Posts

Showing posts from March, 2023

চরিত গ্রন্থগুলির বৈশিষ্ট্য

চরিত গ্রন্থগুলির বৈশিষ্ট্য। সাধারণভাবে গুপ্তোতর যুগ থেকে দ্বাদশ শতকের শেষ বা ত্রয়োদশ শতকের গোড়া পর্যন্ত সময়কাল ভারতের ইতিহাসে আদি মধ্যযুগ হিসেবে চিহ্নিত। আদি মধ্যযুগের ইতিহাসের প্রধান উপাদান হল সাহিত্য। ইতিহাসের উপাদানের সমৃদ্ধ অনেকগুলি সাহিত্য এ যুগে রচিত হয়। এই সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল চরিত সাহিত্য । চরিত গ্রন্থগুলির বৈশিষ্ট্য  হল আদি মধ্য ভারতের অমাত্য, রাজনীতি সংস্কৃতি প্রকৃতি বিষয়ে উৎসাহিত হয়ে ওঠে। তবে চরিত সাহিত্য গুলি থেকে তৎকালীন যুগের রাজনীতি বেশি ফুটে ওঠে। আদি মধ্য পর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত সাহিত্য হল হর্ষবর্ধনের সভাপতি বানভট্টের রচিত হর্ষচরিত। এই গ্রন্থে হর্ষবর্ধনের রাজনৈতিক কৃতিত্বের বিশেষত রাজ্য জয়ের বিষয় ফুটে উঠেছে। এখান থেকে জানা যায় হর্ষবর্ধন পরে ভারতের অধিপতি ছিলেন। সেখান থেকে আরো জানা যায় যে, হর্ষ হিমালয় সংলগ্ন একটি রাজ্য জয় করেছিলেন। হর্ষচরিত গ্রন্থ থেকে হর্ষবর্ধনের "তুষাশৈল্য" অভিযানের কথা জানা যায়। বিক্রমাগ দেবচরিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত সাহিত্য। এখান থেকে চালুক্যরাজ ষষ্ঠ বিক্রমাদিত্যের রাজ্য জয়ের বিভিন্ন বিষয় জানা যায়। এই...

শিক্ষাক্ষেত্রে বহুধা মাধ্যমের ব্যবহারগুলি আলোচনা কর

Image
শিক্ষাক্ষেত্রে বহুধা মাধ্যমের ব্যবহারগুলি আলোচনা কর। ভূমিকা বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বহুধা মাধ্যম (multimedia) ব্যবহার করে শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষ সাধন করা সম্ভব হয়েছে। বহুধা মাধ্যম (মাল্টিমিডিয়া) শুধুমাত্র পাঠদানের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষা প্রশাসনে এর ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। ওইরূপ কিছু ক্ষেত্রের কথা নিম্নে উল্লেখ করা হল — বিষয়বস্তু মূর্তনের ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সার্থকভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে না পারলে শিক্ষার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছোনো সম্ভব নয়। বহুধা মাধ্যমের ব্যবহারের সাহায্যে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করলে তা শিক্ষার্থীদের কাছে মূর্ত হয়ে ওঠে, ফলে বিষয়বস্তু সহজে হৃদয়ঙ্গমও হয়ে থাকে। যেমন—মরু অঞ্চলের জীবনপ্রণালী যতই আমরা বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপন করে থাকি না কেন সেক্ষেত্রে বিষয়বস্তু যতটা মূর্ত হবে তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি মূর্ত হবে যদি তাদের জীবন কাহিনি টেলিভিশনের মাধ্যমে দেখানো যায়। এ ছাড়াও কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত LCD প্রোজেক্টরের সাহায্যেও বিভিন্ন দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছবি দেখানো হয়ে থাকে। বহুধা মাধ্যম (multimedia) তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক মূল্যা...

অগ্রহার ব্যবস্থা কি। এই প্রথা ভূমিদান ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন এনেছিল

Image
অগ্রহার ব্যবস্থা কি। এই প্রথা ভূমিদান ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন এনেছিল। অগ্রহার ব্যবস্থা কি প্রাচীন ভারতবর্ষের ইতিহাসে খ্রিস্টীয় চতুর্থ থেকে পঞ্চম মধ্যভাগ পর্যন্ত সাড়ে 300 বছর ( 300-650 খ্রিষ্টাব্দ ) এক অসামান্য সৃজনশীল যুগ হিসেবে চিহ্নিত। এই সময়ে অর্থনীতির জীবনে বিশিষ্ট হয়ে উঠেছিল অগ্রহার ব্যবস্থা। অগ্রহার ব্যবস্থার  মূল বৈশিষ্ট্য হল ধর্মস্থান বা পুরোহিত সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে নিষ্কর ভূমিদান । প্রথমে এই অগ্রহার দানের রীতি ব্রাহ্মণদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও মন্দির, মঠ, বিহার ইত্যাদি ধর্ম প্রতিষ্ঠানে এবং পরে ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এটি অগ্রহার ব্যবস্থা নামে পরিচিত ছিল ।  অগ্রহার প্রথা ভূমিদান ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন এনেছিল। ভূমিকাঃ  এই অগ্রহার ব্যবস্থার বিক্ষিপ্ত সূচনা সাতবাহন আমলে 300 খ্রিস্টাব্দের পর এর ব্যাপকতা বাড়ে চতুর্থ পঞ্চম থেকে অগ্রহার প্রথা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এবং বহুল প্রচলিত এক ব্যবস্থায় পরিণত হয়। ভূমি হস্তান্তরের ঘটনা সাধারণত তাম্র ফলকে রাজকীয় শাসন হিসেবে উৎকীর্ণ হয়েছে। এছাড়া মুদ্রা ও উৎখনন থেকে প্রাপ্ত পুর...

ওভারহেড প্রোজেক্টরের একটি সুবিধা লেখো

ওভারহেড প্রোজেক্টরের একটি সুবিধা লেখো। ওভারহেড প্রোজেক্টরের সুবিধা নিম্নলিখিত- ওভারহেড প্রোজেক্টর বা OHP (Overhead Projector) এ   পূর্ব থেকেই স্লাইড তৈরি করে রাখা যায় এবং সেই গুলিকে ক্রমান্বয়ে সাজিয়ে রাখা যায়। চার্ট, অঙ্কন, ছবি এইসব কিছু ব্যাখ্যা-সহ তৈরি করে রাখা যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রছাত্রীরা দেখতে পায় এবং পড়া বুঝতে সুবিধা হয়।

PLATO কী ?

PLATO কী ? উত্তর : PLATO একটি প্রোজেক্টরের নাম।

CAL বলতে কী বোঝায়

CAL বলতে কী বোঝায় / CAL কাকে বলে। cal কথাটির পুরো নাম হলো - Computer Assisted Learning । CAL (ক্যাল) বলতে বোঝায়, কম্পিউটার সহযোগী শিখনকে। শিক্ষক যখন ব্যক্তিগত কৌশল বা পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর চাহিদাপূরণে ব্যর্থ হন কিংবা বিশাল পাঠ্যক্রমের অভিজ্ঞতা যখন শিক্ষার্থীর পক্ষে অর্জন করা অসুবিধাজনক হয়, তখন শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটারকে যেভাবে প্রয়োগ বা ব্যবহার করা হয়, তাকেই বলে CAL বা কম্পিউটার সহযোগী শিখন (Computer Assisted Learning) । শিক্ষার্থীরা Computer-এর সাহায্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্যসংগ্রহ করে সহজভাবে শিখতে পারে। এর মূল নীতি হল, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বাড়িয়ে তোলা।

সুপার কম্পিউটারের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো

সুপার কম্পিউটারের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। সুপার কম্পিউটারের স্মৃতি ক্ষমতা ৮ থেকে ৮৪ মেগাবাইট বা MB হয়। সুপার কম্পিউটার সাধারণত সরকারি বিভাগে বা গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হয়।

অ্যানালগ কম্পিউটার কী / অ্যানালগ কম্পিউটার কাকে বলে

অ্যানালগ কম্পিউটার কী / অ্যানালগ কম্পিউটার কাকে বলে। Q - অ্যানালগ কম্পিউটার কী / এনালগ কম্পিউটার বলতে কি বুঝ? উত্তর : যেসকল কম্পিউটারে পরিমাপ পদ্ধতিতে সূক্ষ্ম বা সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না, তাকে বলে ‘ অ্যানালগ কম্পিউটার '। এই কম্পিউটার কোনো পরিবর্তনশীল বস্তুর পরিমাপ, জটিল গাণিতিক সমস্যা প্রভৃতি সমাধান করে। যেমন- বৈদ্যুতিক তারে ভোল্টেজের ওঠা-নামা, পাইপের ভিতরে গ্যাসীয় ও তরল পদার্থের ওঠা-নামা, লিবনেজের স্টেম্পড রেকোনার অ্যানালগ কম্পিউটার।

ডিজিটাল কম্পিউটার কি / ডিজিটাল কম্পিউটার কাকে বলে

ডিজিটাল কম্পিউটার কী ? Q - ডিজিটাল কম্পিউটার কি / ডিজিটাল কম্পিউটার কাকে বলে। যে সকল কম্পিউটার ডিজিটাল নির্দেশ দ্বারা পরিচালিত হয়, তাদের বলে ‘ডিজিটাল কম্পিউটার’ । সঠিক ও সূক্ষ্ম ফলাফল পেতে গণিতের ক্ষেত্রে এই কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। এই কম্পিউটারে ১-এর অর্থ হলো ON এবং 0-এর অর্থ হচ্ছে OFF । যেমন—বর্তমানে বেশিরভাগ কম্পিউটার হল ডিজিটাল কম্পিউটার ।

পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝো

পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝো / পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কি। Q - পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কাকে বলে। সাধারণভাবে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বলতে বোঝায় মানুষ যখন তার পরিবেশের সাথে সম্পর্কের উন্নতি ঘটিয়ে পরিবেশের উপাদান গুলির সুপরিকল্পিত ব্যবহার ও সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশের গুণগতমানের উৎকর্ষ সাধন করে। সুতরাং যে পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানগুলির সুপরিকল্পিত ব্যবহার ও যথাযথ সংরক্ষণের দ্বারা পরিবেশের গুণগত মান বজায় রাখা হয়, যাতে পরিবেশের কার্যপ্রণালী অক্ষুন্ন থাকে তাকে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বলে। 

গুপ্ত যুগের ভূমি ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করো

Image
গুপ্ত যুগের ভূমি ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করো। ভূমিকাঃ যে-কোনো দেশ বা যুগের সভ্যতা সংক্রান্ত আলোচনায় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে অস্বীকার করা যায় না। গুপ্তযুগের অর্থনীতির বিভিন্ন দিক আছে। এখানে অর্থনীতির অন্যতম উৎস কৃষি ও ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা। গুপ্ত যুগের ভূমি ব্যবস্থা সম্পর্কে সর্বাপেক্ষা আকর উপাদান হল এ-যুগের বেশ কিছু শিলালেখ, বিশেষ করে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রাপ্ত গুপ্ত শাসকদের শিলালেখ। এই শিলালেখগুলি প্রায় সবই তাম্রশাসন। বস্তুত, জমিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় বাংলায় প্রাপ্ত তাম্রশাসনগুলি থেকে। এগুলি হল প্রথম কুমারগুপ্তের ৪৩২-৩৩ খ্রিস্টাব্দের ধনাইদহ তাম্রশাসন এবং প্রথম কুমারগুপ্তের দামোদরপুরে প্রাপ্ত দু'খানি তাম্রশাসন। এগুলির তারিখ যথাক্রমে ৪৪৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪৪৮ খ্রিস্টাব্দ। গুপ্ত যুগের ভূমি ব্যবস্থা গুপ্ত যুগে জমির ওপর রাষ্ট্রীয় প্রভুত্ব যে ছিল তার প্রথম স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায় কাত্যায়ন স্মৃতিতে। এই গ্রন্থে (শ্লোক নং ১৬ ও ১৭) উল্লেখ করা হয়েছে যে রাজা ভূস্বামী এবং উৎপন্ন ফসলের ১/৪ অংশের তিনি অধিকারী। কাত্যায়ন অবশ্য স্বীকার করেছেন, যেহেতু মানুষ ভূমির ওপর ...

বসুন্ধরা সম্মেলনে গৃহীত পদক্ষেপ কি কি

বসুন্ধরা সম্মেলনে গৃহীত পদক্ষেপ কি কি / 1992 বসুন্ধরা সম্মেলনে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। ১৯৯২ সালে বসুন্ধরা সম্মেলনে গৃহীত পদক্ষেপ নিম্নে আলোচনা করা হলো –   [1] ১৯৯২ সালে বসুন্ধরা সম্মেলনে গৃহীত পদক্ষেপ এর মতে  অন্যতম ছিল দূষণকারী রাষ্ট্রকেই নীতিগতভাবে দূষণের সমস্ত ভার বহন করতে হবে। প্রতিটি রাষ্ট্রকে তার সামর্থ্য অনুসারে পরিবেশ রক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। [2] যেসব ক্রিয়াকলাপের পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নকে একটি জাতীয় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। কোনো প্রাকৃতিক বা রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপের দ্বারা কোনো রাষ্ট্রের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলি যদি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে রাষ্ট্রকে আগে থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যা বসুন্ধরা সম্মেলনে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। [3] রাষ্ট্রকে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আভাস পাওয়া মাত্রই আশেপাশের রাষ্ট্রগুলিকে এ বিষয়ে সতর্ক করতে হবে, যাতে তারা ওই দুর্যোগের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যে কোনো পরিস্থিতিতে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের রক্ষা আবশ্য...

গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী কীভাবে সাতবাহন সাম্রাজ্যের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করেছিলেন

Image
গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী কীভাবে সাতবাহন সাম্রাজ্যের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করেছিলেন। রাজবংশের হৃত (হারানো) গৌরবকে পুনরুদ্ধার করার ঘটনা সুদীর্ঘ ভারতবর্ষের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে মাঝে মাঝেই লক্ষ করা যায়। প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে দাক্ষিণাত্যের সাতবাহন বংশের ক্ষেত্রেও এই ধরনের ঘটনার নজীর চোখে পড়ে। খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর কোনো এক সময়ে সিমুক-এর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং পরে প্রথম সাতকর্ণির দ্বারা বিস্তৃত ও সুসংগঠিত সাতবাহন সাম্রাজ্যের একটা বড় অংশ যে খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে কোনো একসময় পশ্চিমী শকদের অধীনে চলে গিয়েছিল। সাতবাহনদের এই লুপ্ত গৌরব দীর্ঘকাল একই অবস্থায় থাকেনি। যে ক্ষহরাত বংশীয় শক শাসক নহপান সাতবাহনদের গৌরবকে ম্লান করেছিলেন, সেই শক শাসকের আমলেই আবার সাতবাহনরা তা পুনরুদ্ধার করে নেন। সাতবাহন বংশের এই হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের সঙ্গে গৌতমীপুত্র সাতকর্ণির নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গৌতমীপুত্রকেই এই বংশের শ্রেষ্ঠ শাসকের মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে। গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী গৌতমীপুত্র সাতকর্ণির সঙ্গে নহপানের যে সংঘাত ঘটেছিল বস্তুত, এই সংঘাত প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। কেবল প্রতিহিংসাপরায়ণ ...

হরপ্পা সভ্যতার পতনকে তুমি কীভাবে ব্যাখ্যা করবে

Image
হরপ্পা সভ্যতার পতনকে তুমি কীভাবে ব্যাখ্যা করবে। দীর্ঘ ছ'শো বছর উজ্জ্বল অস্তিত্বের পর আনুমানিক ১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ কিছুটা অকস্মাৎই হরপ্পা সভ্যতার পতন হয়েছিল তা প্রায় সর্বজনস্বীকৃত। হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংসের কারণ সম্পর্কে পুরাতত্ত্ববিদ, ভূতত্ত্ববিদ, আবহাওয়াতত্ত্ববিদ ও ঐতিহাসিকরা বিভিন্ন মতামত দিয়ে থাকেন। এঁদের সকলেই ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে হরপ্পা সভ্যতার পতনকে অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা নিজ নিজ তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। হরপ্পা মত বিশালকায় সভ্যতা যা সিন্ধু উপত্যকার বাইরে ভারতের অন্যান্য বহু অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল তা হঠাৎ করে সমস্ত এলাকায় একই সঙ্গে অবলুপ্ত হয়ে যায়নি। বহুকাল ধরে ক্রমিক অবক্ষয় হতে হতে শেষপর্যন্ত তা একেবারে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া হরপ্পা, মহেপ্পোদারো, কালিবঙ্গান, লোখাল, চানদারো প্রভৃতি শহরের ধ্বংসের পিছনে একই প্রেক্ষাপট কাজ করেছিল মনে করলে ভুল হবে। দু'একটি শহর বা নগরের ধ্বংসের প্রকৃতি এক হলেও সর্বত্র তা সমান ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে হরপ্পা সভ্যতার বিভিন্ন অঞ্চলে এক ক্রমিক অবক্ষয় চলে আসছিল। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সহ অন্যান্য প্...

মেহেরগড় সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ

Image
মেহেরগড় সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ ? ভূমিকাঃ ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাগৈতিহাসিক যুগের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হল এই মেহেরগড় । । পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত বালুচিস্তানের কাচ্চি সমতলভূমিতে ইতিহাস প্রসিদ্ধ বোলান গিরিপথের কিছুটা দূরে দুশো হেক্টর অর্থাৎ প্রায় পাঁচশ একর ব্যাপ্ত মেহেরগড় (কাচ্চি জেলার কোয়েটার নিকট) । দুটি পর্যায়ে মেহেরগড়ে খননকার্য চলেছিল – (১) ১৯৭৪- ৮৬ খ্রিস্টাব্দ এবং (২) ১৯৯৭-২০০০ খ্রিস্টাব্দ। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক জাঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজের নেতৃত্বে একটি পুরাতাত্ত্বিক দল মেহেরগড়ে খননকার্য চালিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের এক সুপ্রাচীন সভ্যতার প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ এই কাজে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন পাকিস্তান সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ । মেহেরগড় সংস্কৃতিঃ গ্রামের মানুষ রোদে শুকনো সমান মাপের কাদামাটির ইট দিয়ে তৈরি করা বাড়িতে বাস করত। বাড়িগুলি বিভক্ত ছিল ছোট ছোট কক্ষ বা কামরায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাটির দেওয়ালও ছিল। আবার কখনো কখনো একটার পর একটা পাথর চাপিয়েও দেওয়াল তৈরি হত। মেহেরগড় সভ্যতা গম ও যবের ফলন হত পর্যাপ্ত পরিমাণে। মেহেরগড়ে খাদ্...

পেরিওকই / পেরিওকয় কারা ?

পেরিওকই / পেরিওকয় কারা ?  “পেরিওকই / পেরিওকয়” শব্দের অর্থ, যারা 'প্রান্তে বা সীমান্তে বসবাস করে। এরা ল্যাকোনিয়া ও মেসেনিয়াতে বসতি স্থাপন করে। খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম-সপ্তম শতাব্দীতে স্পার্টানরা এই অঞ্চল জয় করলে এরা স্পার্টা রাজ্যের সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর মর্যাদা লাভ করে (এম.এন.টড)। অ্যাকোনিয়ান ও ডোরিয়ানদের সংমিশ্রিত জাতি হিসেবে। পেরিওকাইদের অধিকাংশ ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দিয়েছেন (কার্টলেজ প্যাভেল ও অলিভা)।

What is Formalism

What is Formalism / what is formalism in english literature. Ans. As a sharp reaction against the banality of the everyday uses of the language in poetry of the present, the first two decades of the twentieth century saw a new literary theory, first in Russia and then in Czachoslovakia among the members of the Prague Linguistic Circles. The literary theory is known as formalism . This theory viewed literature as a specialised use of language which should be different from the ordinary language. The motive of this specialisation of language is to achieve what the formalists called 'Literariness'. This literariness or literary virtues should be achieved through the practice of foregrounding.

মধ্য প্রস্তর যুগের মূল বৈশিষ্ট্য গুলি উল্লেখ করো

Image
মধ্য প্রস্তর যুগের মূল বৈশিষ্ট্য গুলি উল্লেখ করো। মধ্য প্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে টীকা লেখ। ভূমিকাঃ প্রত্নতাত্ত্বিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় হল মধ্যপ্রস্তর যুগ, যা ইংরাজি ভাষায় ‘ মেসোলিথিক ’ বলেই পরিচিত। এই যুগকে ‘মাইক্রোলিথিক’ বা ক্ষুদ্রপ্রস্তর যুগ বলেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। কারণ এই পর্যায়ের পাথরের হাতিয়ারগুলি আকারে ক্ষুদ্র। উল্লেখ্য, বেশিরভাগ হাতিয়ারের দৈর্ঘ্য ১ থেকে ৩ সেন্টিমিটার। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবশ্য হাতিয়ারগুলি ৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা।১২ সাধারণভাবে এই যুগকে খাদ্য সংগ্রহের পর্যায়ে ধরা হলেও ভারতের সর্বত্র এই ধারা বজায় থাকেনি। এই ক্ষুদ্রপ্রস্তর যুগেই বেশ কিছু জীবজন্তুকে পোষ মানানো, এমনকি শেষ দিকে প্রাথমিক পর্যায়ে হলেও কৃষির সূচনা ঘটেছিল। মধ্য প্রস্তর যুগের মূল বৈশিষ্ট্য গুলি রাজস্থানের ভিলওয়াড়া জেলার বাগোর গ্রামে ক্ষুদ্রপ্রস্তর যুগের তারিখ অনুমিত হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ থেকে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দের মধ্যে অর্থাৎ আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দ। এছাড়া, উত্তরপ্রদেশের মধ্যাঞ্চলের সমভূমিতে অবস্থিত সরাই নাহার রাই-এর বয়স রেডিও কার্বন পদ্ধতিতে স্থির হয়েছে খ...

পেলোপনেসীয় যুদ্ধে ব্রাসিডাসের ভূমিকা মূল্যায়ন কর

পেলোপনেসীয় যুদ্ধে ব্রাসিডাসের ভূমিকা মূল্যায়ন কর। সমগ্র আর্কিডেমীয় যুদ্ধপর্বে স্পার্টান সেনাপতিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সফল ও উল্লেখযোগ্য হলেন টেলিসের পুত্র ব্রাসিডাস । সামরিক প্রতিভা ও ব্যক্তিগত চরিত্রগুণে তিনি স্পার্টা তথা গ্রীসের ইতিহাসে স্বকীয়তায় ভাস্বর হয়ে আছেন। চারিত্রিক নানা গুণের জন্য ব্রাসিডাসকে শুধু স্পার্টার নয়, সমগ্র গ্রীসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে গণ্য। প্লেটো তো ব্রাসিডাসকে পৌরাণিক বীর একিলিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক। ব্রাসিডাসের ব্যক্তিগত প্রভাব ও প্রতিষ্ঠা এথেনীয়দের ক্ষতিকর সম্ভাবনার পক্ষে সর্বাধিক বিপজ্জনক ছিল। গ্রোট মন্তব্য করেছেন : “শুধুমাত্র সাহস নয়, আগ্রাসনের উপায় উদ্ভাধনের দক্ষতা, তড়িৎ গতি, সেনাবাহিনীর মনে উদ্দীপনা জাগানোর ক্ষমতা—এই সবকিছুই এই সেনাপত্তির দক্ষতার কারণ ছিল। শুধু তা-ই নয়, তাঁর অকলুষ ন্যায়পরায়ণতা, তাঁর অটল বিশ্বাস, তাঁর সংযম, দলীয় নির্মমতা বা দুর্নীতি থেকে নির্লিপ্তি এবং গ্রীসের মুক্তিদাতা হিসাবে স্পার্টা যে ঘোষণায় সোচ্চার ছিল, এই ঘোষণার প্রতি অবিচল আনুগত্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিভিন্ন নগররাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংবিধান...

গ্ৰীসের জনজীবনে খেলাধূলার ভূমিকা পরীক্ষা কর

Image
গ্ৰীসের জনজীবনে খেলাধূলার ভূমিকা পরীক্ষা কর।    ভূমিকাঃ পাশ্চাত্য সভ্যতার জন্মভূমি গ্রীস শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞানেই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেনি, নানা ধরনের খেলাধূলারও পীঠস্থান রূপে চিহ্নিত হয়েছিল। হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়াড' ও 'ওডিসি'-তে গ্রীক সমাজজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরূপে ক্রীড়ার উল্লেখ রয়েছে। গ্রীকদের কাছে খেলাধূলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মানুষের কাছে স্বাস্থ্যই সর্বাপেক্ষা সৌন্দর্য—গ্রীকরা মনে করত স্বাস্থ্যই সব থেকে মূল্যবান হওয়া উচিত। প্রাচীনকালের যুদ্ধগুলিতেও সুঠাম স্বাস্থ্যবান যোদ্ধার প্রয়োজন ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই দেখতে পাই শুধু ইস্কাইলাস বা প্লেটোর ভক্ত ছিল না, তারা ছিল স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের পূজারী। সুতরাং গ্ৰীসের জনজীবনে খেলাধূলার ভূমিকা বা প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম। গ্ৰীসের জনজীবনে খেলাধুলার ভূমিকা পরীক্ষাঃ গ্রীক ভাষায় “অ্যাথলীট” শব্দের অর্থ প্রতিযোগিতা এবং গ্রীক জীবনের সর্বত্রই ছিল প্রতিযোগিতা। সমস্ত রকমের খেলাধূলায় প্রতিযোগীদের মধ্যে জয়ী হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। কেননা, তারা যে সামাজিক সম্মান পেতেন, তা যে কোন সময় বিজয়ী সেনানায়কের সম্মানের চেয়ে ঢের বেশি। ...

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় লেখমালার গুরুত্ব

Image
প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় লেখমালার গুরুত্ব। ইতিহাসের উপাদান হিসেবে লিপির গুরুত্ব। প্রাচীন ভারতীয় শাসকরা নিজেদের কীর্তিকলাপ পাহাড় বা গুহার দেওয়ালে বিশেষভাবে নির্মিত স্তম্ভ গাত্রে অথবা তাম্রপত্রে খোদাই করতেন। খোদাই করা এই সমস্ত বিষয় কে সম্মিলিতভাবে লেখ বা লেখমালা বলা হয়। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার উপাদান কে আমরা মূলত দু ভাগে ভাগ করি - সাহিত্যিক উপাদান, প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান। প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান হলো ভারতের ইতিহাস রচনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপাদান কারণ প্রাচীন ভারতের সাহিত্যিক উপাদান সুদুলভ। আলোচনা ও বিশ্লেষণ এর জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান কে চার ভাগে ভাগ করা হয়  লেখমালা, মুদ্রা, উৎখননের ফলে প্রাপ্ত পুরাবস্তু, শিল্পকলার নিদর্শন সমূহ। ভূমিকা: প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় লেখমালার গুরুত্ব বা তাৎপর্য অপরিসীম। লেখমালায় উৎকীর্ণ বিষয় সাধারণভাবে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে, পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে যে পাথর, ধাতু, মাটির ফলকের উপর উৎকীর্ণ লেখ’র প্রকৃতিজনিত ক্ষয়ের গতি ও সম্ভাবনা কম, (কাঁট পতঙ্গের আক্রমণ, আর্দ্রতা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়) ফলে লেখ সহজেই অনে...

মিটিলিনি কেন বিদ্রোহ করেছিল। এই বিদ্রোহে এথেন্সের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল

মিটিলিনি কেন বিদ্রোহ করেছিল? এই বিদ্রোহে এথেন্সের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল? ভূমিকাঃ পেলোপনেসীয় যুদ্ধের চতুর্থ বছরে, খ্রিস্ট-পূর্ব ৪২৮ অব্দে লেসবস দ্বীপের প্রধান নগর মিটিলিনি ও অন্যান্য অঞ্চল (মেথিম্‌না বাদে) এথেন্সের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। স্পার্টা, বিওসিয়া এবং পেলোপনেসীয় লিগের অন্যান্য সদস্যরা মিটিলিনিকে সমর্থণ করে। মিটিলিনি কেন এথেন্সের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। মিটিলিনির বিদ্রোহের পিছনে ছিল একাধিক কারণ  লেসবস এথেন্সের অন্যান্য মিত্ররাষ্ট্রগুলির তুলনায় অনেকাংশে স্বাধীন ছিল, এথেন্সকে কোন রকম কর তাকে দিতে হয়নি। মিটিলিনির আভিজাততন্ত্রীরা স্বীকার করেছিলেন যে, তাদের প্রতি এথেন্স ভাল ব্যবহারই করত। কিন্তু লেসের পররাষ্ট্রনীতি এবং অন্যান্য মিত্ররাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত করতে এথেন্স এবং এথেন্সের প্রয়োজনে লেসের নৌবাহিনী ব্যবহার করতে দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। সুতরাং এথেন্সের এই কর্তৃত্ব লেস সুনজরে দেখেনি। স্যামসে বিদ্রোহের পর এথেন্স তার স্বাধীনতা হরণ করলে লেস্ দ্বীপের অন্যতম নগর-রাষ্ট্র মিটিলিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সম্প্রতি স্যামস বিদ্রোহ ঘোষণা করে শেষ পর্যন্ত কীভাবে স্বাধীন...

জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য গুলি আলোচনা কর

জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য গুলি আলোচনা কর। জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য উভয়ই লক্ষ করা যায়। বৌদ্ধ ও জৈন—উভয় ধর্মের উদ্ভব ঘটেছিল প্রায় একই সময়ে এবং উদ্ভবের এলাকাও ছিল একই (পূর্ব ভারত) । উভয় ধর্মেরই প্রবক্তারা ছিলেন ক্ষত্রিয় গোষ্ঠীর মানুষ। প্রচলিত বৈদিক ব্রাহ্মণ্য ধর্মের বিরুদ্ধে উভয় ধর্মেই হতাশা বোধ বিরাজমান। তাই ঐ ধর্মের বিরুদ্ধে এই নতুন দুটি ধর্মেই তীব্র জেহাদ ঘোষিত হয়েছিল। জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে সাদৃশ্য ছিল উভয় ধর্মই অহিংসার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এবং জাতিভেদ বা অস্পৃশ্যতাকে অস্বীকার করে মানুষের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। বৌদ্ধ ও জৈন উভয় ধর্মই জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস ছিল। যাগযজ্ঞ, পশুবলি ও বর্ণাশ্রম প্রথার বিরোধী ছিল উভয় ধর্মই। অহিংসা ছিল জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। বেদের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করেছিল উভয় ধর্ম। পশুবলি প্রথারও বিরোধিতা করা হয়েছিল এগুলিতে। বর্ণাশ্রমের বিরোধী ছিল বৌদ্ধ ও জৈন ধর্ম উভয়েই। প্রধানত শহরাঞ্চলের নিম্নশ্রেণীর মানুষকে আশ্রয় করে এই দুটি ধর্ম প্রসারলাভ করেছিল। উভয় ধর্মের ওপর উপনিষদের যুগের কর্মফলবাদ ত...

“অভিজাতরা ফরাসি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন এবং প্রারম্ভিক পর্বে তাকে জয়ের পথে নিয়ে গিয়েছিলেন”- লেফেভরের এই অভিমতের সঙ্গে তুমি কি একমত ?

“অভিজাতরা ফরাসি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন এবং প্রারম্ভিক পর্বে তাকে জয়ের পথে নিয়ে গিয়েছিলেন”— লেফেভরের এই অভিমতের সঙ্গে তুমি কি একমত ? ১৭৭৪ সালে ষোড়শ লুই তীব্র আর্থিক সংকটের সময়ে সিংহাসনে বসেন। রাজকোষ তখন ছিল প্রায় শূন্য। তিনি তুর্গোকে অর্থমন্ত্রী পদে নিযুক্ত করেন। তুর্গো এই সময়ে একজন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তুর্গো রাজপরিবারের অমিতব্যয়িতা, সরকারি ব্যয় সংকোচ, বেগার প্রথার অবসান, অন্তঃশুল্ক ব্যবস্থা রদ, অবাধ বাণিজ্যের প্রসার, আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ না দেওয়া এবং যাজক ও অভিজাতদের উপর কর ধার্য করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবে তুর্গোর সংস্কারনীতি অভিজাতদের স্বার্থে আঘাত হানে। দার্শনিক ভলটেয়ার তুর্গোর সংস্কার নীতিকে সমর্থন করে চিঠিও লিখেছিলেন। ১৭৭৫-এর শেষে সরকারি ব্যয়কে ৬৬,০০০,০০০ ফ্রাঁতে নামিয়ে এনেছিলেন এবং জাতীয় ঋণের সুদের পরিমাণ ৩,০০০,০০০ ফ্রাঁতে এনেছিলেন। কিন্তু অভিজাতরা তার ষড়যন্ত্র আরম্ভ করেন। তারা রানী আঁতোয়ানেতের সাহায্যে ষোড়শ লুই-এর উপর চাপ সৃষ্টি করেন যাতে তিনি তুর্গোকে অপসারণ করেন। তাদের চাপে বাধ্য হয়ে ব্যক্তিত্বহীন শাসক...

ভারতীয় চিত্রকলার ইতিহাসে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান

Image
ভারতীয় চিত্রকলার ইতিহাসে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান। ভূমিকাঃ অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৭১- ১৯৫১) ছিলেন আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলার একজন অন্যতম পথিকৃৎ। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে যেমন নব্যবঙ্গীয় চিত্র রীতির জনক বলা হয়, ঠিক তেমনি তাঁকে আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলার পুরোধাও বলা হয়। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিও অর্জন করেছিলেন। ভারতীয় চিত্র শিল্পীদের মধ্যে রাজা রবিবর্মার পরেই যিনি সমাদৃত হতেন তিনি হলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর পিতা ছিলেন দ্বারকানাথের পৌত্র গুণেন্দ্রনাথ । নব্যবঙ্গীয় চিত্ররীতিরও জনক ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির এই কৃতী পুরুষটি ছোটবেলায় অঙ্কনের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। ড্রয়িং, প্যাস্টেল, জলরং এবং অয়েল পেইন্টিং শিখেছিলেন বিদেশী শিল্পীদের কাছে। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতীয় চিত্রকলার ইতিহাসে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদানঃ অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ড্রয়িং, প্যাস্টেল, অয়েল পিন্টিং ও জল রঙের কাজ শেখেন উনিশ শতকের শেষ দশকের প্রথম দিকে। শিক্ষক হিসেবে প্রথম দিকে ছিলেন গিলার্ডি ও পরে ব্রিটিশ চিত্রকর চার্লস পামার।তবে তিনি বেশী স্বচ্ছন্দবোধ করতেন ভারতীয় রীতিতে। পাশ্চাত্যের চিত্রশৈলী...