সফল সুদক্ষ এবং নিরপেক্ষ সুলতান হয়ে উঠতে পারেননি তার আমলেই সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণের বন্ধ হয়ে গিয়ে শুরু হয় অবক্ষয়ের প্রক্রিয়া কিন্তু তার শাসনকালে কোন বৈদেশিক আক্রমণ বা বড় রকমের বিদ্রোহ ঘটে নি। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ছিল আয়ত্তের মধ্যে বেতন ও মজুরি বিস্ময় ও বিশেষ কারও ক্ষভ ছিল না। সম্ভবত এটা অর্থের দিকে নজর দেখেই বরণীয় আফিফ তাকে এক আদর্শ ও প্রজাহিতৈষী মুসলমান শাসক এর মর্যাদা দিয়েছেন। সিংহাসনে বসেই তিনি অভিজাত, উলেমা,অধিস্তন রাজ কর্মচারী সেনাবাহিনী ও সাধারণ কৃষকের আস্তা অর্জনে সচেষ্ট হয়েছিলেন। সামশ-ই-সিরাজ...

মধ্যযুগের ইউরোপে গিল্ড ব্যবস্থা ।

মধ্যযুগের ইউরোপে গিল্ড ব্যবস্থা । অথবা,  মধ্যযুগীয় ইউরোপে অর্থনৈতিক বিকাশে গিল্ডের ভূমিকা আলোচনা করো।   মধ্যযুগীয় ইউরোপে অর্থনীতিতে বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যবসায়ী বা কারিগর দ্বারা গঠিত গিল্ড গুলির ভূমিকা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা বাণিজ্যের কতগুলি অতিবাস্তব কারণে গিল্ডের উদ্ভব ঘটেছিল। দ্বাদশ শতক থেকে নাগরিক মাত্রই উপলব্ধি করেছিলেন যে শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে অবাধ প্রতিযোগিতার অবলুপ্তি অবাধ বাণিজ্য সামঞ্জস্য রাখা উৎপাদনের নিযুক্ত কারিগরদের নিরাপত্তা বিধান, সমাজে মুষ্টিমেয় মানুষের অপরিণত মুনাফার পথ বন্ধ করে কারিগরদের অধিক সুস্থিত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের হ্রাস বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত আক্রান্ত আবশ্যিক।   দ্বাদশ শতকের মধ্যে বেশকিছু গিল্ডের কথা জানা যায়। প্রাচীনতম ইটালির গিল্ড গুলি সংগঠনিক কারণে একাদশ শতকের আগে বিশেষ সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাছাড়া নগর মাত্রই গিল্ড গুলি করে উঠবে এমন নয়। উপকূল বাণিজ্যের ব্যস্ত বন্দর বস্ত্র ও সূক্ষ্ম রপ্তানিতে গিল্ডের বিকাশ সহজে হয়নি। 10000 ও তার বেশি জনসংখ্যা বিশিষ্ট নগর গুলিতে যেখানে ভোগ্য পণ্য ব্যবহার হতো সেখানে গড়ে ওঠার সুযোগ পেত...

ইতিহাসের সাথে বিজ্ঞানের সম্পর্ক ।

  ইতিহাসের সাথে বিজ্ঞানের সম্পর্ক। প্রাচীন গ্রিসে হেরোডোটাস ও থুকিডিডিস কিছুটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে ইতিহাসের চর্চা করলেও উনবিংশ শতকের আগে পর্যন্ত ইতিহাস চর্চায় বিজ্ঞানের প্রভাব বিশেষ একটা দেখা যায়না। কিন্তু ঊনবিংশ শতক থেকে ইতিহাস চর্চায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগতে শুরু করে। জার্মান পন্ডিত নেব্যুর, রাঙ্ক , গার্ডিনার, প্রমখ ঐতিহাসিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মন নিয়েই ইতিহাস চর্চা শুরু করেন।   বৈজ্ঞানিক যেমন পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণ এর ওপর নির্ভর করে তার সিদ্ধান্ত উপনীত হয়ে থাকেন তেমনই একজন ঐতিহাসিক ও তথ্যানুসন্ধানের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ এবং সেগুলির নানাভাবে বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে পরীক্ষণ এর পরেই তার সিদ্ধান্তে আসেন। একজন বৈজ্ঞানিক যেমন তার পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ এর বিষয়টিকে প্রত্যক্ষ ভাবে ব্যবহার করতে পারেন, একজন ঐতিহাসিক তা বিশ্লেষণের বিষয় বস্তু রূপে অতীতের তথ্যগুলিকে প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পারেন না। তাকে দেখতে হয় সমকালীন কোন লেখক এর চোখে বা অতীতের সময়ে রেখে যাবা কোন চিহ্ন বা উপাদান থেকে। সত্যি উপনীত হবার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক যেমন একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে আসার জন্য বারংবার পরীক...