Posts

Showing posts from January, 2022

নদীমাতৃক সভ্যতা গড়ে ওঠার কারণ। or চারটি নদীকেন্দ্রিক সভ্যতার নাম লেখ এই সভ্যতা গুলি নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল কেন

নদীমাতৃক সভ্যতা গড়ে ওঠার কারণ  ভূমিকা:   আদিম মানুষ লক্ষ্য করেছিল যে নদীর তীরে বসবাস করা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক ।এজন্য প্রাচীনকালে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে জনবসতির প্রসার ঘটে। পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের উদ্ভব ঘটেছিল জলে আবার প্রাচীন সভ্যতা গুলির বিকাশও ঘটেছিল জলের কাছে অর্থাৎ নদী উপত্যকায়। নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে ওঠা প্রাচীন সভ্যতা গুলিকে বলা হয় নদীমাতৃক সভ্যতা । আজ থেকে প্রায় সাত হাজার বছর পূর্বে নদীমাতৃক সভ্যতা গুলির বিকাশ শুরু হয়েছিল। প্রাচীন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সভ্যতা গুলির অধিকাংশ বিভিন্ন নদী অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।  চারটি উল্লেখযোগ্য নদীমাতৃক সভ্যতার নাম হল সিন্ধু নদের তীরে হরপ্পা সভ্যতা, নীল নদের তীরে মিশরীয় সভ্যতা, ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর তীরে মেসোপটেমিয়া ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, ভূমধ্যসাগরের তীরে ইজিয়ান সভ্যতা। নদীমাতৃক সভ্যতা গড়ে ওঠার কারণ । প্রাচীন কালে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় নদীমাতৃক সভ্যতা গড়ে ওঠার পেছনে বিভিন্ন কারণ ছিল তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো। 1) উর্বর কৃষিজমি : আদিম মানুষ লক্ষ্য করেছিলে যে নদীতে প্লাবনের ফলে নদীর দুকূল ছাপিয়ে যখন বন্যার ...

History suggestion 2022 class 12

History suggestion 2022 class 12 আসন্ন উচ্চমাধ্যমিকের ইতিহাস বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিম্নে দেওয়া হল । ***দেওয়া প্রশ্নগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । প্রতিটি প্রশ্নের মান -8 1) মিউজিয়াম বা জাদুঘর এর প্রকারভেদ আলোচনা করো  2) জাদুঘর কাকে বলে। অতীত পুনর্গঠনে জাদুঘরের ভূমিকা আলোচনা করো 3) অতীতকে স্মরণ করার ক্ষেত্রে কিংবদন্তি বা মিথ এবং স্মৃতিকথার ভূমিকা আলোচনা করো 4) সাম্রাজ্যবাদ বলতে কী বোঝো। সাম্রাজ্যবাদ উদ্ভবের কারণ গুলি সংক্ষেপে বর্ণনা করো। 5) পেশাগত ইতিহাস বলতে কী বোঝায় অপেশাদারী ইতিহাসের সঙ্গে পেশাদারী ইতিহাসের পার্থক্য কি।*** 6) উপনিবেশবাদ বলতে কী বোঝো ? উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের সম্পর্ক নির্ধারণ করো। 7) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ভারতের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও 8) উপনিবেশিক সমাজে জাতি সংক্রান্তঃ প্রশ্ন ও তার প্রভাব আলোচনা করো। 9) সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে হবসন লেনিন তত্ত্ব আলোচনা করো।*** 10) ভারতে রেলপথ স্থাপনের উদ্দেশ্য প্রভাব ও ফলাফল আলোচনা করো।*** 11) ভারতে অবশিল্পায়নের কারণ কি ছিল ।ভারতের অর্থনীতির উপর এর প্রভাব বা ফলাফল ।*** 12) ক্যান্টন ...

শশাঙ্কের কৃতিত্ব

শশাঙ্কের কৃতিত্ব । শশাঙ্কের কৃতিত্বের মূল্যায়ন।শশাঙ্কের কৃতিত্ব আলোচনা কর । ভূমিকা:  প্রা চীন তথা আদি মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসের এক খ্যাতনামা শাসক ছিলেন গৌররাজ শশাঙ্ক। গৌরের গুপ্ত শাসকরা ক্রমশ হীনবল হয়ে পড়লে শশাঙ্ক সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গৌড়ের তার স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন । তার সুবিশাল এই রাজ্যের কথা আমরা জানতে পারি বাণভট্টের হর্ষচরিত, হিউয়েন সাং - এর সি-ইউ-কি ,বৌদ্ধ গ্রন্থ আর্য মঞ্জুশ্রী, শশাঙ্কের গঞ্জাম প্রভৃতি গ্রন্থ থেকে।   শশাঙ্কের বংশপরিচয় এবং বাল্যজীবন সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না তবে, বিহারের শাসারাম জেলার রোটাস দুর্গের গিরিপাত্রে 'শ্রী মহাসামন্ত শশাঙ্ক দেবস্য' নামের উল্লেখ রয়েছে । রমেশচন্দ্র মজুমদার এর মতে , শশাঙ্ক অধিরাজ ছিলেন মহাসেন গুপ্তের। কিন্তু মহাসেনগুপ্ত খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকের শেষ দশকের মগধে রাজত্ব করেন। তাই বিন্ধোশ্বরী প্রসাদ সিনহার মতে, শশাঙ্ক জয়নগরের অধীনস্থ মহাসামন্ত ছিলেন কিন্তু এ তথ্য ও গ্রহণযোগ্য নয়। প্রত্নতান্ত্রিক সাক্ষ্যপ্রমাণে বলা যায় যে শশাঙ্ক সম্ভবত মৌখরীরাজ অবন্তী বর্মার অধীনে মহাসামন্ত ছিলেন এবং...

ইতিহাস ও সাহিত্যের মধ্যে সম্পর্ক ।

ইতিহাস ও সাহিত্যের মধ্যে সম্পর্ক ।  ইতিহাস ও সাহিত্যের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বা যোগাযোগ অত্যন্ত গভীর। কারণ উভয়ই মানুষের কথা বলে । বস্তুত উনবিংশ শতকে পর্যন্ত ইতিহাস চর্চা কে সাহিত্য চর্চার একটি শাখা রূপেই দেখা হতো । ইতিহাস হল মানব জীবনের নথি, অন্যদিকে সাহিত্য হল মানব জীবনের প্রতিফলন উভয়ই সমাজের দর্পণ । ইতিহাস চর্চা ও সাহিত্য সৃষ্টির মধ্যে দূরত্ব কম হলেও উভয়ের মধ্যে সূক্ষ্ম কিছু পার্থক্য রয়েছে । উভয় নৈকট্য এর প্রধান কারণ এই যে একজন সাহিত্যিক এবং একজন ঐতিহাসিক উৎস মানুষ ও সমাজ সাহিত্যে বারংবার প্রকাশিত হয়েছে যে মানুষই তার উপজীব্য । ইতিহাস এবং সাহিত্য উভয়ই পারস্পারিক নির্ভরশীল । ইতিহাস আশ্রয়ী সাহিত্যে যেমন অসংখ্য ঠিক তেমনি সাহিত্য নির্ভর ইতিহাস রচনায় অপ্রতুল নয় । ইতিহাস রচনা করতে গিয়ে ঐতিহাসিকগণ এমন অনেক অবস্থায় বলতে হয় যেখানে সমকালীন সাহিত্য উপাদান থেকেই তাকে তার তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় চতুর্দশ শতকের মধ্যভাগে ইউরোপে প্লেগ মহামারী দেখা দিয়েছিল সেই মহামারীর সমকালীন পরিস্থিতিকে বাস্তবোচিত ভঙ্গিমায় তুলে ধরেছেন মানববাদী সাহিত্যিক ও তার মেয়ে নামক গ্রন্...

নারীদের অধিকার রক্ষায় সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ভূমিকা।

নারীদের অধিকার রক্ষায় সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ভূমিকা   প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই জাতিপুঞ্জো যেমন মানব অধিকার গুলিকে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে এবং সেগুলির সুরক্ষায় যথাযথ নির্দেশিকা দিয়েছে তেমনি সমগ্র বিশ্বজুড়ে স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করা এবং নারীদের জন্য সম-অধিকার নিশ্চিত করতেও 'সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ।1945 খ্রিস্টাব্দে গৃহীত জাতিপুঞ্জের সনদ এই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে যে,"পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষের মর্যাদা ও গুরুত্ব-কে যেমন স্বীকৃতি দেওয়া হয় হয়েছে তেমনই পুরুষ ও নারীদের অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে।"সনদের প্রথম ধারায় সংগঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য কে পুনরায় বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে যে জাতিসংঘের অন্যতম ভূমিকা হল -বিশ্বজুড়ে মানব অধিকার গুলিকে এবং মানুষের স্বাধীন সত্তাকে যাতে যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হয়, সেই বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা ও প্রচার চালানো এবং এই অধিকার রক্ষার প্রশ্নে জাতিপুঞ্জো জাতি লিঙ্গ ভাষা ও ধর্ম নির্বিশেষে কোনরূপ ভেদাভেদ করবে না। 1948 খ্রিস্টাব্দে সম্মিলিত জাতিপুঞ্...

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এর অবদান। অভ্যন্তরীণ সংস্কার।

ফ্রান্সের ইতিহাসে কনসাল হিসেবে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এর অবদান ।  Or নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এর অভ্যন্তরীণ সংস্কার।   বিদেশি রাষ্ট্র জোটের অবসানে ফ্রান্স স্বস্তি বোধ করলে, নেপোলিয়ান কনসাল হিসেবে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ সংস্কার কাজে মনোযোগ দিলেন। শাসন সংস্কার এর উদ্দেশ্য:  নেপোলিয়ন ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী। প্রথম কনসাল হিসেবে তিনি এক নায়ক হয়ে ওঠেন। তার অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও শাসন এর উদ্দেশ্য ছিল-(1) জনহিতকর কাজ করে জাতির কৃতজ্ঞতা লাভ করা।(2) প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করা। (3)শাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করে শক্তিশালী শাসন প্রবর্তন করা। শাসন বিভাগীয় সংস্কার:  শাসন বিভাগের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেপোলিয়ান নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেন। তাই তিনি দেশের প্রচলিত স্থায়িত্ব শাসন প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষমতা খর্ব করতে লাগলেন। তিনি সমগ্র ফ্রান্সকে 83 টি Department বা প্রদেশে বিভক্ত করে প্রতিটি প্রদেশকে আবার ছোট ছোট অংশে ভাগ করেন ।এগুলির শাসন ভার দেওয়া হয় prefect, sub- prefect , এবং mayor প্রমুখ কর্মচারীর ওপর, এতে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে এলেও স্থায়িত্ব শাসন খর্ব হলো। নেপোলিয়ান ন...

বিজ্ঞান চর্চায় বাঙালির অবদান ।

  বাঙালির বিজ্ঞান সাধনা ।                           Or বিজ্ঞান চর্চায় বাঙালির অবদান    আমাদের দেশে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত ঘটেছিল ব্রিটিশদের হাত ধরে। পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের ফলে বাঙালি শিক্ষিত সমাজের গুরুত্বপূর্ণ প্রসার লক্ষ্য করা যায়। রাজা রামমোহন রায় বিজ্ঞান অনুশীলনের পথ বাতলে তিনি এক নতুন যুগের সৃষ্টি করেছিলেন।  1823 সালে রাজা রামমোহন রায় লর্ড আমহার্স্ট কে একটি চিঠি লেখেন সেই চিঠিতে তিনি বলেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেসব useful sciences নিয়ে চর্চা করে অন্যান্য দেশের থেকে এগিয়ে গেছে ভারতীয়দের ও সেই সব বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কম্পানি কম্পানি বাহাদুর উদ্যোগ নিয়েছেন শুনে প্রথমতা তার খুব আনন্দ হয়েছিল । কিন্তু , তারপর জানা গিয়েছিল, যে গণিত, Natural philosophy, রসায়ন, এ্যানাটমী এইসব শেখানোর বদলে একটি সংস্কৃত বিদ্যালয় স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তখন তিনি হতাশ হয়ে পড়লেন। কেননা এই শিক্ষার কোনো প্রয়োজন নেই কারণ এই সমস্ত জ্ঞান 2 হাজার বছর আগেই জানা হয়ে গিয়েছিল। তখন আ...

ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের চরিত্র ব্যাখ্যা কর

ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের চরিত্র ব্যাখ্যা কর   উনিশ শতকের বেশিরভাগ সময় ধরে ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলন চলছিল বিশের দশকের এর শুরু , নব্বইয়ের দশক এর শেষ। আরবের আব্দুল ওয়াহাব এই আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন, তার নামানুসারে এই আন্দোলন ওয়াহাবি আন্দোলন নামে পরিচিত। ভারতে এই আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন রায়বেরিলি সৈয়দ আহমেদ। তার মৃত্যুর পর এই আন্দোলনের নেতৃত্বদেন তার দুই শিষ্য এনায়েত আলী ও বেলায়েত আলী । পূর্বে ঢাকা থেকে উত্তর-পশ্চিমে পেশোয়ার পর্যন্ত এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল।    এই আন্দোলনের চরিত্র নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। পশ্চিম ইতিহাসিক জেমস কিনলি ও স্যার উইলিয়াম হান্টার এই আন্দোলনের বিস্তৃত বিচার-বিশ্লেষণ করে এর চরিত্র ব্যাখ্যা করেছেন,এদের মতে এই আন্দোলন ছিল সাম্প্রদায়িক ও ব্রিটিশবিরোধী হান্টার তার Indian musulmans গ্রন্থের দেখেছেন ভারতের মুসলমানরা ছিল দরিদ্র, তারা শাসনক্ষমতা হারিয়েছিল এবং ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তারা ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছিল । চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হলে বাংলা,বিহার,উরিষ্যা হিন্দুরা জমিদারি পেয়েছিল, মুসলমান কৃষক জমির অধিকার হা...