Posts

Showing posts from June, 2022

ভারতীয় শিল্পকলায় মৌর্য যুগের গুরুত্ব

  ভারতীয় শিল্পকলায় মৌর্য যুগের গুরুত্ব হরপ্পা উত্তরকাল থেকে মৌর্য যুগ পর্যন্ত; অশোকের রাজত্বকালের আগে অবধি কোনও শিল্প-সংস্কৃতির নমুনা তেমন পাওয়া যায় না। অথচ, মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে ভারতীয় শিল্পের বিকাশে যে পরিণতি আমরা লক্ষ্য করি, তা নিঃসন্দেহে শিল্পকলার ধারাবাহিক চর্চা ছাড়া সম্ভবপর ছিল না। প্রাক্-মৌর্যযুগের শিল্প নমুনা একাধিক কারণে সম্ভবত আমরা পাই না। প্রথমত, প্রয়োজনীয় প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও খননের ফলে সেযুগের শিল্পকীর্তিগুলি সম্ভবত আমাদের অজানা রয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, এই যুগের শিল্পীরা সম্ভবত তাদের কীর্তিগুলি নির্মাণে এমন উপাদান ব্যবহার করেন যার স্থায়ীত্ব কম ছিল (মাটি বা কাঠ)। পোড়ামাটি বা কাঠের দ্বারা তারা যে শিল্প-নিদর্শনগুলি সৃষ্টি করেন হাজার বছর ব্যবধানে সেগুলি কালের গর্ভে লীন হয়ে গেছে। তৃতীয়ত, ভারতীয় শিল্পরীতির সূচনা হয়েছিল মূলত ধর্মীয় বিষয়বস্তুকে অবলম্বন করে। খ্রিস্ট-পূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত ব্রাহ্মণ্য বা অব্রাহ্মণ্য কোনো ধর্মেই মূর্তি-পূজার স্বীকৃতি ছিল না। এইকারণে মন্দির নির্মাণের প্রয়োজন পড়েনি। তাই ভাস্কর্য ও স্থাপত্যশিল্পের বিকাশ বাধ...

নয়া সাম্রাজ্যবাদ বলতে কী বোঝ?

নয়া সাম্রাজ্যবাদ বলতে কী বোঝ?   ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের পর ইউরোপের বড় ও শিল্প সমৃদ্ধ জাতিগুলি পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকাতে উপনিবেশ গঠনে অগ্রসর হয়। তাদের এই প্রয়াস নব সাম্রাজ্যবাদ নামে পরিচিত। নয়া সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্য ছিল ভৌমিক অধিকারের বিস্তৃতি নয়, সেই দেশের মানব ও অর্থনৈতিক সম্পদকে নিজ দেশের স্বার্থে ব্যবহার করা। এর ফলে কাঁচামাল সমৃদ্ধ ও সম্ভাব্য বাজার যুক্ত দেশগুলি ইউরোপের উপনিবেশে পরিণত হয়েছিল।

৪ঠা মে-র আন্দোলন কাকে বলে? চৌঠা মে আন্দোলনের প্রধান স্লোগান কী ছিল ?

  ৪ঠা মে-র আন্দোলন কাকে বলে? চৌঠা মে আন্দোলন কাকে বলে । চৌঠা মে আন্দোলনের প্রধান স্লোগান কী ছিল  ? ভার্সাই সন্ধি দ্বারা শানটুং প্রদেশ জাপানের সাম্রাজ্যভুক্ত করার প্রতিবাদে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা মে চিনের পিকিং শহরের ছাত্র-যুবারা যে-প্রতিবাদ আন্দোলনের সূচনা করেছিল তাকে ৪ঠা মে-র আন্দোলন বলে। জুন মাস অবধি এই আন্দোলন ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে পরিচালিত হলেও তারপর তা বুদ্ধিজীবীদের নেতৃত্বে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ অবধি পরিচালিত হয়েছিল। ৪ঠা মে আন্দোলনের প্রধান শ্লোগান ছিল ‘জিওগুয়ো’ বা দেশকে বাঁচাও।

অন্ধকার রাতবিরেতে - সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

  অন্ধকার রাতবিরেতে সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ  - গল্প কেকরাডিহি যেতে হলে ভামপুর জংশনে নেমে অন্য ট্রেনে চাপতে হবে। কিন্তু ভামপুর পৌঁছোতেই রাত এগারোটা বেজে গেল। ট্রেন ঘণ্টা ছয়েক লেট। খোঁজ নিয়ে জানলুম, কেকরাডিহি প্যাসেঞ্জার রাত ন-টায় ছেড়ে গেছে। পরের ট্রেন সেই ভোর সাড়ে পাঁচটার আগে নয়। কনকনে ঠান্ডার রাত। এরই মধ্যে জংশন স্টেশন একেবারে ঝিম মেরে গেছে। তা ছাড়া, তেমন কিছু বড়ো জংশনও নয়। লোকজনের ভিড় এমনিতে কম। চায়ের দোকানি ঘুম ঘুম গলায় পরামর্শ দিল, “পাঁচ লম্বর পেলাটফরমে কেকরাডিহির টেরেন রেডি আছে। চোলিয়ে যান। আরামসে শুত করুন।'  শুনে তো লাফিয়ে উঠলুম আনন্দে। ওভারব্রিজ হয়ে পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে দেখি সত্যি তাই। ইঞ্জিনবিহীন একটা ট্রেন কালো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্ল্যাটফর্মে জনমানুষটি নেই। মাথার ওপর ছাউনি বলতেও কিছু নেই। একফালি চাঁদ নজরে পড়ল, শীতে তার চেহারাও খুব করুণ। কিন্তু যে কামরার দরজা খুলতে যাই, সেটাই ভেতর থেকে আটকানো। জানালাগুলোও বন্ধ। বুঝলুম ভেতরে বুদ্ধিমান লোকগুলো নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রচুর লোক জমে উঠেছে। দরজা খুলে তা বরবাদ করার ইচ্ছে নেই কারুর। অবশ্য চো...

অলৌকিক আধুলিরহস্য - সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

  অলৌকিক আধুলিরহস্য সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ  - গল্প ইদানীং রোজ ভোর বেলা জগিং শুরু করেছি। আমাদের এই ছোটো শহরে অত সকালে রাস্তাঘাট একেবারে নিরিবিলি হয়ে থাকে। তাতে শীতকাল। খেলার মাঠ। পেরিয়ে নদীর ধার অবধি গিয়ে বাড়ি ফিরতে এক কিলোমিটার দৌড় হয়ে যায়। গা ঘেমে উঠে। আমার ভাগনে শ্রীমান ডন টের পেয়ে একদিন বলল, ‘চোরটাকে ধরতে পেরেছিলে মামা?” “চোর? কোথায় চোর? আকাশ থেকে পড়লুম। 'আমি তো জগিং করছিলুম, হতভাগা! চোর কোথায় দেখলি?' ডন আকাশ থেকে পড়ল। ‘জগিং! ও মামা, জগিং মানে কী? তুমি তো দৌড়োচ্ছিলে।'  গম্ভীর হয়ে বললুম, 'জগিং মানে দৌড়-ব্যায়াম। এতে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। খিদে বাড়ে। জম্পেশ রকমের ঘুম হয়।' ডন খুশি হয়ে বলল, 'আমিও জগিং করব, মামা।' “বেশ তো। ভোর ছটায় ঘুম থেকে উঠে করিস। তোর তো সাতটার আগে ঘুমই ভাঙে না।? পরদিন অবশ্য ওকে বিছানা থেকে টেনেই ওঠাতে হল। কিন্তু অতটুকু ছেলে। খেলার মাঠ অবধি গিয়ে ‘ধুস' বলে নেতিয়ে বসল! আমি হাসতে হাসতে ধুকুর ধুকুর দৌড়ে নদীর ধারে রোজকার টার্গেট পোড়োমন্দির চক্কর দিলুম। তারপর খেলার মাঠে এসে দেখি, ডন। ফের পুরোদমে শুরু করেছে। মনে মনে বললুম, ...

টাক এবং ছড়ি রহস্য - সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

  টাক এবং ছড়ি রহস্য সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ  _ গল্প কাকতালীয় যোগ সেদিন সকালে আমার প্রাজ্ঞ বন্ধু স্বনামধন্য কর্নেল নীলাদ্রি সরকারের ডেরায় ঢুকে আমি অবাক। একটি ছোট্ট ডিমালো আয়না মুখের ওপর তুলে উনি নিজের বিশাল টাকটি খুঁটিয়ে দেখছেন। বললেন, “এসো ডার্লিং। তোমার কথাই ভাবছিলুম।' বললাম, টাকের সঙ্গে সম্পর্ক?' আমার কী ‘আছে।' কর্নেল আয়নাটি টেবিলে রেখে একটু হাসলেন। 'কারণ একটি বিজ্ঞাপন। যেটি তোমাদেরই দৈনিক সত্যসেবক পত্রিকায় সম্প্রতি বেরিয়েছে। পড়ে দেখতে পার।' উনি একটা বিজ্ঞাপনের কাটিং এগিয়ে দিলেন। পড়ে দেখি বেশ মজার একটা পদ্য। টাক। টাক!! টাক!!! ট্রাই ইয়োর লাক যদি থাকে দাড়ি সুফল তাড়াতাড়ি ইন্দ্রোদ্ধার, দৈব চিকিৎসালয় ১১১/১পি খাঁদু মিস্তিরি লেন কলকাতা-১৩ বি.দ্র. – আগে টাক পরীক্ষা করিয়ে তবে ভরতি। ২৪ ঘণ্টা সময় লাগবে। দরাদরি নিষিদ্ধ। বললুম, ইন্দ্রোদ্ধারটা বোঝা যাচ্ছে না তো?? কর্নেল বললেন, 'ইন্দ্ৰ মানে কালো চুল। তাই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে টাক পড়াকে ইন্দ্ৰলুপ্ত বলা হয়।” “কিন্তু হঠাৎ টাক নিয়ে আপনি চিন্তিত কেন? এতদিন তো টাককে জ্ঞানী ও দার্শনিকের লক্ষণ বলে খুব গালভরা বুলি আওড়...

জিমি - সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

  জিমি সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ  - গল্প ভোঁদড়কে কোথাও উদবেড়াল, আবার কোথাও জলবেড়াল বলা হয়। এর একটা বড়ো কারণ, ভোঁদড় বেড়ালের মতনই মাছ খেতে খুব ভালোবাসে। কিন্তু ভোঁদড় যে পোষ মানে আমি জানতুম না। বনের যেখানে আমার আড্ডা অর্থাৎ কাঠের একটা বাংলোবাড়ি, তার পিছনে পাহাড়ি নদী আছে। ওখানটায় নদী বেঁকেছে। আর বাঁকের মুখে অতল জলের দহ। কোনো স্রোত নেই। ঝকঝকে কালো জল। তলা অব্দি পরিষ্কার দেখা যায়। ওই জলে ছিপ ফেলে মাছ ধরা আমার নেশা ছিল। শরৎকালের এক সকালে ছিপ হাতে গিয়ে দেখি, বিশাল বট গাছের শেকড়ে একটা বড়ো মাছের মুড়ো আটকে রয়েছে। আশেপাশে কয়েক টুকরো কাঁটাও দেখতে পেলুম। শেকড়টা যেখানে জলে নেমেছে, সেখানে চোখ পড়তেই  মনে হল কী একটা লুকোবার চেষ্টা করছে। আমার চোখে পুবের সূর্য নদীর তলায় প্রতিফলিত হয়ে জলে ঠিকরে পড়ছিল। তাই তক্ষুনি বুঝতে পারলুম না ওটা কী। মাছটা যে ভোঁদড়েই মেরেছে, তা বোঝা গেল। হয়তো এখনও খাচ্ছিল, আমি এসে পড়ায় লুকিয়ে গেছে ঝোপে। তাই একটু তফাতে ছিপ ফেলে বসলুম। কিন্তু একটা চোখ রাখলুম সেদিকে। শেকড়ের তলায় যেটা নড়ছিল, সেটা কী, এতক্ষণে বুঝলুম। সেটা একটা পাইথন— যাকে বলে অজগর সাপ।...

ম্যাজিশিয়ান মামা - সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

  ম্যাজিশিয়ান মামা সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ  - গল্প টুকাই তার বন্ধু কুটুসের কাছ থেকে একটা ভূতের গল্পের বই পড়তে নিয়েছিল। সারা বিকেল খেলার মাঠের শেষদিকটায় নিরিবিলি ঝিলের ধারে বসে বইটা যখন শেষ করে ফেলল, তখন দিনের আলো ফুরিয়ে এসেছে। খেলুড়েরা কখন চলে গেছে খেলা শেষ করে। ঝিলের ঘাটে যে ধোপা কাপড় কেচে শুকোতে দিয়েছিল, সেও তার গাধাটার পিঠে কাপড়ের বোঁচকা চাপিয়ে চলে যাচ্ছে। টুকাইয়ের এবার গা ছমছম করছিল। সে উঠে পড়ল। কুটুসের কাছে অনেক ভূতের গল্প বই আছে। টুকাই ভাবল, বইটা ফেরত দিয়ে আরেকটা চেয়ে নেবে। কিন্তু এসব বই পড়ে এই সন্ধ্যে বেলা বড্ড ভয় করে যে। কুটুসদের বাড়িটা আবার নিরালা জায়গায় শহরের একপাশে। পেছনে একটা কলকারখানাও আছে সায়েবি আমলের। কুটুস সায়েবভূতগুলোর কত গল্প না শুনিয়েছে। দোনামনা করে টুকাই এদিক-ওদিক তাকাতে তাকাতে খেলার মাঠ পেরিয়ে রাস্তায় পৌঁছোল। রাস্তার আলো জ্বলে উঠেছে। লোকজন হাঁটাচলা করছে। টুকাইয়ের ভয়টা চলে গেল তাই দেখে। সে কুটুসদের বাড়ির দিকে চলতে থাকল। কুটুসদের বাড়িটা পুরোনো হলেও বেশ সুন্দর। সামনে এক টুকরো ফুলবাগান আছে। গেটের মাথায় বুগানভিলিয়া ফুলের ঝাঁপি আছে। সন...

দুঃস্বপ্নের দ্বীপ - সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

  দুঃস্বপ্নের দ্বীপ সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ  - গল্প ( ১) আমার কুকুর জিমকে নিয়ে জ্বালায় পড়েছি দেখছি। এমন নয় যে তাকে কখনো বনজঙ্গল, পাহাড়পর্বতে আনিনি। এই তো মাস তিনেক আগে তাকে নিয়ে কাশ্মীরের বরফ ঢাকা পাহাড়ি মুল্লুকে ঘুরেছি। কিন্তু জিমের এমন পালাই পালাই ভাবভঙ্গি তো কখনো দেখিনি। প্রথমে ভেবেছিলুম, একেবারে বিদেশবিভুঁই জায়গায় এসে ওর বুঝি অসুখবিসুখ করেছে। আমাদের সঙ্গে আছেন ভাগ্যক্রমে প্রাণীবিজ্ঞানী ডক্টর মুরলীধর প্রসাদ। নৈনিতালের লোক। তিনি জিমকে ভালোভাবে পরীক্ষা করে বলেছেন, “জিম ইজ অলরাইট। ওর কিস্যু হয়নি। তবে কী জানেন জয়ন্তবাবু? মানুষের যেমন, তেমনি সব প্রাণীরই ওই একটা ব্যাপার আছে। সব জায়গায় মন টেকে না।' ভেবে পাইনি, এমন সুন্দর জায়গায় মন না টেকার কারণ কী থাকতে পারে। চারিদিকে নীল সাগরে ঘেরা এই দ্বীপের প্রাকৃতিক দৃশ্য মনোরম। ক্যাম্পের সামনে সবুজ ঘাসে ঢাকা একটা সমতল মাঠ। সেখানে নির্ভয়ে হরিণের পাল চরে বেড়ায়। কখনো লুকোচুরি খেলতে আসে সাদা রঙের দু-একটা খরগোশ। পাখিও কম নেই, ঝাঁক বেঁধে মাঠে নেমে তারা পোকামাকড় খুঁজে যায়। কিন্তু আশ্চর্য, জিমকে ছেড়ে দিয়ে দেখেছি, সে অভ্যাসমতো পশুপা...