Posts

Showing posts from August, 2022

পাবনা বিদ্রোহের কারণ কি ছিল

পাবনা বিদ্রোহের কারণগুলি আলোচনা কর। পাবনা বিদ্রোহের কারণ কি ছিল । পাবনা বিদ্রোহের কারণ : ভূমিকা : অধ্যাপক বিনয় চৌধুরি উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলার ঐক্যবদ্ধ কৃষক আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেছেন। এই পর্বকে তিনি উগ্র জমিদারতন্ত্রের যুগ বলে অভিহিত করেছেন (period of high landlordism)। এই উগ্র জমিদারতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য হল দুটি—জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাধাদান এবং বৈধ এবং অবৈধ পথে খাজনা বৃদ্ধি। জমিদাররা প্রজার জমি হস্তান্তরকে (alienation) পছন্দ করত না কারণ তাদের ধারণা হয়েছিল এর ফলে গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে মহাজন, জোতদার ও সম্পন্ন কৃষকদের প্রভাব বাড়বে। জমিদারদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি কমে যাবে। দুটি কারণে জমিদাররা খাজনা বাড়ানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। কারণ :  প্রথমত, কৃষকরা অবৈধ, বেআইনি আবওয়াব দিতে রাজি ছিল না, জমিদাররা নানা ধরনের আবওয়াব আদায় করত। সরকার কোনো নতুন সেস বা কর বসালে জমিদাররা তা কৃষকদের খাজনার সঙ্গে জুড়ে দিত। পথ সেস, শিক্ষা সেস, ডাক খরচ, আয়কর ইত্যাদি প্রজাদের কাধে চাপানো হয়েছিল। কৃষকরা সংঘবদ্ধভাবে এসব কর দিতে অস্বীকার করলে এগুলিকে মূল খাজনার সঙ্গে যুক্ত করে স্থায়ী করার ...

ভারত ছাড়ো আন্দোলন সম্পর্কে একটি নিবন্ধ লেখ

ভারত ছাড়ো আন্দোলন সম্পর্কে একটি নিবন্ধ লেখ । ভারত ছাড়ো আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা করো । ভারত ছাড়ো আন্দোলন সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো ।  ভূমিকা : ভারতের স্বাধীনতার জন্য গান্ধিজি যে তিনটি আন্দোলন পরিচালনা করেন তার মধ্যে ব্যাপকতায় ও মেজাজে ভারত ছাড়ো আন্দোলন হল অনন্য। অন্য দুটি আন্দোলনের সঙ্গে এর তুলনা চলে না। এখানে লক্ষ্য ছিল স্থির, জাতি বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়েছিল। ভারত ছাড়ো আন্দোলন :  গান্ধিজি ঘোষণা করেছিলেন যে এটি হবে তাঁর শেষ সংগ্রাম, এ সংগ্রামে হয় তিনি জয়ী হবেন, নয় মরবেন (করঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে)। আগস্ট আন্দোলনের সময় গান্ধিজি ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, সারাজীবন অহিংসার পূজারি আক্রমণ প্রতিহত করার কথাও ভেবেছিলেন। হরতাল, ধর্মঘট, রেল অবরোধ এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করাতে তাঁর আপত্তি ছিল না। গান্ধিজি নির্দেশ দেন যে নেতারা বন্দি হলে আন্দোলন থেমে যাবে না, প্রত্যেক স্বাধীনতাকামী ভারতবাসী হবেন নিজের নেতা। ব্যাপ্তির দিক থেকে ভারত ছাড়ো আন্দোলন আগের সব আন্দোলনকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বডোলাট লিনলিখগো স্বীকার করেছিলেন যে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের পর ইংরেজদের এর চেয়ে বড়ো সরকা...

সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝো। এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো

সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝো? এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝো ? ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক যন্ত্র ও তার তাবেদার ঐতিহাসিকদের গূঢ় অভিসন্ধির বিরুদ্ধে শিক্ষিত ভারতীয় সমাজ সঙ্ঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করে এবং দেশজ ঐতিহাসিক ও বিদগ্ধজনেরা এর সমুচিত জবাব দেন। স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা, ঋষি অরবিন্দ, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গিরিজা মুখার্জী, সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, অ্যানি বেসেন্ত, দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ প্রমুখ তাঁদের স্ব স্ব চিন্তা এবং কৃষ্টি সহযোগে ভারতীয়দের আত্ম শক্তির উপায় সন্ধান করেন। অবন ঠাকুরের ভারতমাতা'র (Bharat Mata) চিত্র সমগ্র ভারতবাসীকে দেশমাতৃকার প্রতিরূপের সঙ্গে পরিচিত হতে সাহায্য করে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ সশস্ত্র প্রতিরোধের ভাবনা দেশবাসীর মনে প্রোথিত করে এবং বন্দেমাতরম ধ্বনি ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ও বিভিন্ন বিপ্লবী গোষ্ঠীর দীক্ষামন্ত্র হয়ে ওঠে। এই সকল কার্যকলাপের দ্বারা ভারতবর্ষে যে  সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ (Cultural Nationalism)- এর সূচনা হয় , তাকে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ (Cultural Nationalism) বলা হয়। সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের তাৎপর্...

প্রাকৃতিক পরিবেশ কাকে বলে। প্রাকৃতিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো

প্রাকৃতিক পরিবেশ কাকে বলে? প্রাকৃতিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।  প্রাকৃতিক পরিবেশ কাকে বলে?  প্রাকৃতিক পরিবেশ (Physical Environment) : পরিবেশের যে সব উপাদান প্রকৃতিসৃষ্ট তাকেই প্রাকৃতিক পরিবেশ বলা হয়। যেহেতু প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রকৃতির সৃষ্টি তাই এর উপাদানগুলি সৃষ্টিতে মানুষের কোনো ভূমিকা থাকে না। প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানসমূহ (Components of Physical Environment ) বিখ্যাত ভূগোলবিদ এলসওয়ার্থ হান্টিংটন প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানগুলিকে প্রধান ছয়টি ভাগে বিভক্ত করেছেন। যথা—  গোলাকার পৃথিবী, ভূমিরূপ,  জলবায়ু,  জলভাগ, খনিজ , মৃত্তিকা। নীচে উপরোক্ত ছয়টি প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টিকারী উপাদানসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হল— 1. গোলাকার পৃথিবী : প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানগুলি মধ্যে প্রথম হল গোলাকার পৃথিবী। পৃথিবীর আকৃতি গোলাকারের জন্য সূর্যরশ্মির পতনকোণের পার্থক্য হয়। এই কারণে পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চল অর্থাৎ উভয় গোলার্ধে 0-30° অক্ষাংশের জলবায়ু উন্ন প্রকৃতির, 30-60° অক্ষাংশের জলবায়ু নাতিশীতোয় এবং 60°-90° অক্ষাংশের জলবায়ু শীতল প্রকৃতির হয়েছে। স...

ইউরোপীয় বণিক সংঘগুলি কীভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে

ইউরোপীয় বণিক সংঘগুলি কীভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে?  1707 খ্রিস্টাব্দে ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পরবর্তীকালে মুঘল সাম্রাজ্যের অবক্ষয় ও ভাঙনের সূত্রপাত হয়। তাঁর বংশধরেরা কেউই পূর্বতন সম্রাটের ব্যক্তিত্ব, মনোবল, পরাক্রম বা মিতব্যয়িতার অধিকারী ছিলেন না। রাজসভার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা সমগ্র ভারতবর্ষে এক অশনি সংকেতের সূচনা করে। 1764 খ্রিস্টাব্দে বক্সারের যুদ্ধ (Battle of Buxar, 1764) মুঘল সাম্রাজ্যের ভাগ্যবিপর্যয় ডেকে আনে। অবশেষে 1803 খ্রিস্টাব্দে লর্ড লেক ( Lord Lake)-এর নেতৃত্বে কোম্পানির সৈন্য দিল্লিতে প্রবেশ করে এবং সমগ্র উপমহাদেশে তৈমুরীয় আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায়। মুঘল সম্রাটের এই শোচনীয় অবস্থার সুযোগ নিয়ে এবং অনেকাংশে প্রশাসনিক নিস্পৃহতায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে যোগ্য রাজকর্মচারীগণ ও প্রাদেশিক শাসকেরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভাগ্যান্বেষণে অবতীর্ণ হন। বাংলা, অযোধ্যা, হায়দরাবাদ এই প্রবণতার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।  উল্লেখযোগ্য বিষয় যে, 1700-1880 খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ভারতবর্ষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এক ব্যাপক পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়...

যুগসন্ধিক্ষণের আনুমানিক সময় উল্লেখ করো

যুগসন্ধিক্ষণের আনুমানিক সময় উল্লেখ করো। যুগসন্ধিক্ষণের সময়কাল । 1757 খ্রিস্টাব্দে পলাশির যুদ্ধ ভারতবর্ষে ক্রমশ এক নতুন যুগের সূচনা করে। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তত্ত্বাবধানে বাংলাকে কেন্দ্র করে সমগ্র ভারতবর্ষে ব্রিটিশ রাজত্বের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই সুবাদে বাংলা সামরিক রাজনৈতিক দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ “ব্রিজহেড” (Bridgehead) -এ পরিণত হয়।  আনুমানিক 1700 1800 খ্রিস্টাব্দকে যুগ সন্ধিক্ষণের সময় (Transition Period) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।  অর্থাৎ যুগসন্ধিক্ষণের আনুমানিক সময় হল 1700 1800 খ্রিস্টাব্দ।   অষ্টাদশ শতকের সত্তরের দশকে ভারতবর্ষের বিভিন্ন দেশীয় শক্তিগুলির সঙ্গে ইংরেজদের প্রতিমন্দ্বিতা ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করে এবং ওয়ারেন হেস্টিংস (Warren Hastings), কর্নওয়ালিস (Cornwallis) এবং আর্থার ওয়েলেসলি (Arthur Wellesley), ডিউক অফ ওয়েলিংটন (Duke of Wellington)-এর নেতৃত্বে ইংরেজগণ তাদের আধিপত্য বিস্তার করেন ও তার ফলস্বরূপ উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন সুদৃঢ় হয়। হায়দর আলি ও টিপু সুলতান-এর সুযোগ্য নেতৃত্বে মহীশূর রাজ্য ইংরেজ হানাদারদের কিছুকাল ঠেকিয়ে রাখলেও অবশে...

“সাদা মানুষের বোঝা” মতাদর্শের সারমর্ম কী ?

“সাদা মানুষের বোঝা” মতাদর্শের সারমর্ম কী ? উপনিবেশগুলি নিছক কাঁচামালের আড়ত বা মেট্রোপলিটনের বৃহৎ বাজার ছিল না। এগুলি ছিল “সাদা মানুষের বোঝা” (White Man's Burden) ও ইউরোপীয় সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ধ্যানধারণার পরীক্ষানিরীক্ষা চালানোর গবেষণাগার (Laboratory) বিশেষ। “সাদা মানুষের বোঝা” (White Man's Burden) এই মতানুসারে ঔপনিবেশিক শাসকেরা তাঁদের স্ব-স্ব উপনিবেশগুলিকে আরও গভীরভাবে জানার এবং বোঝার উদ্দেশ্যে নানাবিধ তথ্য সংগ্রহ করে এক পর্যাপ্ত তথ্যভাণ্ডার (Database) নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারি, সামরিক বাহিনীর সদস্য, পর্যটক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সমগোত্রীয় প্রতিষ্ঠানের সদস্যবৃন্দ প্রভূত সাহায্য করেন। তাঁরা এই অফুরন্ত জ্ঞানভাণ্ডার নির্মাণের দ্বারা ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে নিজস্ব ভূমিকা পালন করেন। নলেজ (Knowledge) অর্থাৎ জ্ঞান এই পরিপ্রেক্ষিতে পাওয়ার (Power) অর্থাৎ ক্ষমতার উৎস হয়ে ওঠে। ঔপনিবেশিক পরিবেশে এই "Power Discourse" -এর মাধ্যমে শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক নির্ধারিত হয়।

ভারতে মিশনারিদের অবদান আলোচনা করো

ভারতে মিশনারিদের অবদান আলোচনা করো।  ভূমিকা : ভারতের ইতিহাসে ইউরোপীয় মিশনারিদের প্রবর্তিত শিক্ষায় হল পাশ্চাত্য শিক্ষা । কারণ ইংরেজদের পূর্বে পোর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ফরাসি, দিনেমার প্রভৃতি জাতির মিশনারিরা আমাদের দেশে ইউরোপীয় শিক্ষাব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। সুতরাং, ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতার হাত ধরে রাজনৈতিক ইতিহাসে আধুনিক যুগের সূত্রপাত হলেও আধুনিক শিক্ষার অভিষেক ইউরোপীয় মিশনারিদের হাত ধরেই হয়েছিল।  ভারতে মিশনারিদের অবদান আলোচনা করো।   পোর্তুগিজ মিশনারিদের অবদান  পোর্তুগিজ মিশনারিরাই ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রবর্তক। পোর্তুগিজ বণিকদের ব্যাবসাকেন্দ্র— গোয়া, দমন দিউ, কালিকট, হুগলি প্রভৃতি স্থানে সে সময় রোমান ক্যাথলিক ধর্মপ্রচারকরা যেমন রবার্ট-দ্য নবিলি, ফ্রান্সিস জেভিয়ার উপস্থিত হয়ে ধর্মপ্রচারের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের আদর্শে কতকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। তখন ইউরোপীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায় প্রোটেস্টান্ট এবং রোমান ক্যাথলিক এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। শোনা যায় যে, খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার জন্যে জেডিরার নাকি চলার পথে একটা ঘণ্টা বাজাতে বাজাতে মানবহৃ...

পরিবেশবিদ্যা পাঠের প্রধান গুরুত্বগুলি আলোচনা করো

পরিবেশবিদ্যা পাঠের প্রধান গুরুত্বগুলি আলোচনা করো। পরিবেশবিদ্যা গুরুত্ব । পরিবেশবিদ্যা পাঠের প্রধান গুরুত্বসমূহ (Major Importance of Environmental Studies) : 1. বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে শক্তির প্রবাহ, পুষ্টির যোগান এবং জীবজগতের পুষ্টির যোগান অনুযায়ী ঐ বাস্তুতন্ত্রের প্রজাতির সংখ্যা কতটা সামজস্যপূর্ণ তা বিচার-বিশ্লেষণ করা। 2. পরিবেশবিদ্যার পাঠের দ্বারা পৃথিবীর জনসংখ্যা, জনসংখ্যার বণ্টন, বৈশিষ্ট্য এবং পরিবেশের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রজাতির হার যথার্থ কিনা সে সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায় । 3. প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলিকে সঠিকভাবে মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার করতে শেখা। 4. প্রাকৃতিক সম্পদগুলিকে সঠিক বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ব্যবহার করতে শেখা। 5. পরিবেশবিদ্যা জনসাধারণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করে থাকে। 6. পরিবেশবিদ্যা পাঠের গুরুত্ব স্থানীয় বা চারপাশের ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং তাতে প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রাচুর্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানলাভ করা যায়। 7. কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ভুক্ত জীবেদের মধ্যে সম্পর্ক নিরূপণ করা যায়। ৪. মানুষ এবং পরিবেশের সম্পর্ক, বিশেষ করে পরিবেশ অবনমন সম...

বিজ্ঞান বিপ্লবের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিহাস লিখন পদ্ধতি আলোচনা করো

বিজ্ঞান বিপ্লবের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিহাস লিখন পদ্ধতি আলোচনা করো। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকের বিজ্ঞান বিপ্লব এবং তজ্জনিত যুক্তিবাদী চেতনা ইতিহাস রচনার ( ইতিহাস লিখন পদ্ধতি ) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোপারনিকাস, কেপলার, গ্যালিলিও এবং নিউটনের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার মানুষের চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রে এক বিপ্লব সাধন করে। ঐতিহাসিক উপাদানসমূহের সংগ্রহ, তার সত্যাসত্য যাচাই করা, যথাযথ সংরক্ষণ নতুন ইতিহাস বিজ্ঞানের (New Science of History) মাপকাঠি হয়ে ওঠে। ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিতে এই ধরনের গবেষণাধর্মী ইতিহাস রচনার  (ইতিহাস লিখন পদ্ধতি)  ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। মুদ্রাবিজ্ঞান (Numismatics) ও Epigraphy ব্যবহার করে ঐতিহাসিক তথ্য যাচাই করা আগের তুলনায় অনেকাংশে ফলপ্রসূ হয় এবং ভাবজগৎ থেকে ইতিহাস ক্রমশ বেরিয়ে এসে যুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ে। ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি-প্রক্রিয়া (Methodology) তৈরি হয় যা তৎকালীন প্রকৃতিবিজ্ঞানের (Natural Sciences) পরীক্ষামূলক পদ্ধতিকে অনুসরণ করে। দার্শনিক বিজ্ঞানী (Philosopher Scientist) ফ্রান্সিস বেকন (Francis Bacon ) এর পথিকৃৎ ছিলেন। উক্ত শতকে...

পপুলেশন কাকে বলে। পপুলেশনের বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো

পপুলেশন কাকে বলে । পপুলেশনের বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো। পপুলেশন কাকে বলে । পপুলেশনের সংজ্ঞা (Definition of Population) : পপুলেশন হল একটি নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট সময়ে অবস্থানকারী একটি প্রজাতির সকল সদস্য যাদের মধ্যে জিনগত তথ্যের আদান-প্রদান বর্তমান। ওডাম (Odum), (1974) এর মতে পপুলেশন হল “একইকই প্রজাতির বা নিকটবর্তী শ্রেণির জোটবদ্ধ সদস্য, যাদের মধ্যে জিনগত তথ্যের আদান-প্রদান হয় এবং যারা একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে।”  পপুলেশনের বৈশিষ্ট্যসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা : 1. পপুলেশনের আকার : কোনো পপুলেশনের সদস্যদের আগমন বা বহির্গমনের সাথে সাথে এর আকার পরিবর্তিত হয়। জন্ম অথবা ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে যেমন পপুলেশনের আকার বৃদ্ধি পায় ঠিক তেমনই মৃত্যু বা এমিগ্রেশন পপুলেশনের আকার হ্রাস করে।  2. পপুলেশনের ঘনত্ব : একটি একক ক্ষেত্রে অবস্থিত একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির সকল সদস্যকে পপুলেশনের ঘনত্ব বলে। উদাহরণস্বরূপ যদি বলা হয় 10 বর্গ কিমি অঞ্চলে 300টি বাঘ অবস্থান করে তাহলে বাঘের পপুলেশন ঘনত্ব হবে 3001 পপুলেশন ঘনত্ব মূলত দুপ্রকারের হয়ে থাকে। a. স্হূল ঘনত্ব : একটি বৃহৎ অঞ্চলে অবস্থিত এক...

প্রাচ্যবাদের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে আলোচনা করো

প্রাচ্যবাদের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে আলোচনা করো । ইউরোপীয় তথা বিজিত জাতির প্রতিনিধি হিসেবে ইংরেজরা একরকম আত্মশ্লাঘা বোধ করে এবং সর্বক্ষেত্রে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরতে ব্যগ্র হয়। এই উন্নাসিকতার নেপথ্যে একপ্রকার মানসিকতা কাজ করে যাকে প্রয়াত প্যালেস্তিনীয় বংশোদ্ভূত পণ্ডিত ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এডওয়ার্ড সেইড (Edward Said) প্রাচ্যবাদ অথবা ওরিয়েন্টালিজম' (Orientalism) (ওরিয়েন্টালিস্ট) বলে অভিহিত করেছেন। প্রাচ্যবাদের বিষয়বস্তু হল - এই মতাদর্শ মধ্যপ্রাচ্যের ঔপনিবেশিক শোষণ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তথাপি এশিয়ার বিভিন্ন উপনিবেশগুলির অভিজ্ঞতার নিরিখে এর ব্যাপকতা লক্ষ করা যায়। প্রাচ্যবাদ একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি (Outlook) যা শ্বেতকায় (Whites) এবং অশ্বেতকায় (Non-whites)-দের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন রেখা ( Demarcation line) তৈরি করে।

শিক্ষাশ্রয়ী সমাজবিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তাগুলি আলোচনা কর

শিক্ষাশ্রয়ী সমাজবিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা গুলি আলোচনা কর ।  শিক্ষাশ্রয়ী সমাজবিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তাগুলো (Necessities of Educational Sociology) হল [1] পরিবেশের মধ্যেই ব্যক্তির জন্ম, বৃদ্ধি ও বিকাশ। এই পরিবেশ ও ব্যক্তির মাঝে পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ সত্তা বিকশিত হয়, আত্মবিশ্লেষণ- আত্মমূল্যায়ন অভিযোজন প্রভৃতির মাধ্যমে সে নিজের স্বরূপ আস্তে আস্তে উপলব্ধি করতে পারে। এ কথা সত্য যে, ব্যক্তির যথার্থ বিজ্ঞানসম্মত উপলব্ধির জন্য চাই যথার্থ শিক্ষা। শিক্ষাশ্রয়ী সমাজবিজ্ঞানই (Educational Sociology) ব্যক্তির পথপ্রদর্শক হয়ে তাকে যথার্থ পথে পরিচালিত করতে পারে। [2] বিদ্যালয় হল সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণ। পরিবারের একান্ত ক্ষুদ্র গন্ডি পার হয়ে বিদ্যালয়ে এসেই শিক্ষার্থী রীতিনীতি সংস্কার-ঐতিহ্য-সৌম্যবোধ দায়িত্ববোধ-নিয়মানুবর্তিতা-কর্মনিষ্ঠা প্রভৃতি সম্বন্ধে জ্ঞানার্জন করে থাকে। সমাজের অগ্রগতির জন্য, পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গে এগুলোর পরিচিতির প্রয়োজন হয়। বিদ্যালয় এবং সমাজ—এই দুটোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করার জন্য শিক্ষাশ্রয়ী সমাজবিজ্ঞানের (Educational Sociology) প...

পৌর বর্জ্য জল বলতে কী বোঝ। পৌর বর্জ্য জল শোধনের প্রক্রিয়াগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো

পৌর বর্জ্য জল বলতে কী বোঝ? পৌর বর্জ্য জল শোধনের প্রক্রিয়াগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো। পৌর বর্জ্য জল (Municipal waste water) : পৌরসভার অন্তর্গত গৃহস্থালি এবং কলকারখানা থেকে নির্গত যে জলে ভাসমান সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কণা, কলয়ডীয় পদার্থ ও প্যাথোজেনের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয় তাকে পৌর বর্জ্য জল বলা হয়। পৌর বর্জ্য জল শোধনের প্রক্রিয়াসমূহ (Treatment of Municipal waste water) :  পৌর অঞ্চলের বর্জ্য জলকে প্রধানত নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি দ্বারা শোধন করা হয়। A. প্রাথমিক শোধন প্রক্রিয়া (Primary treatment) : পৌর বর্জ্য জল শোধনের প্রাথমিক প্রক্রিয়াগুলি নিম্নরূপ : 1. তঞ্চন (Coagulation) : এই পদ্ধতিতে জলে ভাসমান সূক্ষ্মকণা, জৈবদূষক ও জীবাণু নষ্ট করা হয়। প্রথম পর্যায়ে কিছু তত্ত্বক পদার্থ যেমন অ্যালুমিনিয়াম বা আয়রনের লবণ যুক্ত করা হয়। ফলে ভাসমান সূক্ষ্ম কণাগুলি জমাট বেঁধে যায়। এরপর সক্রিয় কার্বন গুঁড়ো, ক্লোরিন, ওজোন, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মেশানো হয়। এতে প্রাথমিকভাবে জলের জীবাণুনাশ হয় ও জৈব দূষকগুলির জারণ ঘটে। সবশেষে প্রয়োজন মতো p" মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য অ্যাসিড বা ক্ষার মেশানো হয় । 2. ফ...

মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের ওপর পরিবেশের প্রভাব আলোচনা করো

মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের ওপর পরিবেশের প্রভাব আলোচনা করো।  মানব জীবনে পরিবেশের প্রভাব । মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের ওপর পরিবেশের প্রভাব : ভূমিকা : প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের জীবনযাপন প্রণালী গড়ে উঠেছে পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। মানুষ তার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে বা খাপ খাইয়ে জীবনযাপন করে। পরিবেশের সঙ্গে মানুষের এভাবে মানিয়ে নেওয়া বা খাপ খাওয়ানোকে অভিযোজন (Adaptation) বলা হয়। এই অভিযোজন মানুষের সাংস্কৃতিক উন্নতিকেই নির্দেশ করে। মানুষ বর্তমানে তার শিক্ষাদীক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি ঘটিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতিকূলতাকে জয় করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর মানুষ তার নির্ভরশীলতা ক্রমশ কাটিয়ে জীবনযাত্রার উপযোগী এক নিজস্ব পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের ওপর পরিবেশের প্রভাব : মানুষ তার জীবিকা নির্বাহের জন্য নানারকম অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। অতীতে জীবিকা সংস্থানের জন্য মানুষের উপায়গুলি ছিল মাছ ও পশু শিকার। পরবর্তী সময়ে এর সাথে যোগ হয়েছে পশুপালন, কাঠ সংগ্রহ, কৃষিকাজ প্রভৃতি কাজ। বর্তমানে এসবের সঙ্গে জীবিকা হি...

শিক্ষাক্ষেত্রে গণমাধ্যমের গুরুত্ব আলোচনা কর

শিক্ষাক্ষেত্রে গণমাধ্যমের গুরুত্ব আলোচনা কর  ‌। শিক্ষাক্ষেত্রে গণমাধ্যমের গুরুত্ব । ভূমিকা:  শিক্ষার্থীর জীবনে গণমাধ্যমে (Massmedia) এর গুরুত্ব অসীম। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম হল - সংবাদপত্র (Newspaper), চলচ্চিত্র (Cinema), বেতার (Radio), দূরদর্শন (Television) প্রভৃতি। শিক্ষাক্ষেত্রে গণমাধ্যমের গুরুত্বগুলি হল— [1] স্বতঃস্ফূর্ত শিখন: গণমাধ্যমে (Mass Media) শিক্ষার উপাদানগুলি অর্থাৎ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পাঠক্রম ও শিক্ষালয়, নিয়মের কঠিন বাঁধনে বাঁধা থাকে না। এর ফলে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রাকৃতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আঙিনা থেকে শিক্ষালাভ করে জীবন বিকাশের রসদ সংগ্রহ করতে পারে। [2] সামাজিক বিকাশ: গণমাধ্যমগুলি যেমন— সংবাদপত্র, বেতার, চলচ্চিত্র, দূরদর্শন ইত্যাদিতে ঘটনাবলি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক বিকাশ ঘটে, নবচেতনার দ্বার উন্মুক্ত হয়। তাই সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে মানুষের কাছে সামাজিক বিকাশের গুরুত্ব অসীম। [3] মানসিক বিকাশ: জ্ঞানমূলক যে সকল তথ্যাদি গণমাধ্যমে পরিবেশিত হয় তাতে শিক্ষার্থীর মানসিক সংঘটনের ভিত দৃঢ় হয়, মানসিক বিকাশ ঘটে। [4] রাজ...

পার্ল বার্ত-এর কোন উপন্যাসে চিনের সাধারণ জীবন চিত্রিত হয়েছে

পার্ল বার্ত-এর কোন উপন্যাসে চিনের সাধারণ জীবন চিত্রিত হয়েছে?   উঃ- পার্ল বার্ক-এর 'দি গুড আর্থ' উপন্যাসের চিনের সাধারণ জীবন চিত্রিত হয়েছে।

কাউটাউ প্রথা কি অথবা, কাও তাও প্রথা কি

কোটোও (Kotow) প্রথা কী । কাউটাউ প্রথা কি। কাও তাও প্রথা কি উঃ- চিনের ঐতিহ্য অনুসারে সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী ব্যক্তিকে সম্রাটের সামনে তিনবার নতজানু হয়ে প্রতিবার নতজানু অবস্থায় তিনবার মাটিতে মাথা স্পর্শ করে অর্থাৎ মোট নয়বার অবনত মস্তকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাতে হতো। এই প্রথাকে বলা হত কাউটাউ বা কাও তাও প্রথা  । চিনে কাও তাও প্রথা প্রচলিত ছিল ।

চিনে কীভাবে সরকারী কর্মচারী নিযুক্ত হতো

চিনে কীভাবে সরকারী কর্মচারী নিযুক্ত হতো ? উঃ- বিপ্লব-পূর্ব চিনে একাধিক স্তর বিশিষ্ট পরীক্ষা ব্যবস্থায় উত্তীর্ণ চিনাদের সরকারী কর্মচারী হিসাবে নিযুক্ত করা হতো।

কে কাকে 'আমলাতান্ত্রিক সামন্ততন্ত্র' বলেছেন এবং কেন

  কে কাকে 'আমলাতান্ত্রিক সামন্ততন্ত্র' বলেছেন এবং কেন ?   চিনের অধিকাংশ জমির মালিক ছিল স্কলার জেন্ট্রি বা পণ্ডিত-রাজকর্মচারীরা। অন্যদিকে তারা ছিল সমস্ত উচ্চপদের একমাত্র অধিকারী। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভবনকে যোসেফ নীডহ্যাম অভিহিত করেছেন 'আমলাতান্ত্রিক সামন্ততন্ত্র' হিসাবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার  জন্যই যোসেফ নীডহ্যাম অভিহিত করেছেন 'আমলাতান্ত্রিক সামন্ততন্ত্র' হিসাবে।

যুগ সন্ধিক্ষণের বিতর্ক নিয়ে কোন কোন ঐতিহাসিক আলোচনা করেছেন

যুগ সন্ধিক্ষণের বিতর্ক নিয়ে কোন্ কোন্ ঐতিহাসিক আলোচনা করেছেন? 1700-1800 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বিভিন্ন ঘাতপ্রতিঘাত দিয়ে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবর্তনের সূচনা হয় যাকে এককথায় বিভিন্ন ঐতিহাসিকগণ যুগসন্ধিক্ষণ বা Transition in Indian History বলে অভিহিত করে থাকেন। এই মত বহু বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ঐতিহাসিক সীমা আলাভি (Seema Alavi (Ed.) The Eighteenth Century in India), পি জে মার্শাল (PJ Marshall (Ed.) The Eighteenth Century in Indian History), ক্রিস্টোফার বেলি (Christopher Bayly, Indian Society and the Making of the British Empire), অ্যান্ড্রু পোর্টার (Andrew Porter (Ed.) The Nineteenth Century Oxford History of the British Empire) প্রমুখ যুগ সন্ধিক্ষণের বিতর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন । প্রধান আলোচ্য বিষয় হল প্রাক্-ঔপনিবেশিক ভারতীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, রাজস্ব সংগ্রহ, সংগ্রহের পরিকাঠামো ও রাজস্ববিধি, কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থা, কেন্দ্রীয় (মুঘল) সরকারের বিভিন্ন নীতি রূপায়ণে অসন্তোষ এবং সেই অসন্তোষজনিত কারণে বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিদ্রোহ (Revolt of "Nationalities" J...

চিনে পণ্ডিত কর্মচারী কাদের বলা হতো

চিনে পণ্ডিত কর্মচারী কাদের বলা হতো ? উঃ- চিনে স্কলার জেন্ট্রিদের পণ্ডিত কর্মচারী বলা হতো।

'জাতি সমূহের পরিবার' বলতে কী বোঝ

  'জাতি সমূহের পরিবার' বলতে কী বোঝ? চিন তার দুর্বল প্রতিবেশী কোরিয়া, আন্নাম, শ্যাম, ব্রহ্মদেশ প্রভৃতি দেশকে নিয়ে গড়ে তুলেছিল 'জাতি সমূহের পরিবার' যেখানে চিন পদমর্যাদায় ছিল সর্বোচ্চে, আর অন্য সভ্যরা ছিল চিনের অধীন। আনুষ্ঠানিক আনুগত্যের বিনিময়ে চিন প্রয়োজনে এই রাষ্ট্রগুলিকে সাহায্য করত।

প্রাক্-আধুনিক চিনের অর্থনীতির চরিত্র কী ছিল

প্রাক্-আধুনিক চিনের অর্থনীতির চরিত্র কী ছিল? প্রাক্-আধুনিক চিনের অর্থনীতিকে স্বয়ং সম্পূর্ণ (self sufficient) ও জীবিকা নির্বাহ (subsistence) অর্থনীতি বলা হয়। প্রাক্-আধুনিক চিনের অর্থনীতির চরিত্র ছিল স্বয়ং সম্পূর্ণ  । এই সময়ে চিনারা কোনো বিদেশি পণ্য দ্রব্যের উপর নির্ভর ছিল না এবং ব্যাপক মাত্রায় পণ্য-দ্রব্য রপ্তানিও করত না। নিজেদের প্রয়োজন মতো পণ্য-দ্রব্য চিনারা উৎপাদন করত এবং দেশের উৎপাদিত সামগ্রির দ্বারাই নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে ফেলত।

কনফুসিয়বাদের বাইবেল কাকে বলা হয়

কনফুসিয়বাদের বাইবেল (Bible of Confuciasism) কাকে বলা হয় ?  কনফুসিয়াসের বক্তব্য ও মতামতের সংকলন চারটি গ্রন্থ ও পাঁচটি চিরায়ত সাহিত্য গ্রন্থকে (Classics) একত্রে কনফুসিয়বাদের বাইবেল বলা হয়। এই গ্রন্থগুলিতে কনফুসিয়াসের প্রধান বক্তব্য ও শিক্ষাগুলি সংকলিত আছে বলে এইগুলিকে কনফুসিয়বাদের বাইবেল বলা হয়। চারটি গ্রন্থের নাম— অ্যানালেক্টস, মেনসিয়াসের গ্রন্থ, গ্রেট লার্নিং ও ডকট্রিন অফ দি মিন। আর পাঁচ চিরায়ত সাহিত্য গ্রন্থের নাম— বুক অফ চেঞ্জ, বুক অফ ডকুমেন্টস (হিস্ট্রি), বুক অফ পোয়েট্রি, বুক অফ রাইটস ও স্প্রিং অ্যান্ড অটাম অ্যানালগ ।

জগৎ শেঠ কারা ছিলেন

জগৎ শেঠ কারা ছিলেন? নবপ্রতিষ্ঠিত রাজ্যগুলি নিজেদের প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যয়ভার মেটানোর উদ্দেশ্যে দেশীয় বণিক শ্রেণীর ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল ছিল। এই বণিক সম্প্রদায় দূর বাণিজ্য (Long Distance Trade), (Money Lending) এবং বিভিন্ন প্রকার আর্থিক লেনদেন (Financial Transaction)-এর দ্বারা অপার অর্থ উপার্জন করতেন এবং সেই সুবাদে অগাধ সম্পদের অধিকারী হন। এদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন রাজস্থান থেকে আগত ওসওয়াল (Oswal) পরিবার যারা জগৎ শেঠ (Jagat Seth) নামে বিখ্যাত হন, পাঞ্জাব থেকে বাংলায় আগত ওমিটা (Omi Chand ) প্রমুখ।

হিস্টোরিওগ্রাফি কথাটির অর্থ কি

হিস্টোরিওগ্রাফি কথাটির অর্থ কি । হিস্টোরিওগ্রাফি কথাটির আক্ষরিক অর্থ কি । হিস্টোরিওগ্রাফি কথাটির আক্ষরিক অর্থ কি ?  Historiography (হিস্ট্রিওগ্রাফি) বলতে মূলত বোঝায় ঐতিহাসিকদের দ্বারা ব্যক্ত কোনো একটি ঘটনার ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা। এককথায় বলতে গেলে হিস্ট্রিওগ্রাফি হল ইতিহাসের ইতিহাস (The history of history)। ঐতিহাসিকরা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে কোনো একটি বিশেষ ঘটনার পর্যালোচনা করেন এবং তার বিশদ ব্যাখ্যা দেন। ভারতীয় ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে হিস্ট্রিওগ্রাফির গুরুত্ব অপরিসীম। কোনো একটি দেশের ইতিহাস তার স্থান, কাল ও পাত্রের নিরিখে রচিত হয়। বিশ্বে ভারতবর্ষের ভৌগোলিক অবস্থান এবং তার জলবায়ু এই দেশের ইতিহাসকে একটি নতুন মাত্রা দান করেছে। ভারতবর্ষের ইতিহাসকে তার প্রাকস্বাধীনতা যুগ থেকে স্বাধীনোত্তর যুগ পর্যন্ত মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হত, যথা—প্রাচীন, মধ্য এবং আধুনিক। কিন্তু 1950-এর দশকে তার একটি নতুন সংযোজন করা হয় যা আদি-মধ্য যুগ বা প্রাচীন ও মধ্যযুগের মধ্যবর্তী সময়। এটিকে ভারতীয় ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে যুগসন্ধিক্ষণ (Transition) বলা যেতে পারে। ভারতবর্ষের ঐতিহাসিক বিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ...

বেনিয়ান ও মুৎসুদ্দি বলতে কী বোঝো

বেনিয়ান ও মুৎসুদ্দি বলতে কী বোঝো?  অষ্টাদশ শতকের শেষপ্রান্তে শিল্পবিপ্লবের দরুন পশ্চিম ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলি অর্থনৈতিকভাবে বলীয়ান হয় এবং তাদের জীবনযাত্রার মান ক্রমশ উন্নত হয়। কাচামাল এবং উৎপাদিত শিল্পদ্রব্যের বাজারের জন্য তারা এশিয়া এবং আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপনে সচেষ্ট হন। তৎসত্ত্বেও এশিয়ার উৎপাদিত কারিগরি শিল্পদ্রব্যগুলির (artisan products) চাহিদা বিশ্ববাজারে অক্ষুণ্ণ থাকে। এই বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ এবং বিপুল আর্থিক মুনাফার চাবিকাঠি ছিল দেশীয় বণিক ও অর্থনৈতিক সংস্থাগুলির হাতে। বেনিয়ান ( Banian) ও মুৎসুদ্দি (Mutsuddi) নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীগুলি পরবর্তীকালে ইউরোপীয় বণিক সংঘ ও দেশীয় রাজ্যগুলির মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর (Intermediaries) কাজ করেন।

স্কলার জেন্ট্রি কাদের বলা হয় । চিনা পরিভাষায় তাদের কী বলা হতো

স্কলার জেন্ট্রি কাদের বলা হয়? চিনা পরিভাষায় তাদের কী বলা হতো?  স্কলার জেন্ট্রি কাদের বলা হয় । চিনের এক বিশেষ শ্রেণির অধিবাসীদের স্কলার জেন্ট্রি বলা হতো। এরা ছিল জেন্ট্রি অর্থাৎ প্রচুর পরিমাণ জমির মালিক এবং স্কলার অর্থাৎ শিক্ষিত। হান রাজবংশের সময় থেকে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চিনের সমাজে এই শ্রেণির অস্তিত্ব ছিল। এই শ্রেণির মানুষরা সরকারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্ন রাজকর্মচারী পদে যুক্ত হতো। এই স্কলার জেন্ট্রিরা শহর ও গ্রামে সমাজের নেতার ভূমিকাও পালন করত। চিনের স্কলার জেন্ট্রিরা জ্ঞান, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতা ও জমির অধিকারী ছিল। বংশানুক্রমিকভাবে এই শ্রেণির সদস্য হওয়া যেত না, এর জন্য প্রয়োজন ছিল শিক্ষা ও সরকারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বা সরকারী চাকরি। এরা অবশ্য সাধারণ মানুষের মতো শারীরিক পরিশ্রম করত না। চিনা পরিভাষায় স্কলার জেন্ট্রিদের কী বলা হতো?  • চিনা পরিভাষায় তাদের শেনশি বা জিনশেন বলা হতো।

ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সুপারিশ গুলি লেখ

ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সুপারিশ (1902) গুলি লেখ । ভূমিকা :  লর্ড কার্জন উচ্চশিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন যে, ভারতের উচ্চশিক্ষিতদের আস্থাভাজন হতে পারলে বিদ্রোহের যে স্রোত বয়ে চলেছে তার গতি স্তদ্ধ হবে। তাই তদানীন্তन পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়—কলকাতা, মাদ্রাজ, বোহাই, এলাহাবাদ ও পাঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সংস্কারের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। ওই সংস্কারের উদ্দেশ্যে 1902 খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে যে শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়, সেই শিক্ষা কমিশন-ই হল ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন। 1902 খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারিতে গঠিত কমিশন অতি তৎপরতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে এবং জুন মাসে তাঁদের সুনিয়ন্ত্রিত সুপারিশগুলি সরকারের কাছে উপস্থাপন করে। ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলি হল ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সুপারিশ গুলি : নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন: ভারতে প্রতিষ্ঠিত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় — কলকাতা, মাদ্রাজ, বোম্বাই, এলাহাবাদ ও পাঞ্জাব ছাড়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজন নেই বলে কমিশন অভিমত দেয়। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প...

ভারতীয়দের নিজস্ব ইতিহাস ধারণা সম্পর্কে কী জানো

ভারতীয়দের নিজস্ব ইতিহাস ধারণা সম্পর্কে কী জানো? অধুনা পশ্চিমের পণ্ডিত ও ঐতিহাসিকদের মতে ভারতবর্ষের কোনো প্রকৃত ইতিহাস নেই । এই ইতিহাসহীনতার পিছনে তাঁরা যে যুক্তি দিয়েছেন তা হল এই যে, ভারতবর্ষ নামক কোনো দেশের অস্তিত্ব আদপেই ছিল না বা ভারতবর্ষ বলতে যা বোঝায় তা হল বিভিন্ন ছোটো-বড়ো ও মাঝারি রাজ্য/রাষ্ট্রসমূহের সমাহার। বিখ্যাত জার্মান দার্শনিক হেগেল বলেছেন যে, হিন্দু জাতির কোনো ইতিহাস নেই ( The Hindus have no history)। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের  জনক কার্ল মার্কসের বক্তব্য এই পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ দ্রষ্টব্য — Hindustan is an Italy of Asiatic dimension, the Himalayas for the Alps, the plains of Bengal for the plains of Lombardy, the Deccan for the Apennines and the Isle of Ceylon for the Island of Sicily. There is the same rich variety in the products of the soil and the same dismemberment in political configuration. Just as Italy has from time to time been compressed by the conquerors sword into different national masses, so do we find Hindustan when not under the pressure of the Mohammed...

ভারতের সামাজিক পরিবর্তনের সমস্যা গুলি কি কি

ভারতবর্ষে সামাজিক পরিবর্তনের সমস্যাদি (Problems of social change) উল্লেখ করো। ভারতের সামাজিক পরিবর্তনের সমস্যা গুলি কি কি ।  ভূমিকা:  সামাজিক পরিবর্তন (social change) সর্বজনীন। কিন্তু সমাজরূপ বিশাল ও জটিল সংগঠনের বুকে সামাজিক পরিবর্তন সাধারণত স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসে না, কিছু সুগম, কিছু দুর্গম পথ অতিক্রমের শেষে তা দেখতে পাওয়া যায়। যেমন সতীদাহ প্রথা, বাল্যবিবাহ, অস্পৃশ্যতা প্রভৃতির মতো অমানবিক প্রথা, রক্ষণশীল সমাজের বুক থেকে একেবারে দূর না হলেও বহু মানুষের ত্যাগে, ঐকান্তিক চেষ্টায় ওগুলো অনেকটাই দূর হয়েছে। ভারতের সামাজিক পরিবর্তনের সমস্যা গুলি  : (1) রক্ষণশীল মনোভাব: পুরোনো প্রথাকে ধরে রাখার মানসিকতাই সামাজিক সমস্যা দূর করার ক্ষেতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। এই রক্ষণশীল মনোভাবকে কাটিয়ে সামাজিক পরিবর্তন আনতে বহু সংগ্রাম, বহু ত্যাগের সাক্ষী হয়ে দাঁড়াতে হয়েছে বা হচ্ছে। [2] অজ্ঞতা: আমাদের ভারতবর্ষের বহু মানুষ নিরক্ষর। নিরক্ষরতার অভিশাপে অভিশপ্ত জীবন অজ্ঞতার অন্ধকারে ডুবে থাকে। তাই সমাজের বুকে বাসা বাধা সমস্যাদি দূর করে, যথার্থ মূল্যবোধের জাগরণ ঘটিয়ে সামাজিক পরিবর্তন আনা ...

ইউরোপে ভারততত্ত্বের সূচনার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ লেখো

ইউরোপে ভারততত্ত্বের (Indology) সূচনার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ লেখো । ইউরোপে ভারততত্ত্বের  সূচনা ।  ইউরোপে ভারততত্ত্বের  সূচনা : অষ্টাদশ শতকের শেষে ও ঊনবিংশ শতকের প্রথমে ইউরোপীয় মহাদেশে সংস্কৃতচর্চা ও ভারতীয় ঐতিহ্য নিয়ে পণ্ডিত মহলে ভাবনাচিন্তার সূত্রপাত হয়। আনুমানিক 1786 খ্রিস্টাব্দ থেকে 1801 খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে উপনিষদগুলি সর্বপ্রথম ইউরোপীয় ভাষায় অনুদিত হয়। 1796 খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সরকার প্রাচ্য বিদ্যাচর্চা কেন্দ্র (Ecole de Langues Orientales Vivantes) স্থাপন করেন। 1814 খ্রিস্টাব্দে College de France-এ সংস্কৃত ভাষা শিক্ষার জন্য একটি 'অধ্যাপক' পদ সৃষ্টি করা হয়। 1818 খ্রিস্টাব্দ থেকে জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অনুরূপ পদ সৃষ্ট হয়। ইউরোপীয় মহাদেশে জার্মানি হয়ে ওঠে সংস্কৃতচর্চার ও অধ্যাপনার প্রধান পীঠস্থান। 1816 খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত ভাষাতত্ত্ববিদ ফ্রানৎস বপ (Franz Bopp) উইলিয়াম জোন্সের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সংস্কৃতের সঙ্গে অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষাসমূহের, যথাক্রমে লাতিন ও গ্রিক ভাষার সাদৃশ্য খুঁজে পান। এই আবিষ্কারকে কেন্দ্র করে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব (Comparat...

মেগাস্থিনিসের ‘ইন্ডিকা’ ভারত সম্বন্ধে কী বার্তা বহন করে । তাঁর ধারণাগুলি কতটা যুক্তিযুক্ত

মেগাস্থিনিসের ‘ইন্ডিকা’ ভারত সম্বন্ধে কী বার্তা বহন করে । তাঁর ধারণাগুলি কতটা যুক্তিযুক্ত ? মেগাস্থিনিসের ‘ইন্ডিকা’ ভারত সম্বন্ধে কী বার্তা বহন করে : এই প্রসঙ্গে মেগাস্থিনিস (Megasthenes) রচিত ইন্ডিকা (Indica) বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে।সেলুকাসের রাজদূত হিসেবে মেগাস্থিনিস মৌর্য রাজসভায় তাঁর পরিচয় দেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ইন্ডিকা-তে মেগাস্থিনিস মৌর্য প্রশাসন ও ভারতবর্ষের তৎকালীন আর্থসামাজিক ব্যবস্থার বিশদ বিবরণ রেখে গেছেন। মূল গ্রন্থটি আর পাওয়া যায় না, কিন্তু তার অংশবিশেষ থেকে অন্যান্য গ্রিক ও রোমান ঐতিহাসিকেরা (স্ট্রাবো, এরিয়ান প্রমুখ) উদ্ধৃতি দিয়েছেন। মেগাস্থিনিসের ধারণাগুলি কতটা যুক্তিযুক্ত ? মেগাস্থিনিস তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ভারতবর্ষে কোনো দাসপ্রথা নেই এবং পাটলিপুত্র ভারতের বৃহত্তম শহর। এ ছাড়া তিনি সাধারণ ভারতীয়দের সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন— Theft is a very rare occurrence, অর্থাৎ, চৌর্যবৃত্তি ছিল খুবই অল্প মাত্রায়। এ ছাড়া তিনি অপরাধীদের কঠোর শাস্তিদানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। গুরুতর অপরাধে অঙ্গচ্ছেদের ব্যবস্থা (Mutilation) ছিল। মেগাস্থিনিসের আখ্যানগুলি...

বাণভট্টের ‘হর্ষচরিত' ঐতিহাসিক দিক থেকে কতটা প্রাসঙ্গিক

বাণভট্টের ‘হর্ষচরিত' ঐতিহাসিক দিক থেকে কতটা প্রাসঙ্গিক? ভূমিকা :  গুপ্তযুগে ভাষা ও সাহিত্য বিশেষ সমাদর লাভ করে। গুপ্ত সম্রাটদের প্রশস্তিগুলি এক বিশেষ ধরনের ছন্দে লেখা হত, যাকে কাব্য বলা হয়। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত সাহিত্যের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বাণভট্টের ‘হর্ষচরিত' ঐতিহাসিক দিক থেকে কতটা প্রাসঙ্গিক?  হরিষেণের এলাহাবাদ প্রশস্তি এর একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত। এই সময় চৈনিক পরিব্রাজক ফাহিয়েন (ফাসিয়েন) ভারতবর্ষে আসেন এবং তাঁর ভারত পরিক্রমার বিবরণ তাঁর রচিত গ্রন্থ ফু-কুয়ো-কিং (Fu-Kuo-King)-এ রেখে যান। ফাহিয়েন বৌদ্ধ ধর্ম ও সাংস্কৃতিক পীঠস্থানগুলি সম্বন্ধে বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। তবে তাঁর গ্রন্থে তৎকালীন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির উল্লেখ আছে। ভারতবর্ষের ইতিহাসের সামাজিক পর্বের অবসান ঘটে সম্রাট হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে। বাণভট্টের ‘হর্ষচরিত' ঐতিহাসিক দিক থেকে প্রাসঙ্গিক  ছিল  হর্ষবর্ধনকে সকল উত্তরপথনাথ (Sakalauttarapatanatha) বলে অভিহিত করা হয়। এই উপাধি অবশ্য ঐতিহাসিক দিক থেকে বিতর্কিত কারণ, সমগ্র উত্তর ভারত হর্ষবর্ধনের সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল না। যা হোক, হর্ষবর্ধন-এর...