সিস্টার শুভলক্ষ্মী

 


 সিস্টার শুভলক্ষ্মী :



 বেগম রোকেয়ার প্রায় সমসাময়িক সিস্টার শুভলক্ষ্মী (১৮৮৬-১৯৬৯) মাদ্রাজে উচ্চবর্ণের অল্প বয়সী হিন্দু বিধবাদের জন্য একটি স্কুল স্থাপনের প্রয়াস নেন। নিজে অল্প বয়সে বিধবা হওয়ার পর তিনি তাঁর পিতৃগৃহে ফিরে আসেন এবং বাবা সুব্রমনিয়া আয়ারের কাছ থেকে ইংরাজি ও অন্যান্য শিক্ষা লাভ করেন। 




  মাদ্রাজে গিয়ে তিনি কনভেন্টে পড়াশোনা করেন এবং সন্ন্যাসিনীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজসেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করেন তাঁর ক্ষেত্র ছিল বিধবাদের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা। মাদ্রাজের প্রথম বিধবা হিসাবে তিনি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। এরপর তিনি নিজের পিতৃগৃহেই বিধবাদের জন্য স্কুল খোলেন। এই সময় কোয়েম্বাতুরে আইরিশ নারীবাদী মিস খ্রিশ্চিনা লিঞ্চ মেয়েদের শিক্ষাদানের জন্য একটি বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন কিন্তু নারী শিক্ষিকার অভাব বোধ করছিলেন। 




  তিনি সরকারের কাছে স্কুল স্থাপনের জন্য আবেদন জানান এবং সিস্টার শুভলক্ষ্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর উদ্যোগে ও সরকারী অনুদানের ফলে টিপ্লিক্যানে মেয়েদের জন্য বোর্ডিং স্কুল স্থাপিত হয় এবং শুভলক্ষ্মী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সারদা লেডিস ইউনিয়ানের বিধবাগণ এই স্কুলে শিক্ষিকা রূপে কাজ করতে থাকেন। লিঙ্কের বোর্ডিং স্কুলে ছাত্রীরা অনেকেই ম্যাট্রিক পাশ করার পর মাদ্রাজের প্রথম মহিলা মহাবিদ্যালয় ক্যুইন মেরিস কলজে থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।



  ১৯২২ সালে মাদ্রাজে Lady Willingdon Training College and Practice School স্থাপিত হলে শুভলক্ষ্মী সেই কলেজের অধ্যক্ষ্য হন এবং শিক্ষিকাদের মাধ্যমিক ও প্রাথমিকের জন্য পৃথকভাবে প্রশিক্ষিত করতে থাকেন। হিন্দু মতাদর্শ মেনেই শুভলক্ষ্মী তাঁর বিধবাদের স্কুল চালিয়েছিলেন কিন্তু যোশী কমিটির কাছে তিনি বাল্য বিবাহের বিপক্ষে স্বাক্ষ্য দেন। রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ ভাবান্দোলন দ্বারা তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

Comments

Popular posts from this blog

কোরিয়া সংকটে ভারতের ভূমিকা

কনস্টান্টিনোপলের পতনের গুরুত্ব বা তাৎপর্য

সুয়েজ সংকটে ভারতের ভূমিকা