সভা ও সমিতির প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলি কী ছিল
সভা ও সমিতির প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলি কী ছিল। সভা ও সমিতির প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো।
ভূমিকাঃ
সভা ও সমিতি নামে দুটি জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিমূলক সংগঠনের অস্তিত্ব ঋগ্বৈদিক যুগে বজায় থাকার ফলে রাজার ক্ষমতা অনেকখানি সংকুচিত হয়েছিল। বস্তুতপক্ষে ‘সভা’ ও ‘সমিতি’ ছিল মূলত ঋগ্বৈদিক যুগের শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অঙ্গ।
সভা ও সমিতির প্রধান বৈশিষ্ট্য
1) সভা ও সমিতির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল প্রভাব প্রতিপত্তি। রাজার কাজকর্মের ওপর সভা ও সমিতি এই দুটি পরিষদের প্রভাব ছিল অপরিসীম। তবে ‘সভা’র তুলনায় সমিতির জনপ্রিয়তা ছিল বেশি। সভা ও সমিতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সম্পদশালী ব্যক্তিরা প্রধানত ‘সভা’র সদস্য হতেন।
2) সভা ও সমিতি ছিল মূলত উপজাতীয় পরিষদ। সভা বলতে কখনো কখনো সভাকক্ষকে বোঝানো হত। অধ্যাপক কীথ সভাকে সভাকক্ষ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। জনগোষ্ঠীর অভিজাত ব্যক্তিরাই মূলত সভার সদস্য ছিলেন বা হতে পারতেন ।
![]() |
| সভা ও সমিতি |
3) সভা ও সমিতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সভায় সামাজিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজন এবং সেখানে পাশা খেলা হতো।
4) সভার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল এটি প্রবীণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একটি সমাবেশ। সভা উপজাতির প্রবীণ সদস্যদের নিয়ে গঠিত হত। অন্যদিকে সমিতি ছিল একটি সাধারণ সভা, জনগোষ্ঠীর প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সমাবেশ। সমিতির কাজ ছিল প্রধানত নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক ব্যবসা নিয়ে কাজ করে। রাজা সভা ও সমিতির সাহায্যে উপজাতির বিষয়গুলি দেখাশোনা করতেন।
5) ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার এর মতে, সভা ছিল মূলত স্থানীয় পরিষদ এবং সমিতি ছিল কেন্দ্রীয় পরিষদ। তবে সমিতির ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব ছিল সভার তুলনায় সর্বোচ্চ।
6) রাজা সমিতির নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকতে বাধ্য থাকতেন । প্রথমদিকে সমিতি সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ক্ষমতা ভোগ করত। ‘সমিতি’তে প্রতিনিধিত্ব করত বেশিরভাগ মানুষ।
7) প্রথম দিকে সভা উভয় সমাবেশকেই বোঝাত। মহিলারাও এই সমাবেশে যোগ দিতেন এবং তাদের বলা হয় সভাবতী। বিচারের ক্ষেত্রে ‘সভা’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত বলে মনে হয়।
8) সভা ও সমিতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সভাকে বিচারিক ও প্রশাসনিক কার্যাবলীর সাথে একটি নৃত্য ও জুয়ার সমাবেশ হিসাবে বলে অভিহিত করা হত । অন্যদিকে, সমিতি ছিল একটি লোকসভা যেখানে উপজাতির লোকেরা মূলত উপজাতীয় ব্যবসার জন্য একত্রিত হত।
9) রাজা সমিতির অধিবেশনে উপস্থিত থাকতেন। উপজাতীয় গোষ্ঠীর প্রায় সকলেই এতে সমবেত হত। সম্ভবত উপজাতীয় বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠান ছিল এই সংগঠনটি।
মূল্যায়নঃ
‘সভা’ ও ‘সমিতি’ এই দুটি উপজাতীয় পরিষদ কেবল যে রাজশক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখত কেবল তাই নয়, যেসব উপজাতিদের কোনো নির্বাচিত রাজা থাকত না সেই সমস্ত এলাকার বা গ্রামের শাসনকাজ পরিচালিত হত ‘সভা’ ও ‘সমিতি’র দ্বারা।



